সংবাদ সম্মেলনে বিএনপি নেতার অভিযোগ 'শত্রুতার জেরে ছেলে-মেয়েকে স্বর্ণ চুরির মামলায় হয়রানি করা হচ্ছে' মিরসরাইয়ে পাহাড়ধসে সন্তানহারা পরিবারের পাশে বিএনপি নেতা ফজলুল মুরাদ, স্থাপন করলেন নলকূপ প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন বিএনপি সরকার সারাদেশে ধর্মীয় সম্প্রীতি রক্ষায় বদ্ধপরিকর-নুরুল আমিন এমপি রাজনৈতিক পরিচয়ে লুটপাট, সম্পদ দখল করতেই রতনকে হত্যা: কর্নেল বাতেন আদমদীঘিতে মাদক বেচা-কেনার অভিযোগ: হিজরাপট্টিতে এলাকাবাসীর অগ্নিসংযোগ আদমদীঘিতে বিএনপি নেতা মেম্বার প্রার্থীর পূজামন্ডপে আর্থিক সহায়তা ও গেঞ্জি বিতরণ আসন্ন ইউপি নির্বাচন ঘিরে কৃষ্ণনগরে জি এম রবিউল্যাহ বাহারের কর্মী সমাবেশ, ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান নোয়াখালীতে অটোরিকশা চালকের রহস্যজনক মৃত্যু শেরপুরের শ্রীবরদীতে খাল থেকে ড্রামে নারীর মরদেহ উদ্ধার, পরিচয় শনাক্ত শ্যামনগরে আদিবাসী জনগোষ্ঠীর অধিকার সুরক্ষায় জেলা প্রশাসকের সাথে মতবিনিময় প্রটোকল ভেঙে জনগণের সঙ্গে মিশলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান কচুয়ায় সাচারে শ্রী শ্রী শারদীয় দূর্গা পূজার মন্ডপে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সাথে শিক্ষামন্ত্রীর শুভেচ্ছা বিনিময় ও মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত জয়পুরহাটে জাতীয় নিরাপদ সড়ক দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভা ও বর্ণাঢ্য র‍্যালি রাজশাহী কাটাখালী থানা পুলিশের বিশেষ অভিযানে ৩৭০০ ট্যাপেন্টাডল ও ১.৩০ কেজি গাঁজা উদ্ধার, গ্রেপ্তার ২ নগদ ১১ লাখ ৬৭ হাজার ১৭০ টাকা ও মোবাইল ফোন জব্দ শ্যামনগরের দ্বীপ ইউপি গাবুরায় মেগা প্রকল্প পরিদর্শনে জেলা প্রশাসক কাউসার আজিজ মানবিক উদ্যোগে শেরপুরবাসীর আস্থা অর্জনে এগিয়ে জেলা প্রশাসক ফরিদা ইয়াসমিন লালপুরে মাজার ও মসজিদে চুরি মোংলা বন্দরের উন্নয়নে প্রধানমন্ত্রীর সফর, বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থানে প্রত্যাশা ঢাকার সড়কে শৃঙ্খলা ফেরাতে ৪ উদ্যোগ সরকারের সাজেকে আবারও অনির্দিষ্টকালের সড়ক অবরোধের ঘোষণা

‎সুন্দরবনে পর্যটক অপহরণের মূল হোতা অস্ত্রসহ গ্রেপ্তার

ছবি সংগৃহীত

‎মোংলা প্রতিনিধিঃ

‎

‎সুন্দরবনে পর্যটক অপহরণের মূল হোতা মাসুম মৃধাকে (২৩) অস্ত্রসহ গ্রেপ্তার করেছে কোস্টগার্ড। বুধবার (৭ জানুয়ারি) রাতে সুন্দরবন সংলগ্ন ধানখালী এলাকা হতে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় তার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী সুন্দরবনের গাজী ফিশারিজ সংলগ্ন এলাকায় তল্লাশি চালিয়ে তিনটি দেশীয় ওয়ান শুটার পাইপগান, আট রাউন্ড তাজা কার্তুজ, চার রাউন্ড ফাঁকা কার্তুজ, একটি চাইনিজ কুড়াল, দুটি দেশীয় কুড়াল, একটি দা, একটি স্টিল পাইপ ও মাদক সেবনের সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়।

‎

‎এছাড়াও জিম্মি পর্যটকদের পাঁচটি মোবাইল ফোন এবং একটি হাতঘড়িও উদ্ধার করা হয়।

‎

‎গ্রেপ্তারকৃত ডাকাত এবং জব্দ আলামত পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে বলে জানান কোস্টগার্ড পশ্চিম জোনের অপারেশন কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার আবরার হাসান।

