শিশুকে দুধ খাওয়ানোর সময় চাচিকে কুপিয়ে হত্যা, ভাতিজা আটক জমি নিয়ে বিরোধে আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে হামলার অভিযোগ, গ্রেপ্তার ৩ লাখাইয়ে মসজিদ নির্মাণের কাজ করতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে শ্রমিকের মৃত্যু। নোয়াখালীতে যুবদল নেতার নামে পোস্টারিং, চেয়ারম্যান হলে গাঁজা-ইয়াবা ফ্রি দেবো সরকারের বিতরণকৃত বিনামূল্যের পাঠ্যবই আটকের ঘটনায় মধুপুরে গ্রেফতার-১, থানায় মামলা নোয়াখালী জেলা যুবলীগের সভাপতি ইমন ভট্র গ্রেপ্তার শ্যামনগরে কৃষিপ্রতিবেশবিদ্যা ও জলবায়ু ন্যায্যতা বিষয়ক প্রশিক্ষণ কর্মশালা সততার যোগ্যতায় অনন্য: বহুলীতে সর্বস্তরের মানুষের আস্থার প্রতীক জেলা বিএনপির উপদেষ্টা এস এম রঞ্জু ‎ পীরগাছায় মুজাহিদ কমিটি (চরমোনাই) ছেড়ে জামায়াতে যোগ দিলেন মোখলেছুর রহমান ‎ ‎রামপালের দ্বিতীয় ইউনিট বন্ধে তীব্র লোডশেডিংয়ে, ভারতীয় প্রকৌশলীর বিলম্বে অসন্তোষ আক্কেলপুরে চেয়ারম্যান প্রার্থী মতিউর রহমান মতু মোটরসাইকেল শোডাউন বিনিয়োগের জন্য বাংলাদেশ এখন স্থিতিশীল রাষ্ট্র: মাহদী আমিন ভেজাল সার মজুত, ব্যবসায়ীকে ১ মাসের কারাদণ্ড নতুন নামে যাত্রা শুরু করল র‍্যাব এশিয়ান গেমস উপলক্ষ্যে জাপান গমন করলেন সেনাবাহিনী প্রধান নওগাঁর নিয়ামতপুরে মাদকবিরোধী অভিযান : তিনজন আটক পলাশপোলে পথচারীকে আটকে টাকা আদায়ের অভিযোগ আদমদীঘিতে বাঁশঝাড়ে জুয়ার আসর থেকে ৪ জন গ্রেফতার আদমদীঘি শাঁওইল বিদ্যালয়ের শিক্ষকের অবসরজনিত বিদায় সংবর্ধনা শেরপুরের ঝিনাইগাতীতে মাদক সেবনের দায়ে ৩ জনের কারাদণ্ড

সাংবাদিক নাদিমের পরিবারে 'আনন্দের ঈদ' বইছে 'নিরানন্দে'

প্রতিটি ঈদের দিন যে বাড়িতে থাকতো উৎসবের আমেজ। এবার সেই বাড়ি শুনশান-নীরবতা। যে মানুষটি পরিবারের সবার খোঁজখবর নিতো। আজ সেই মানুষটির অনুপস্থিত। সবমিলিয়ে চারিদিকে বইছে যেনো শুধু 'নেই নেই হাহাকার'। একমাত্র অভিভাবকের হারানো শোক এখনও কাটিয়ে উঠতে পারেনি পরিবারটি। পরিবারের কর্তাকে হারিয়ে শোকে মূর্ছমান জামালপুরের বকশীগঞ্জে হত্যাকাণ্ডে শিকার সাংবাদিক গোলাম রব্বানী নাদিমের পরিবারে এবার আনন্দের কোরবানি ঈদ কেটে গেলো নিভৃতে 'নিরানন্দে'।

গণমাধ্যমে খবর প্রকাশকে কেন্দ্র করে গত ১৪ জুন রাতে পেশাগত কাজ শেষে বাড়ি ফেরার পথে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের কতিপয় দুর্বৃত্তের হামলায় গুরুতর আহত হন সাংবাদিক নাদিম। পরদিন ১৫ জুন দুপুরে ময়মনসিংহ জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়।
তিনি উপজেলার নীলাখিয়া ইউনিয়নের গোমেরচর গ্রামের অবসরপ্রাপ্ত বিডিআর সদস্য আব্দুল করিমের ছেলে। বাংলানিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের জামালপুর জেলা প্রতিনিধিসহ একাত্তর টেলিভিশন ও মানবজমিন পত্রিকার বকশীগঞ্জ সংবাদদাতা হিসেবে তিনি কর্মরত ছিলেন।

সাংবাদিক নাদিমের মেয়ে রাব্বিলাতুল জান্নাত অনার্স প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী। ডিগ্রিতে পড়ছেন বড় আব্দুল্লাহ আল মামুন রিফাত এবং ছোট ছেলে রিশাদ আব্দুল্লাহ পড়েন প্রথম শ্রেণিতে।

বাবাকে ছাড়া প্রথম ঈদ কোনো ভাবেই মানতে পারছে না নাদিমের তিন সন্তান। তাদের মনের দরজায় শেষ ঈদের স্মৃতিগুলো কড়া নাড়ছে বারংবার।

