পোশাক খাতের অস্থিরতা নিয়ে জরুরি বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নবীনগরে মামার বাড়িতে বেড়াতে এসে কিশোরের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার জাতীয় যুব দিবস উপলক্ষে শেরপুরে র‍্যালি, আলোচনা সভা ও যুব ঋণ বিতরণ নওগাঁর নিয়ামতপুরে জাতীয় যুব দিবস উপলক্ষে ঋণের চেক ও সনদপত্র বিতরণ মিরসরাইয়ে জাতীয় যুব দিবসে শ্রেষ্ঠ যুব সংগঠকের সম্মাননা পেলেন গোলাম মর্তুজা জাতীয় যুব দিবসে মিরসরাইয়ের ফয়সাল আলম পেলেন শ্রেষ্ঠ উদ্যোক্তার সম্মাননা ইসলামপুরে যমুনা নদীতে পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় এক আসামিকে আটক করেছে পুলিশ পীরগাছায় জাতীয় যুব দিবস উদযাপন, যুব ঋণ বিতরণ র‌্যালি, আলোচনা সভা জয়পুরহাটে এসআরবির অভিযানে ইয়াবা ও টাপেন্টাডলসহ মাদক ব্যবসায়ী মিলন গ্রেপ্তার শেরপুরের ঝিনাইগাতীতে জাতীয় যুব দিবস উদযাপন ঝিনাইগাতীতে কারিতাস ও উপজেলা প্রশাসনের সমন্বয়ে জাতীয় যুব দিবস পালিত রাজবাড়ীর গোয়ালন্দে জাতীয় যুব দিবস পালিত মাদক, বাল্যবিবাহ ও নারী নির্যাতন প্রতিরোধে রাজবাড়ীতে উঠান বৈঠক ও সমাবেশ উলিপুরে জাতীয় যুব দিবস পালিত জাতীয় যুব দিবস উপলক্ষে শান্তিগঞ্জে র‍্যালি ও আলোচনা সভা দক্ষ যুবশক্তির প্রত্যাশায় কুলিয়ারচরে জাতীয় যুব দিবস উদযাপিত সারাদেশে দ্বিতীয়! জাতীয় যুব পুরস্কার-২০২৬ অর্জন করলেন লালপুরের রায়হান হ্যালোইন লুকে নজর কাড়লেন অপু বিশ্বাস পোশাক শ্রমিকদের অবরোধে অচল মিরপুর শহরের সৌন্দর্য রক্ষায় নিজের ব্যানার-ফেস্টুন নিজেই অপসারণ করলেন মেয়র প্রার্থী উজ্জল প্রধান

সুন্দরবনের ত্রাস জোনাব বাহিনীর তিন সদস্য অস্ত্রসহ আটক: কোস্ট গার্ডের বিশেষ অভিযানে বড় সাফল্য ‎

ছবি সংগৃহীত

মোংলা প্রতিনিধিঃ


‎সুন্দরবনের কুখ্যাত জোনাব বাহিনীর তিন সক্রিয় সদস্যকে অস্ত্র ও গোলাবারুদসহ আটক করেছে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড, যা এই অঞ্চলে দস্যু নির্মূল অভিযানের একটি বড় মাইলফলক।

‎সুন্দরবনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং দীর্ঘদিনের দস্যুতার অবসান ঘটাতে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডের পরিচালিত বিশেষ অভিযানে কুখ্যাত জোনাব বাহিনীর তিন সদস্যকে আটক করা হয়েছে। গত ৯ জুন ২০২৬ মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৬টায় সাতক্ষীরার শ্যামনগর থানাধীন কালিঞ্চি সুইচগেইট সংলগ্ন এলাকায় কোস্ট গার্ড স্টেশন কৈখালীর একটি বিশেষ দল গোপন সংবাদের ভিত্তিতে এই অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানে আটককৃতদের মধ্যে রয়েছেন আজিবার গাজী (৪৭), রবিউল গাজী (৪৪) এবং ফারুক হোসেন (৩৬), যারা সকলেই শ্যামনগর থানার স্থানীয় বাসিন্দা। তাদের আটকের পর জিজ্ঞাসাবাদে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে একই দিন রাত ১১টায় হরিণটানা খাল সংলগ্ন এলাকা থেকে একটি একনলা বন্দুক ও দুই রাউন্ড তাজা কার্তুজ উদ্ধার করা হয়। সরকারের নির্দেশনায় সুন্দরবনকে দস্যুমুক্ত করতে চলমান অপারেশন রিস্টোর পিস ইন সুন্দরবন এবং অপারেশন ম্যানগ্রোভ শিল্ডের আওতায় এই সফল অভিযানটি পরিচালিত হয়।

