দাদার বাড়ি মধ্যম মুরাদপুর দ্বার বক্শ ভুঁইয়া বাড়ি এবং নানার বাড়ি মিঠাছড়া কাদির বক্স ভুঁইয়া বাড়ি।। মীরসরাই উপজেলার দুটো ঐতিহ্যশালী বাড়ি। উক্ত সুত্রে মীরসরাইতে সব ভুঁইয়া বাড়িতে আমাদের কম/বেশী আত্মীয়তা আছে। স্মরণিকা ”কাদির বক্স ভুঁইয়া বাড়ি পূনর্মিলনী ২০১০ ”এ অধ্যাপক আহমদ কবির ( বাংলা বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়) ”দশ ঘর এক উঠান” শিরোনামে উক্ত বাড়ির পরিচিতিমুলক প্রবন্ধে লিখেছেন : বাড়ি নিয়ে বাংলা উপন্যাসটির নাম ” দশ ঘর এক উঠান ” । আমাদের বাড়িটি, যার নাম কাদির বক্স ভুঁইয়া বাড়ি, একটি উপন্যাস , বলা যায় মহাকাব্যিক উপন্যাস- বংশ পরস্পরায় বহুদিনের বহু মানুষের ইতিহাস, ইতিবৃত্ত, ঘটনা , কাহিনী, কথকতা ও বৃত্তান্তে বিস্তৃত এবং ধনেজনে মানবসম্পদে ভরপুর একটি অতি প্রাচীন, অভিজাতমন্ডিত ঐতিহ্যবাহী বনেদী বাড়ি, লেখাপড়ায় প্রাগ্রসর , আকারে প্রকারে সুবৃহৎ বহু গাছ গাছািিল- বৃক্ষ শোভিত নিবিড় কানন কুঞ্ছময় , একাধিক সরোবর সমৃদ্ধ , তিনদিকে পরিখা বেষ্টিত , মীরসরাই থানার মধ্যে একেবারেই অনন্য এবং স্বতন্ত্রও - - -- --- - - । আম্মা বাড়ির বোনদের মধ্যে সবার বড়।আমাদের সৌভাগ্য ,আম্মা বড় মেয়ে হওয়ায় নানা- নানীদের প্রজম্মতো দেখেছি, বাড়তি সুযোগ নানার বাবা / চাচা-চাচীদের অনেককেই দেখেছি এবং তাদের আদর যতœ পেয়েছি। আম্মা বছরে ১/২ বার নানার বাড়িতে বেড়াতে ( নায়ুর) যেতেন, সাথে আমরাও যেতাম। ১৫ দিন বা ১ মাস বেড়াতাম। আম্মার আগমনে বাড়ির সব ঘরে যেন দাওয়াতের প্রস্তÍুতি চলত। মহিউদ্দিন মামা, ছুট্টি মামা ও হেডমাস্টার জাফর নানুদের ( অধ্যাপক আহমদ কবির এর বড় ভাই) ঘরে দাওয়াত খেয়েছি। বেশি দাওয়াত খেয়েছি মহিউদ্দিন মামাদের ঘরে।আম পাকার মৌসুমেও বেড়াতে গিয়ে মিষ্টি আমের স্বাদ নিয়েছি। দাদার বাড়িটি প্রত্যন্ত গ্রামাঞ্চলে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের পশ্চিম পার্শ্বে প্রায় ৮ কি.মি. দূরে অবস্থিত। তখনকার সময়ে মীরসরাই সদর অথবা মিঠাছড়া হতে গ্রামীন ধুলোময় / কর্দমাক্ত পথে পায়ে হেঁটে আসতে হতো।যোগাযোগের বাহন ছিল গরুর গাড়ি, পালকী।মহান স্বাধীনতা যুদ্ধের দশ বছর পরে গ্রামে রিকসাতে যাতায়াত শুরু হয়েছে। দাদা মাওলানা মুলকুতের রহমান এবং আব্বা মাওলানা নুরুল হুদা মাদ্রাসায় উচ্চ শিক্ষা নিয়েছেন । দুজনেই শিক্ষকতা ও বাড়ির মসজিদের ইমামতির দায়িত্ব পালন করেছেন। উভয়ে সার্বক্ষনিক মাথায় গোল টুপি পরতেন। দাদা যতদিন জীবিত ছিলেন, মামাদের দেখেছি মাথায় টুপি পরিধান করে আমাদের বাড়িতে আসতেন। বাড়ির মহিলাদের পর্দার মধ্যে থাকতে