ঘটনার আগের দিন ১৪ জুন মেয়ে রাব্বীলাতুল জান্নাতকে কলেজে ভর্তি ও আদালতে মামলার খোঁজখবর নিতে ময়মনসিংহে গিয়েছিলেন সাংবাদিক নাদিম। ওই দিন সারা দিন বাবার সঙ্গে ছিলেন জান্নাত। পরের দিন ১৫ জুন তিনি চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। বাবার সঙ্গে কাটানো সময়ের কথা মনে করে অনবরত কাঁদছেন তিনি। কারও সান্ত্বনা সেই কান্না থামাতে পারছে না।

রাব্বিলাতুল জান্নাত (১৯) বলেন, ‘বাবা মারা যাওয়ার আগের দিন একসঙ্গে ময়মনসিংহে গিয়েছিলাম। বাবা ঢাকায় নিয়ে ঈদের শপিং করে দিতে চেয়েছিলেন। কিন্তু বাবা তো এখন আর নেই। তাই আমাদের আবার কীসের ঈদ? আমাদের তিন ভাইবোনের মধ্যে বাবা আমাকে সবচেয়ে বেশি আদর করতেন। আমি যখন যা চেয়েছি, বাবা দিয়েছেন। আমার ইচ্ছাপূরণের আর কেউ রইল না। বাবাই ছিল আমার জীবনের সবকিছু। আর সেই বাবাকে তারা নির্মমভাবে হত্যা করল।’

ছেলে আব্দুল্লাহ আল মামুন রিফাত (১৮) বলেন, ‘গতবার ঈদে বাবার সঙ্গে গরু কিনেছি, কোরবানি দিয়েছি। ঈদের জামা-কাপড় কিনেছি। কিন্তু এবার ঈদে বাবা নেই। আমরা কিছুই করতে পারছি না। কোনো নতুন জামা-কাপড় কিছুই কিনতে পারছি না। আমরা অসহায়। আমাদের ঈদের আনন্দ নেই।’

নাদিমের মৃত্যুর পর গত ১৭ জুন বকশীগঞ্জ থানায়
সাধুরপাড়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও ইউপি চেয়ারম্যান মাহমুদুল আলম বাবুসহ ২২ জন এবং অজ্ঞাতনামা ২০ থেকে ২৫ জনের নামে হত্যা মামলা দায়ের করেন তার স্ত্রী মনিরা বেগম। এ ঘটনার মুল অভিযুক্ত ইউপি চেয়ারম্যান বাবুসহ ১৩ আসামী কারাগারে। এদের মধ্যে মাহমুদুলসহ তিনজন হত্যার দায় স্বীকার করে আদালতে জবানবন্দি দিয়েছেন। তবে ইউপি চেয়ারম্যান বাবুর ছেলে রিফাতসহ মামলার বেশিরভাগ আসামী এখনও গ্রেপ্তার না হওয়ায় ক্ষুব্ধ সাংবাদিকের সজনরা।

সাংবাদিক নাদিমের স্বজনদের অভিযোগ, ইউপি চেয়ারম্যান বাবুর পরিবারের সদস্যরা টাকা দিয়ে পলাতক আসামীদের সহযোগীতা করছেন। তার স্ত্রী মনিরা বেগম বলেন, ‘বাবু চেয়ারম্যান, তার বউ, তার ছেলের যে একাউন্টগুলো আছে, ব্যাংক ব্যালেন্স আছে সেগুলো জব্দ করা হোক। তারা ব্যাংক থেকে টাকা লেনদেন করছে। তারা, বাকি আসামী যারা আছে সবাই ঈদ করতে পারছে আর আমার স্বামী কবরে শুয়ে।
সাংবাদিক নাদিম গত কোরবানির ঈদে নিজে গরু কিনেছিলেন। তিনি সবাইকে নিয়ে একসঙ্গে গ্রামের বাড়িতে ঈদ করতেন। নাদিমের স্ত্রী মনিরা বেগম কল্পনাও করেননি, সন্ত্রাসীদের হাতে তাঁর স্বামীর প্রাণ যাবে। মারা যাওয়ার কয়েক দিন আগেও নাদিম স্ত্রী-সন্তানকে ঢাকায় নিয়ে ঈদের বাজার করার কথা বলেছিলেন। মনিরা বেগম বলেন, ‘মৃত্যুর কয়েক দিন আগেও বলেছিল, এবার ঈদে সবাইকে নিয়ে ঢাকায় গিয়ে ঈদের মার্কেট করবেন। কিন্তু কে জানত, তাঁর এভাবে মরতে হবে। যাঁরা আমার স্বামীকে হত্যা করেছে, এখন শুধু তাদের সর্বোচ্চ শাস্তি ফাঁসি দেখতে চাই। বাবু চেয়ারম্যান, তার বউ, তার ছেলের যে একাউন্টগুলো আছে, ব্যাংক ব্যালেন্স আছে সেগুলো জব্দ করা হোক। হত্যাকারীদের শাস্তি হলে আমার স্বামীর আত্মা শান্তি পাবে। আর কিছু চাওয়ার নেই।’

নাদিমের মা আলেয়া বেগম বলেন, ‘এখন আমার আকুল আবেদন যাতে দ্রুত বাকি আসামীরা গ্রেপ্তার হয় এবং দ্রুত আমার ছেলে হত্যার বিচার চাই।'

নাদিমের মামা বাবুল মিয়া বলেন, ‘১২ দিন আগে শেষ আসামী গ্রেপ্তার হওয়ার পর আজ পর্যন্ত আর একটা আসামিও গ্রেপ্তার হলো না। আমি আইন প্রয়োগকারী সংস্থার কাছে আকুল আবেদন জানাই, বাকিদেরও গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনা হোক এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেয়া হোক।’




আরও খবর