মাদক সম্রাট থেকে মানব পাচারের গডফাদার রুবেল শেখ আদমদীঘিতে গোল্ডকাপ বালক বালিকা ফুটবল টুর্নামেন্ট ফাইনাল খেলা অনুষ্ঠিত সান্তাহারে বিএনপি নেতাকে ছুরিকাঘাতের ঘটনায় ১৩ জনের বিরুদ্ধে মামলা শিবচরে এমপি জাহান্দার আলী জাহান-কে সংবর্ধনায় নেতাকর্মীদের ঢল ক্ষেতলালে মাদকবিরোধী অভিযানে দুই যুবক গ্রেফতার খেলাধুলা জীবনের অপরিহার্য অংশ : এমপি সুলতান মাহমুদ বাবু লাখাই থানা পুলিশের বিশেষ অভিযানে ইয়াবা ট্যাবলেট সহ গ্রেফতার-০১। জয়পুরহাটে ছাত্রদলের নতুন কমিটিকে স্বাগত জানিয়ে আনন্দ মিছিল ও সংক্ষিপ্ত সমাবেশ পীরগাছা উপজেলা শিক্ষা অফিসার আবুল হোসেনের অবসরজনিত বিদায় সংবর্ধনা লালপুরে ট্রাকচাপায় মোটরসাইকেল চালকের মৃত্যু প্রেমবিচ্ছেদে টাওয়ারে যুবকের আত্মহত্যার হুমকি, ফায়ার সার্ভিসের সাড়ে ৪ ঘণ্টার অভিযানে উদ্ধার শ্যামনগরে মুক্তিপনের জন্য জিম্মি করা অনিমেষকে উদ্ধার করেছে থানা পুলিশ চিলমারীতে "রেললাইন ও স্লিপার" বসানোর দাবিতে মানববন্ধন অনুনমোদিত বৈশাখী মেলা ভেঙে দিলেন এমপি নোয়াখালীতে ছাত্রদলের বিক্ষোভ: নাছিরকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা, ১০ নেতার পদত্যাগ নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জে আগ্নেয়াস্ত্র-ইয়াবাসহ আটক ৬ ‎হোসেনপুরে কলেজছাত্র ইমন হত্যার বিচার দাবিতে বিক্ষোভ ও সড়ক অবরোধ ‎ মোল্লারহাট থানার মানবপাচার দলের মূল হোতা অভিযুক্ত আল-আমিন’কে র‍্যাব-৮ এবং র‍্যাব-১১ কর্তৃক গ্রেফতার অবশেষে পে-স্কেল নিয়ে বড় সুখবর, খসড়া প্রস্তুত শেখ হাসিনাসহ ১৭ জনের বিরুদ্ধে আজ সাক্ষ্য দেবেন চতুর্থ সাক্ষী

বেতনার স্রোতে ভাঙছে বুধহাটা: অপরিকল্পিত খননে বাজার এখন ঝুঁকির মুখে



সাতক্ষীরার আশাশুনি উপজেলার অন্যতম বৃহৎ বাণিজ্যকেন্দ্র বুধহাটা বাজার আবারও বেতনা নদীর ভাঙনের কবলে পড়েছে। নদীর খরস্রোতা প্রবাহে প্রতিনিয়ত বেড়িবাঁধ ক্ষয়ে যাচ্ছে, আর তাতে করে বাজারসহ আশপাশের জনবসতি এলাকা চরম হুমকির মুখে পড়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, সাম্প্রতিক নদী খনন কার্যক্রমে যথাযথ পরিকল্পনার অভাবই এই পরিস্থিতিকে আরও ভয়াবহ করে তুলেছে।

বুধহাটা বাজারের পূর্ব-দক্ষিণাংশ, পূর্ব দিক এবং উত্তর-পশ্চিম এলাকায় দীর্ঘদিন ধরেই ভাঙনের ইতিহাস রয়েছে। স্থানীয়দের ভাষ্য, ২০ থেকে ৪০ বছর আগেও এসব এলাকায় ভাঙন ছিল। একই সময়ে নদীর অপর পাড়ে বাহাদুরপুর এলাকায় পলি জমে জমে নদীর বিশাল অংশ ভরাট হয়ে যায়। ফলে নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ ব্যাহত হয় এবং স্রোতের চাপ গিয়ে পড়ে বাজারসংলগ্ন তীরে। এতে ধীরে ধীরে ভেঙে সংকুচিত হতে থাকে বাজারের পরিধি।