হতো, রক্ষনশীলতা ছিল বেশী। আম্মার এ বাড়িতে আগমন সম্পর্কে ছোট মামা জনাব মোশাররফ হোসেন ( অবসরপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক , মিঠাছরা উচ্চ বিদ্যালয়) হতে জানা যায় : সে সময় মীরসরাইতে তিনজন ভারতের প্রসিদ্ধ দেওবন্দ মাদ্রাসা হতে উচ্চশিক্ষা নেওয়া আলেম ছিলেন , তাদের মধ্যে অন্যতম ছিলেন মাওলানা মুলকুতের রহমান, তাঁর একমাত্র ছেলেও আলেম ছিলেন। এজন্য তাঁদের দাদা ওয়ালী আহমদ মাস্টার আব্বাকে নির্বাচিত করেছিলেন। একটি প্রসিদ্ধ আলেম পরিবারে আম্মা এসেছেন, নানার বাড়িতে এমনটি প্রচারিত ছিল। পক্ষান্তরে নানার বাড়ি ছিল ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে মিঠাছরা বাজার ( মীরসরাই এর বড় বাজার) সংলগ্ন। বাড়ির সামনে থেকে যান-বাহন চলতে দেখা যায়। বাড়ি থেকে সমুখের দিকে সামান্য পথ হেঁটে বাজারে এলেই মহাসড়ক হয়ে দেশের যে কোন স্থানে যাওয়া যায়। রেলপথেও সহজে যাতায়াত এর সুযোগ ছিল।বাড়ির সকলেই স্কুল/কলেজ/বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়েছেন। পেশায় শিক্ষক, ডাক্তার, প্রকৌশলী, বৈমানিক,ব্যাংকার সহ দেশের গুরুত্বপূর্ণ পদে অধিষ্ঠিত । বাড়িটিতে ছিল আধুনিকতার ছোঁয়া। আধুনিকতা থেকে রক্ষণশীলতা, এমন পরিবারে আম্মা এসেছেন । সবদিকে খাপ খাইয়ে নিয়ে উভয় বাড়ির সার্বজনীন গ্রহনযোগ্যতা পেয়েছেন। মায়ের দাদার নাম ওয়ালী আহমদ মাস্টার । তাঁর প্রসংগে স্মরণিকায় অধ্যাপক আহমদ কবির লিখেছেন -----------” ভুঁইয়া বাড়ির প্রথম ইংরেজি শিক্ষিত ব্যক্তি ওয়ালী আহমদ । তিনি ম্যাট্রিক পাশ ছিলেন না, কিন্ত ইংরেজি বলতে ও লিখতে পারতেন অনায়াসে। ব্রিটিশ আমলে তিনি বার্মার কয়েক জায়গায় রেল স্টেশনের মাস্টার ছিলেন।---------- প্রকৃতপক্ষে ওয়ালী আহমদই গত শতাব্দীতে কাদির বক্স ভুঁইয়া বাড়ি প্রতিষ্ঠার প্রধান রূপকার। তিনি সর্বজন মান্য ও শ্রদ্ধেয় ছিলেন”। নানার নাম বদিউল আলম। তিনিও রেলওয়েতে সৈয়দপুর, চট্টগ্রাম সহ দেশের বিভিন্ন স্থানে চাকরিকাল অতিবাহিত করেছেন। নানা অত্যন্ত সজ্জন মানুষ ছিলেন। ৪ বোন ২ ভাই এর মধ্যে আম্মা সবার বড়। এদিক থেকে পরিবারের ও বাড়ির বড় মেয়ে। নানার বাড়ির বড় মেয়ের সন্তান এবং লেখাপড়ায় ভালো হওয়ায় ,আমরা অধিকতর সমাদর ও পরিচিতি পেয়েছি। চার প্রজম্মে পরিবারে সবার বড় ”মেয়ে” । আমরা ৭ ভাই ও ৪ বোনের মধ্যে আপা সবার বড়। আপারও বড় মেয়ে । ভাগনি আছমারও বড় মেয়ে। চার প্রজম্মে বড় মেয়ে আম্মা উম্মে হাবিবা বদরুন নেছা, পিতা : বদিউল আলম, মাতা : ফয়েজের নেছা কাদির বক্স ভুঁইয়া বাড়ি, মিঠাছড়া , মীরসরাই, চট্টগ্রাম। আপা আমাতুর