‎

‎দীর্ঘদিন ধরে জোনাব বাহিনীর সক্রিয় সদস্য হিসেবে এই অপরাধীরা সুন্দরবনের জেলে ও বাওয়ালিদের জিম্মি করে মুক্তিপণ আদায় এবং সশস্ত্র ডাকাতির মতো অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড চালিয়ে আসছিল। স্থানীয় ভুক্তভোগী ও মৎস্যজীবীদের অভিযোগ অনুযায়ী, এই বাহিনীর সদস্যরা সশস্ত্র অবস্থায় বনজ সম্পদ আহরণকারীদের ওপর নিয়মিত চাঁদাবাজি ও শারীরিক নির্যাতন করত, যা উপকূলীয় জনজীবনের স্বাভাবিক ছন্দকে ব্যাহত করে রেখেছিল। আটককৃতরা মূলত দুর্গম বনভূমিকে নিরাপদ আশ্রয়স্থল হিসেবে ব্যবহার করে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নজর এড়িয়ে নিজেদের অপরাধ সাম্রাজ্য পরিচালনা করত। তাদের এই কর্মকাণ্ডের ফলে সুন্দরবন সংলগ্ন হাজার হাজার মানুষের জীবন-জীবিকা চরম ঝুঁকির মুখে পড়েছিল এবং স্থানীয় ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের মধ্যে এক ধরনের আতঙ্ক বিরাজ করছিল যা তাদের অর্থনৈতিক অবস্থাকে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে।

‎

‎কোস্ট গার্ডের মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন জানান, আটককৃতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে এবং তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে এই বাহিনীর অন্যান্য সদস্যদের ধরতে গোয়েন্দা তৎপরতা আরও জোরদার করা হয়েছে। অভিযানের সাফল্যকে প্রশ্নবিদ্ধ করার জন্য কিছু স্বার্থান্বেষী মহল ও অসাধু চক্র বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানোর চেষ্টা করছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। তবে কোস্ট গার্ডের পক্ষ থেকে স্পষ্ট করা হয়েছে যে, কোনো প্রকার অপপ্রচার বা ভিত্তিহীন তথ্য তাদের দস্যু দমন কার্যক্রমকে বাধাগ্রস্ত করতে পারবে না। সুন্দরবনকে সম্পূর্ণরূপে দস্যুমুক্ত ও নিরাপদ পর্যটন ও কর্মক্ষেত্র হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে বাহিনীর নিয়মিত টহল ও নজরদারি অব্যাহত থাকবে বলে তিনি আশ্বস্ত করেন।

‎

‎সুন্দরবনের মতো সংবেদনশীল এলাকায় এ ধরনের অভিযানের ধারাবাহিকতা সাধারণ মানুষের মধ্যে কিছুটা স্বস্তি ফিরিয়ে আনলেও অপরাধী চক্রের নেটওয়ার্ক পুরোপুরি নির্মূল না হওয়া পর্যন্ত স্থায়ী নিরাপত্তা নিশ্চিত করা চ্যালেঞ্জিং। জোনাব বাহিনীর মতো সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর মূল উৎস এবং তাদের অর্থায়নকারী চক্রগুলোকে চিহ্নিত করতে পারলে এই অঞ্চলে স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠিত হবে। কোস্ট গার্ডের এই কঠোর অবস্থান ভবিষ্যতে সুন্দরবনের পরিবেশ এবং বনজীবী মানুষের জানমালের নিরাপত্তায় একটি ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে আইন প্রয়োগকারী সংস্থার পাশাপাশি স্থানীয় প্রশাসনের কঠোর তদারকি এবং গোয়েন্দা তথ্যের সঠিক আদান-প্রদানই পারে সুন্দরবনকে দস্যুতার অভিশাপ থেকে স্থায়ীভাবে মুক্ত রাখতে।

‎

‎

আরও খবর