স্থানীয়রা দীর্ঘদিন ধরে দাবি জানিয়ে আসছিলেন, নদী খননের সময় ভরাট হয়ে যাওয়া অংশ কেটে স্রোতের গতিপথ পরিবর্তন (ডাইভারশন) করা হোক। এতে নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ ফিরে আসবে এবং ভাঙনকবলিত তীর রক্ষা পাবে। পাশাপাশি সিএস ও ডিএস মানচিত্র অনুযায়ী নদীর প্রকৃত সীমানাও পুনরুদ্ধার সম্ভব হবে বলে মনে করেন তাঁরা।

কিন্তু বাস্তবে খননকাজে দেখা যায় ভিন্ন চিত্র। অভিযোগ রয়েছে, ভরাট হওয়া অংশ অক্ষত রেখে ভাঙনপ্রবণ এলাকাতেই খনন করা হয়েছে। এতে নদীর স্রোত আরও তীব্রভাবে বাজারমুখী হয়ে ওঠে। ফলাফল হিসেবে নদী চালুর পর থেকেই পুনরায় শুরু হয়েছে ভাঙন। ইতিমধ্যে প্রায় ৫০০ হাত এলাকা নতুন করে ঝুঁকির মধ্যে পড়েছে। প্রতিদিনই ২ থেকে ৩ হাত করে বাঁধের মাটি নদীগর্ভে বিলীন হচ্ছে।

এদিকে ভাঙনের প্রভাব শুধু স্থলভাগেই সীমাবদ্ধ নয়, নদী পারাপারেও তৈরি হয়েছে চরম ঝুঁকি। স্থানীয় সাংবাদিকদের ভাষ্য অনুযায়ী, খেয়া নৌকায় যাত্রী পারাপারের সময় প্রায়ই দুর্ঘটনার আশঙ্কা দেখা দিচ্ছে। সম্প্রতি এক ঘটনায়, নৌকা তীরে ভিড়তে গেলে হঠাৎ করেই পাড়ের মাটি ধসে পড়ে। এতে নৌকা ডুবে যাওয়ার উপক্রম হয় এবং যাত্রীরা পানিতে পড়ে যান। বিশেষ করে এক শিশুযাত্রীর প্রাণ নিয়ে শঙ্কা তৈরি হয়েছিল। পরে স্থানীয়দের সহায়তায় সবাই প্রাণে রক্ষা পান।

স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছে, এ পরিস্থিতি কেবল প্রাকৃতিক নয়; বরং পরিকল্পনাহীন উন্নয়ন কার্যক্রমের ফল। তাঁরা বলছেন, নদী ব্যবস্থাপনায় সমন্বিত পরিকল্পনার অভাব এবং বাস্তব পরিস্থিতি বিবেচনায় না নেওয়ার কারণে ভাঙন আরও তীব্র হয়েছে।

এ বিষয়ে জজ কোর্টের এপিপি ও উপজেলা জামায়াতের কর্মপরিষদ সদস্য অ্যাডভোকেট শহিদুল ইসলাম বলেন, “নদীর ভরাট হয়ে যাওয়া অংশ কেটে স্রোতকে সঠিক পথে প্রবাহিত করতে হবে। তা না হলে বুধহাটা বাজার ও আশপাশের এলাকা রক্ষা করা সম্ভব হবে না।” তিনি দ্রুত উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।

বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, নদী খনন শুধু পলি অপসারণের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকলে চলবে না; এর সঙ্গে যুক্ত থাকতে হবে স্রোতের গতি, তীররক্ষা ব্যবস্থা এবং স্থানীয় ভূপ্রকৃতির সমন্বিত বিশ্লেষণ। অন্যথায় উন্নয়ন প্রকল্পই হয়ে উঠতে পারে নতুন বিপদের কারণ।

বুধহাটা বাজারের বর্তমান পরিস্থিতি সেই আশঙ্কারই প্রতিফলন। সময়মতো কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে, একসময় হয়তো এই ঐতিহ্যবাহী বাজার মানচিত্র থেকেই হারিয়ে যেতে পারে—এমন আশঙ্কাই এখন স্থানীয়দের মনে ঘুরপাক 

Tag
আরও খবর