নুর, পিতা : মাওলানা নুরুল হুদা, মাতা : উম্মে হাবিবা বদরুন নেছা দ্বার বক্স ভুঁইয়া বাড়ি, মধ্যম মুরাদপুর, মীরসরাই, চট্টগ্রাম। ভাগনি শামীমা আকতার আছমা, পিতা : মাওলানা গোলজার হোসেন চৌধুরী, মাতা : আমাতুর নুর মাস্টার জালাল চৌধুরী বাড়ি, মহানগর, সীতাকুন্ড, চট্টগ্রাম। নাতনী এডভোকেট আন্তারা মালিহা, পিতা : জামাল উদ্দিন মানিক, মাতা : শামীমা আকতার আছমা ইব্রাহিমপুর পাকার মাথা ( কচুক্ষেত সংলগ্ন), মিরপুর, ঢাকা। সহ সভাপতি, প্রথম আলো বন্ধুসভা, স্টেট ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ শাখা । আমি পরিবারে ভাইদের মধ্যে মেঝ। আমার ১ মেয়ে ও ১ ছেলে। বড় মেয়ে তাসমীম রুবাইয়াত আরশী ( মাস্টার্স অর্থনীতি, চবি)ও ছেলে ডাক্তার আহমেদ তাজওয়ার আয়াজ ( এম.বি.বি.এস.চমেক)। আমাদের ৭ ভাইয়ের মধ্যে ৫ ভাইয়ের পরিবার চট্টগ্রাম শহরে এবং ১ ভাইয়ের পরিবার ঢাকা শহরে অবস্থান করছে। আব্বা ১০ জানুয়ারি ২০০৫ মৃত্যুবরন করেন । আব্বার মৃত্যুর পর পুরো পরিবারের দায়িত্ব আম্মা শক্তভাবে পালন করেন। আমাদের বাপ-দাদার ভিটেতেই থাকছেন। শহর থেকে বাড়িতে আসলে আমাদের খাওয়া-দাওয়া, ঘুমানো ইত্যাদি নিয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়তেন। কোন সময় ছেলেদের কাছে টাকা চাইতেন না। বলতে দ্বিধা নেই, তিনি কারো মুখাপেক্ষি হতেন না। বরং সকলে তাঁর মুখাপেক্ষি ছিলাম। আমি যেহেতু ব্যাংকার ছিলাম তাই প্রতি রমজানের ঈদে আম্মার হাতে নতুন ১০/ টাকা , ৫/টাকা ,২/টাকা,১/ টাকার বান্ডেল তুলে দিতাম। তিনি ঈদের দিন নতুন টাকায় ফিতরা,দান/সদকা, নাতি/ নাতনিদের ঈদ বকশিস নিয়ে ব্যস্ত থাকতেন। ২০১৪ সালে আম্মা চট্টগ্রাম শহরে আসেন। তখন আমাদের বাড়ি-ঘর বন্ধ, কেউই থাকছেনা। আসছে কোরবানের ঈদ,। সবাই চিন্তা করলাম, বাড়িতে গিয়ে আর কোরবানি না দিই, শহরেই সেরে ফেলি। আম্মাকে প্রস্তাব দেওয়া হলো, তিনি রাজি হলেন না। বললেন তোমরা কর, আমি বাড়িতে চলে যাবো। ফিরে চল নাড়ির টানে! আমাদের শহরে কোরবানি দেওয়া হলো না । গ্রামের বাড়িতেই কোরবানি দিতে হলো। আব্বা দাদার একমাত্র ছেলে ছিলেন। দাদার ( মৃত্যু ১৯৬৯)আমল হতে কোরবানের ঈদে ১ গরু, ১ পরিবার,১ ডেকসিতেই গোশত রান্না-বান্নার রেওয়াজ আছে। এক ভিটে,এক গৃহ, চার প্রজম্মের বসবাস ! যাহা অদ্যাবধি চলমান আছে। বলা যেতে পারে একটি শতবর্ষী পরিবার। প্রতিবছর আব্বার মৃত্যুবার্ষিকীতে আম্মার উপদেশে বাড়িতে দোয়া মাহফিলের আয়োজন হয়ে থাকে। ৩য় ভাই মোঃ আলাউদ্দিন স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের মেধাবি শিক্ষার্থী ছিল। সে ছিল উদারমনা ও প্রতিষ্ঠিত । মাইডাস এর এজিএম