‎

‎তিনি জানিয়েছেন, ‘সুন্দরবন বিশ্বের সর্ববৃহৎ ম্যানগ্রোভ বন। বাংলাদেশের প্রাকৃতিক ভারসাম্য রক্ষা, জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবেলা, উপকূলীয় জনগোষ্ঠীর জীবিকা এবং পর্যটন শিল্পের বিকাশে সুন্দরবন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। এছাড়াও জলোচ্ছ্বাস এবং ঘূর্ণিঝড়ের মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগে সুন্দরবনকে প্রাকৃতিক ঢাল হিসেবে বিবেচনা করা হয়।

‎

‎তিনি আরো বলেন, ‘দীর্ঘদিন ধরে সুন্দরবনে কয়েকটি ডাকাত দল বনজ সম্পদ লুণ্ঠন, জেলে ও বনজীবীদের অপহরণসহ নানাবিধ অপরাধমূলক কার্যক্রম করে আসছে। ডাকাত চক্র সমুহের কর্মকাণ্ডে পর্যটন শিল্প, বাস্তুসংস্থান এবং স্থানীয় জনগণের নিরাপত্তার ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়ে। কোস্ট গার্ড তার দায়িত্বের অংশ হিসেবে সূচনালগ্ন থেকে ডাকাতের বিরুদ্ধে অপারেশন পরিচালনা করে আসছে।’

‎

‎জানা যায়, গত ২ জানুয়ারি সুন্দরবনের গোলকানন রিসোর্ট হতে কানুরখাল সংলগ্ন এলাকায় কাঠের বোটযোগে ভ্রমণকালে ডাকাত মাসুম বাহিনী দুজন পর্যটকসহ গোলকানন রিসোর্টের মালিককে জিম্মি করে মুক্তিপণ দাবি করে।

‎

‎রিসোর্ট কর্তৃপক্ষ বিষয়টি কোস্ট গার্ডকে অবগত করলে কোস্ট গার্ড যৌথ অভিযান পরিচালনা করে। গোয়েন্দা তথ্য, ড্রোন নজরদারি ও ফিনান্সিয়াল ট্রেসিং ব্যবহার করে টানা ৪৮ ঘণ্টা অভিযানের পর জিম্মিকৃত পর্যটক ও রিসোর্ট মালিককে নিরাপদে উদ্ধার করা হয়।

‎এ সময় ডাকাত চক্রের সদস্য কুদ্দুস হাওলাদার (৪৩), মো. সালাম বক্স (২৪), মেহেদী হাসান (১৯), আলম মাতব্বর (৩৮), অয়ন কুন্ডু (৩০), মো. ইফাজ ফকির (২৫), জয়নবী বিবি (৫৫) এবং মোছা দৃধা (৫৫)-কে সুন্দরবন, দাকোপ এবং খুলনার বিভিন্ন এলাকা থেকে আটক করে দাকোপ থানায় হস্তান্তর করা হয়।

‎

‎কোস্ট গার্ড গত এক বছরে সুন্দরবনে ডাকাত ও জলদস্যু বিরোধী অভিযান পরিচালনা করে মোট ৩৮টি আগ্নেয়াস্ত্র, ২টি হাতবোমা, ৭৪টি দেশীয় অস্ত্র, অস্ত্র তৈরির বিপুল সরঞ্জামাদি, ৪৪৮ রাউন্ড কার্তুজ এবং জিম্মি থাকা ৫২ জন নারী ও পুরুষকে উদ্ধার করে। এসব অভিযানে মোট ৪৯ জন সক্রিয় ডাকাতকে আটক করে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করে।

‎

‎কোস্ট গার্ডের ধারাবাহিক অভিযানের মাধ্যমে আছাবুর বাহিনী, হান্নান বাহিনী, আনারুল বাহিনী, মঞ্জু বাহিনী এবং রাঙ্গা বাহিনীকি সম্পূর্ণরূপে নিষ্ক্রিয় করা সম্ভব হয়েছে। এছাড়াও, অস্ত্র ও গোলাবারুদসহ একাধিক ডাকাত সহযোগী আটক করায় ছোট সুমন বাহিনী, ছোটন বাহিনী এবং কাজল মুন্না বাহিনী ক্রমশ কোনঠাসা হয়ে পড়েছে। পাশাপাশি বর্তমানে সক্রিয় করিম শরিফ বাহিনী, জাহাঙ্গীর বাহিনী ও দয়াল বাহিনীকে দমনে কোস্ট গার্ড টহল এবং গোয়েন্দা নজরদারি বৃদ্ধি করেছে।

‎

‎কোস্টগার্ড কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার আবরার হাসান বলেন, ‘বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড সুন্দরবনের সার্বিক নিরাপত্তা, বনজ সম্পদ সংরক্ষণ, জেলে ও বনজীবীদের নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিতকরণ এবং পর্যটনবান্ধব পরিবেশ বজায় রাখতে ভবিষ্যতেও নিয়মিত ও বিশেষ অভিযান পরিচালনা অব্যাহত রাখবে।’

‎

আরও খবর