শিগগিরই আরব সাগর থেকে শত্রুদের হটিয়ে দেওয়া হবে: মোজতবা খামেনি সৌদি আরবে দক্ষ জনশক্তি রপ্তানি ও বিদ্যমান সম্ভাবনা কাজে লাগানোর আহ্বান রাষ্ট্রপতির কমলগঞ্জে অভয় চরণ উচ্চ বিদ্যালয়ে সততা স্টোরের উদ্বোধন ও শিক্ষা উপকরণ বিতরণ গ্রামাঞ্চলে ইটের বদলে পরিবেশবান্ধব ব্লক ব্যবহারের করতে হবেঃবন ও পরিবেশ মন্ত্রী দেশীয় প্রযুক্তিতে নৌবাহিনীর নির্মিত টাগবোট ‘টিয়াখালী-৪’ লঞ্চিং: জাহাজ নির্মাণ শিল্পে নতুন মাইলফলক ‎ বাঘায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে প্রতিপক্ষের গুলিতে একজন গুলিবিদ্ধ শার্শায় সন্ত্রাস ও ষড়যন্ত্রের প্রতিবাদে বাগআঁচড়ায় বিএনপির বিক্ষোভ ঈশ্বরগঞ্জে নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের কর্মী গ্রেফতার পবিপ্রবির বরিশাল ক্যাম্পাসে বিশ্ব জলাতঙ্ক দিবস -২০২৬ পালিত রায়পুরে বাড়ির রাস্তা বন্ধের চেষ্টা, আদালতের গ্রেপ্তারি পরোয়ানা শেরপুরে ‘আনসাং ওমেন নেশন বিল্ডার্স অ্যাওয়ার্ড’ বিজয়ী সমাজকর্মী রাজিয়া সামাদকে সংবর্ধনা বেগমগঞ্জে ব্যবসায়ী গুলিবিদ্ধ হওয়ার ঘটনায় ১ আসামী গ্রেপ্তার শেরপুরে আন্তর্জাতিক তথ্য অধিকার দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভা তেলের ধাক্কায় বাড়ছে কৃষি উৎপাদন খরচ বিঘাপ্রতি ব্যয় বেড়েছে, ফসলের ন্যায্য দাম নিয়ে শঙ্কায় গোয়ালন্দের কৃষক গোয়ালন্দে মাদক নির্মূলে অভিভাবক সমাবেশ শিক্ষার্থীদের প্রতি অভিভাবকদের দায়িত্বশীল হওয়ার আহ্বান শ্যামনগরে আন্তর্জাতিক তথ্য অধিকার দিবস পালিত। শ্যামনগরে আন্তর্জাতিক তথ্য অধিকার দিবস পালিত। সাতক্ষীরায় ‎আশাশুনিতে ভাঙনের মুখে বেড়িবাঁধ : ‎হাজার বিঘার মৎস্যঘের ও ঘরবাড়ি নদীগর্ভে ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা রূপালী ব্যাংকের গোপীনাথপুর শাখার নতুন ভবনের উদ্বোধন ইসলামপুর উপজেলা কৃষকদলের সভাপতির বিরুদ্ধে বিক্ষোভ মিছিল, সংবাদ সম্মেলন ডেকে বিএনপির প্রতিবাদ

কক্সবাজারে প্রতিদিন ধরা পড়ছে ৫০০ টন মাছ, অর্ধেকের বেশিই ইলিশ

বৈরী আবহাওয়া ও নিষেধাজ্ঞা শেষে কক্সবাজারের জেলেরা এখন স্বস্তিতে। সাগর থেকে ট্রলার বোঝাই করে ইলিশ আর হরেক রকমের মাছ নিয়ে ঘাটে ফিরছেন তারা। আর ক্রেতা-বিক্রেতার হাঁকডাকে মুখরিত হয়ে উঠেছে জেলার প্রতিটি মৎস্য অবতরণ কেন্দ্র। শুধু ইলিশই নয়; ছোট বড় সব ট্রলারে ধরা পড়েছে বিভিন্ন প্রজাতির মাছ। সরকারি নিষেধাজ্ঞা আর বৈরী আবহাওয়ায় সাগরে না যাওয়ায় সমুদ্রে ইলিশসহ অন্যান্য মাছের উৎপাদন বেড়েছে বলে মনে করছেন গবেষকরা। বৃহস্পতিবার (১৭ আগস্ট) সকালে কক্সবাজারের ফিশারি ঘাট, টেকনাফ শামলপুর ঘাটসহ কয়েকটি মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রে দেখা যায়, ট্রলার ভর্তি মাছ নিয়ে ঘাটে ফিরছেন জেলেরা। বেশি মাছ ধরা পড়ায় দামও একটু কমেছে। একটি মাঝারি সাইজের ১কেজি ওজনের ইলিশের দাম ১৩০০ টাকা করে কেনা-বেচা হচ্ছে। তবে কয়েকদিন আগে সেই একই সাইজের মাছের দাম ছিলো দ্বিগুণ।