পদে কর্মরত অবস্থায় ২৩ এপ্রিল ২০০৬ সড়ক দুর্ঘটনায় মৃত্যুবরন করে।। পরদিন ২৪ এপ্রিল ২০০৬ প্রথম আলো পত্রিকায় শেষ পৃষ্ঠায় খবর প্রকাশিত হয়েছে : সড়ক দুর্ঘটনায় মাইডাস এজিএম এর মৃত্যু ! আলাউদ্দিন এর মৃত্যু তার স্ত্রী শামীমা আকতার দিবা ( ব্যাংকার), অবুঝ ছেলে লাবিব ও লাজিম এর জন্য যেমন বেদনাদায়ক ছিল , তেমনি মায়ের চোখে সন্তানের নিথর লাশ দেখা , ভাইদের তার লাশ বহন করা ও কবরে শায়িত করা খুবেই কষ্টকর এবং পীড়াদায়ক ছিল। পত্রিকায় লেখা প্রকাশিত হয়েছে , সড়ক দুর্ঘটনায় ছোটভাই মোঃ আলাউদ্দিন এর মৃত্যু : আমাদের সান্ত¦না নাই ! প্রতিবছরেই আলাউদ্দিনের মৃত্যুবার্ষিকীতে দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়ে থাকে। মাইডাস এ কর্মরত অবস্থায় দেশে সে অনেকগুলো প্রশিক্ষণ কর্মসূচীতে প্রশিক্ষক হিসেবে অংশ নিয়েছিল । বিদেশেও সে বিভিন্ন সেমিনার ও সিম্পোজিয়ামে অংশ নেয় । এতসংক্রান্ত গওউঅঝ ঘঊডঝ এবং দেশ/বিদেশের বেশ কয়েকটি ছবি আমি পেয়েছিলাম। আম্মা যেহেতু গ্রামের বাড়িতে থাকেন, এলাকায় সে কৃর্তি ছাত্র হিসেবে পরিচিত। আমি চিন্তা করলাম বাড়িতে নিজ গৃহে একটি প্রামাণ্য চিত্র প্রদর্শনীর আয়োজন করি। ২৩ এপ্রিল ২০১৬ আলাউদ্দিন এর মৃত্যুবার্ষিকীতে আম্মাকে দিয়ে উদ্বোধন করে ” স্মৃতিতে মো: আলাউদ্দিন ” শিরোনামে প্রামাণ্য চিত্র প্রদর্শনীর আয়োজন করি। আম্মা বাড়ির সকলকে ডেকে চিত্র প্রদর্শনী দেখান। আমাদের অজপাড়া গাঁয়ের বাড়িতে এধরনের প্রদর্শনীর সাথে কেউই পরিচিত নয়। সবাই কেমন জানি অবাক দৃষ্টিতে দেখলেন। তবে প্রতিবেশী সামছুদ্দিন মাস্টার মন্তব্য করলেন : শিক্ষিত মানুষের শিক্ষিত কাজ। পরবর্তীতে ২০১৮ সনে ” মো: আলাউদ্দিন এর স্মৃতি : মধ্যম মুরাদপুর হতে মাইডাস ধানমন্ডি ” শিরোনামে একটি ভিডিও তথ্যচিত্র নির্মাণ করি।
২৩ এপ্রিল ২০১৮ মৃত্যুবার্ষিকীতে স্থানীয় মলিয়াইশ উচ্চ বিদ্যালয়ে ভিডিও তথ্যচিত্র প্রদর্শনের ব্যবস্থা করি। বাড়িতে আম্মাকে ল্যাপটপ এর মাধ্যমে তথ্যচিত্রটি দেখাই। তিনি নীরবে দেখলেন এবং চোখের পানি মুছলেন। প্রতিবছরে চবিয়ান বন্ধুমহল সামাজিক েেযাগাযোগ মাধ্যমে তাকে স্মরণ করে থাকে। আলউদ্দিন এর স্মৃতি ধরে রাখতে পেরেছি এবং কীর্তিমানের মৃত্যু নাই ---- এ সত্যটি মনে হয় প্রতিষ্ঠিত করতে পেরেছি। সবচেয়ে বড় শান্ত¦না জীবদ্দশায় আম্মাকে জানাতে পেরেছি : আলাউদ্দিন কে সকল মহল স্মরণে রেখেছে। ২০২১ সালের আগষ্ট মাসে আমার পরিবারের ০৪ সদস্যই করোনায় আক্রান্ত হয়ে যাই। পরিবারের সবার করোনা পজিটিভ আসে এবং একত্রে সবাই বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের শরনাপন্ন হই।