কক্সবাজার ফিশারি ঘাটের ব্যবসায়ী জাকির হোসেন বলেন, ‘গত কয়কেদিনের চেয়ে আজকে অনেক বেশি মাছ পড়েছে। বেশি মাছ পড়ায় দামও একটু কমেছে। ১ কেজি ওজনের একটি ইলিশের দাম ১৩০০ টাকা চলছে। যা কিছুদিন আগেও ২০০০ টাকার উপরে ছিলো।’ ব্যবসায়ী জসিম উদ্দিন বলেন, ‘অনেক বেশি মাছ পড়েছে। প্রতিটি ট্রলার ১৫ থেকে ২০ লাখ টাকা করে মাছ বিক্রি করছে আজকে। কোনো ট্রলার খালি আসছে না। সব ট্রলারে মাছ পড়ায় দাম কিছুটা কমেছে। আমি এবং আমার শেয়ার হোল্ডাররা মিলে দেড় কোটি টাকার ইলিশ কিনেছি। এদিকে মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রগুলোতে ট্রলার থেকে মাছ নামিয়ে বেচা-কেনার পর মাছগুলো বরফের সঙ্গে ককশিট ও ঝুড়ি ভর্তি করে পরিবহনযোগে দেশের নানা প্রান্তরে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। ব্যবসায়ী শাহেদুল ইসলাম শহিদ বলেন, ‘আমরা এক ট্রাক মাছ কিনেছি। যেখানে ৩৪০টি ইলিশের ককশিটের বক্স রয়েছে। এসব মাছ ঢাকা, যাত্রাবাড়ি, কাওরান বাজার, আব্দুল্লাহ পুর, ফরিদপুর, মাওয়া এবং রাজশাহীসহ নানা জায়গায় যাবে।’ ইলিশ ছাড়াও কক্সবাজারের প্রতিটি নৌঘাট অন্যান্য প্রজাতির মাছে সয়লাব হয়েছে। লইট্যা, ফাইস্যা, চাপিলা, পোয়া মাছসহ বিভিন্ন ধরনের মাছ বোঝাই করে সাগর থেকে ফিরছেন জেলেরা। টেকনাফের শামলাপুর ঘাটে গিয়ে দেখা যায়, জেলেরা কূলে এসে জাল থেকে মাছ আলাদা করছেন। এ ঘাটে বেশির ভাগ চাপিলা মাছ ধরা পড়েছে। মাছগুলো প্রতি মণ ৫০০০ টাকা বিক্রি করছেন জেলেরা। পরে সেগুলো বাজারে তুলে খুচরা বিক্রি করছেন ব্যবসায়ীরা। তবে এগুলো ককশিট ও ঝুড়ি ভর্তি করে অনেক ব্যবসায়ী দেশের বিভিন্ন জায়গায় পাঠিয়ে দিচ্ছেন। শামলাপুর ঘাটের নৌকা মালিক সমিতির সভাপতি বেলাল উদ্দিন বলেন, ‘দীর্ঘদিন নিষেধাজ্ঞার পরে জেলেরা অনেক আশা নিয়ে সাগরে যায়। আল্লাহ সকলের আশা পূরণ করেছেন। কোনো নৌকা খালি আসেনি। অন্যান্য দিনের তুলনায় অনেক বেশি মাছ নিয়ে ঘাটে ভিড়েছেন জেলেরা। মাছ বেশি পড়ায় দামও কমেছে। এতে ক্রেতারাও খুশি।’


শামলাপুর বাজারে মাছ কিনতে আশা মমতাজ উদ্দিন বলেন, ‘আজকে দাম একটু কমেছে। চাপিলা মাছ কিনেছি কেজি প্রতি ১৩০ টাকা করে। অন্যদিন সেই মাছ ১৮০ টাকায় কিনতে হতো। লইট্যা কিনেছি ১০০ টাকা। যা এক সপ্তাহ আগেও ২৫০ টাকা কিনেছি। মাছ পড়লে আমাদের জন্য ভালো হয়। কম দামে বিভিন্ন ধরণের মাছ কিনতে পারি।’ এদিকে ট্রলার ভর্তি মাছ ধরা পড়ায় হাসি ফুটেছে জেলেদের মুখে। তারা বলছেন, সাগরে ৬৫ দিনের নিষেধাজ্ঞা থাকার কারণে সেখানে ইলিশসহ সব ধরনের মাছ বেড়েছে। এভাবে মাছ পড়লে এবং দাম ভালো থাকলে আমাদের ঘরের অভাব দূর হবে। জেলে দলিলুর রহমান বলেন, ‘এই পেশা ছাড়া আমাদের আর কোনো পেশা নেই। মাছ পড়লে পেটে ভাট না পড়লে মাথায় হাত। যখন মাছ পড়ে না তখন ঋণ করে সংসার চালাতে হয়। আবার মাছ বেশি পড়লে সেই ঋণ পরিশোধ করে সংসারের অভাব কিছুটা দূর করা যায়। এভাবে মাছ পড়তে থাকলে ইনশা’আল্লাহ্ অভাব থাকবে না ঘরে। আজ মাছ বিক্রির পর আবার রওনা দেবো সাগরে।’ কক্সবাজার জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. বদরুজ্জামান বলেন, ‘দীর্ঘদিন সাগরে মাছ ধরা বন্ধ থাকা এবং নিম্নচাপের কারণে জেলেরা সাগরে মাছ ধরতে যেতে পারেনি। এসময় সাগরে ইলিশসহ বিভিন্ন প্রজাতির মাছের উৎপাদন বেড়েছে এবং মাছের সাইজও বড় হয়েছে। তাই দীর্ঘ বিরতির পর সাগরে যখন জেলেরা মাছ আহরণে যান তখন ট্রলার ভর্তি মাছ নিয়ে ঘাটে ফিরতে পারছেন।’ তিনি আরও বলেন, ‘কক্সবাজার জেলায় প্রতিদিন ৫০০ টনের মতো মাছ ধরা পড়ছে। তন্মধ্যে ৬০ শতাংশই ইলিশ।

Tag
আরও খবর