আমি এবং আমার স্ত্রী নাসরীন রুবাব এর অবস্থা এমন হয়ে যায় যে, এন্টিবায়োটিক এর নির্দ্দিষ্ট ডোজ নেওয়া এবং ইনজেকশন সেবনের পরও অবস্থা খারাপের দিকে যাচ্ছিল । একসময় দেখা যায় আমার অক্সিজেন এর মাত্রা কমে আসছে। চিকিৎসকের পরামর্শে আমরা স্বামী- স্ত্রী দুজনেই চট্টগ্রাম আগ্রাবাদস্থ মা ও শিশু হাসপাতালে ভর্তি হই। বাসায় আরশী ও আয়াজকে রেখে যাই। কিযে এক ভয়াবহ অবস্থা, ভাষায় বর্ণনা করে শেষ করা যাবেনা। হাসপাতালে আমাকে অক্সিজেন সাপোর্ট দিতে হয়েছে। আম্মার কাছে খবর পৌঁছে, আমার অক্সিজেন সাপোর্ট লাগছে। হাসপাতালে মোবাইল করলে নাসরীন এর সাথে কথা হয়। তিনি আমার কথা ছাড়া শান্তি পাচ্ছেন না। কান্না করতে থাকলেন, তাঁকে আমি বললাম, ভলো হয়ে যাবো, কালকের মধ্যে বাসায় চলে যাবো। তিনি কাঁদতে থাকলেন। এসময় অনেক নিকটজনকে দেখেছি এড়িয়ে চলতে। মনে হয়েছে, পৃথিবীতে মায়ের মত কেউ নাই। গানের ভাষায় বলতে ইচ্ছা করছে : মা তুই থাকলে কত ভাল লাগে - - সারা জীবন কোন কিছুই আর লাগে না এমন মা হবি তুই -- যে মায়ের সন্তানেরা -- কান্দে আবার হাসতে জানে ! আম্মা পরহেজগার, ধর্মপরায়ন ছিলেন। নিজঘরের বাহিরে বাড়ির চৌহর্দ্দিতে ঘাটা পর্যন্ত কোনদিন যেতেন না।। সাংসারিক কাজের বাহিরে তিনি ইবাদত/ বন্দেগি , কোরআন শরীফ, ধর্মীয় বিভিন্ন বই পড়ে সময় কাটাতেন। মৃত্যুর দুমাস পূর্বে যখন তিনি বসতে পারতেন না, বিছানায় শুয়ে-শুয়ে কোরআন তেলাওয়াত করতেন। চশমা ছাড়া তিনি পড়তে পারতেন। এ দৃশ্য আমি মোবাইলে ধারন করে ফেসবুকে দিয়েছি। অনেক বিদগ্ধ গুণীজন সুন্দর কমেন্ট করে তাঁর জন্য দোয়া করেছেন।আমার অসম্ভব ভালো লেগেছে। পরচর্চা/ পরনিন্দা করতেন না। কারো সাথে বিবাদে জড়াতেন না। গরীব/ অসহায়ের প্রতি সদয় আচরন করতেন । বাড়ির সকলের সাথে / আত্মীয়দের সাথে সৌহার্দ্যপুর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখতেন।তিনি শ্বশুর বাড়ি ও বাপের বাড়িতে সম সমাদৃত / সম্মানিত ছিলেন। মায়ের আচরনে আমাদের কোন শত্রæ সৃষ্টি হয় নাই। আম্মা অতুলনীয় ! মহিয়সী !এ দিক থেকে আমরা নিজেদের সৌভাগ্যবান মনে করছি । ২০ আগষ্ট ২০২২ বুধবার প্রায় ৮৪ বছর বয়সে আম্মা মৃত্যুবরন করেন। এন, আই. ডি. অনুযায়ী তাঁর জন্ম তারিখ ১০ আগষ্ট ১৯৩৮। তাঁর বিদেহী আত্মার মাগফেরাতের জন্য সকল মহলের দোয়া চাচ্ছি। মহান আল্লাহ আম্মাকে বেহেশত দান করুন। আমাদের সকলকে সুস্থ থাকার , ভালো কাজ করার এবং নেক্ আমল করার তৌফিক দান করুন আমিন !
৫ ঘন্টা ৩৮ মিনিট আগে
৬ ঘন্টা ৫২ মিনিট আগে
৭ ঘন্টা ৪ মিনিট আগে
৭ ঘন্টা ১১ মিনিট আগে
৮ ঘন্টা ১৮ মিনিট আগে
৯ ঘন্টা ২৭ মিনিট আগে