লাখাইয়ে জাতীয় সমবায় দিবস উদযাপন। শেরপুরে জেলা আইন-শৃঙ্খলা কমিটির সভা অনুষ্ঠিত ঝিনাইগাতীতে অবৈধ বালু পরিবহনের অভিযোগে ৬ জন আটক, অটোভ্যান ও লরি জব্দ জাবিপ্রবিতে ‘বিতর্কিত’ নিয়োগের প্রতিবাদে জাতীয় ছাত্রশক্তি সংবাদ সম্মেলন বাংলাদেশ তৃণমূল প্রেস সোসাইটির ৩১ সদস্যবিশিষ্ট আংশিক কেন্দ্রীয় কমিটি ঘোষণা সরকারি নিবন্ধন পেল সাংবাদিক নির্যাতন প্রতিরোধ সেল বাংলাদেশ ২৪ ঘণ্টায় হাম উপসর্গে ২ জনের মৃত্যু প্রথাগত কূটনৈতিক তৎপরতায় রোহিঙ্গা সমস্যার সমাধান সম্ভব নয় : শামা ওবায়েদ বিচার বিভাগকে সবচেয়ে বেশি ক্ষতি করেছে বুদ্ধিবৃত্তিক দুর্নীতি: আইনমন্ত্রী কুলিয়ারচরে নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে জাতীয় সমবায় দিবস পালিত সাতক্ষীরায় আইন-শঙ্খলা বিষয়ক সভায় অপরাধ দমনে কঠোর বিজিবির অভিযানে ভারতীয় কাফ সিরাপ জব্দ জয়পুরহাটে বিপুল পরিমাণ ইয়াবা, ফেয়ারডিল ও গাঁজাসহ মাদক ব্যবসায়ী গ্রেপ্তার জয়পুরহাটে নানা আয়োজনে ৫৫তম জাতীয় সমবায় দিবস উদযাপন পীরগাছায় ৫৫তম জাতীয় সমবায় দিবস পালিত চকরিয়ায় সড়ক দুর্ঘটনায় সাতকানিয়ার মোটর সাইকেল আরোহী নিহত ঝিনাইগাতীতে ধান মাড়াইকল উল্টে প্রাণ গেল যুবকের, আহত ২ মিরসরাইয়ে দীপ্ত যুব ফাউন্ডেশনের মাদকবিরোধী র‍্যালি ও বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি কৃষ্ণনগরে ফ্যামিলি কার্ডের তথ্য সংগ্রহ শুরু ৯ নভেম্বর, বিএনপির আলোচনা সভাকৃষ্ণনগরে ফ্যামিলি কার্ডের তথ্য সংগ্রহ শুরু ৯ নভেম্বর, বিএনপির আলোচনা সভা ইসলামপুরে জাতীয় সমবায় দিবস পালিত

বেতনার স্রোতে ভাঙছে বুধহাটা: অপরিকল্পিত খননে বাজার এখন ঝুঁকির মুখে



সাতক্ষীরার আশাশুনি উপজেলার অন্যতম বৃহৎ বাণিজ্যকেন্দ্র বুধহাটা বাজার আবারও বেতনা নদীর ভাঙনের কবলে পড়েছে। নদীর খরস্রোতা প্রবাহে প্রতিনিয়ত বেড়িবাঁধ ক্ষয়ে যাচ্ছে, আর তাতে করে বাজারসহ আশপাশের জনবসতি এলাকা চরম হুমকির মুখে পড়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, সাম্প্রতিক নদী খনন কার্যক্রমে যথাযথ পরিকল্পনার অভাবই এই পরিস্থিতিকে আরও ভয়াবহ করে তুলেছে।

বুধহাটা বাজারের পূর্ব-দক্ষিণাংশ, পূর্ব দিক এবং উত্তর-পশ্চিম এলাকায় দীর্ঘদিন ধরেই ভাঙনের ইতিহাস রয়েছে। স্থানীয়দের ভাষ্য, ২০ থেকে ৪০ বছর আগেও এসব এলাকায় ভাঙন ছিল। একই সময়ে নদীর অপর পাড়ে বাহাদুরপুর এলাকায় পলি জমে জমে নদীর বিশাল অংশ ভরাট হয়ে যায়। ফলে নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ ব্যাহত হয় এবং স্রোতের চাপ গিয়ে পড়ে বাজারসংলগ্ন তীরে। এতে ধীরে ধীরে ভেঙে সংকুচিত হতে থাকে বাজারের পরিধি।

স্থানীয়রা দীর্ঘদিন ধরে দাবি জানিয়ে আসছিলেন, নদী খননের সময় ভরাট হয়ে যাওয়া অংশ কেটে স্রোতের গতিপথ পরিবর্তন (ডাইভারশন) করা হোক। এতে নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ ফিরে আসবে এবং ভাঙনকবলিত তীর রক্ষা পাবে। পাশাপাশি সিএস ও ডিএস মানচিত্র অনুযায়ী নদীর প্রকৃত সীমানাও পুনরুদ্ধার সম্ভব হবে বলে মনে করেন তাঁরা।

কিন্তু বাস্তবে খননকাজে দেখা যায় ভিন্ন চিত্র। অভিযোগ রয়েছে, ভরাট হওয়া অংশ অক্ষত রেখে ভাঙনপ্রবণ এলাকাতেই খনন করা হয়েছে। এতে নদীর স্রোত আরও তীব্রভাবে বাজারমুখী হয়ে ওঠে। ফলাফল হিসেবে নদী চালুর পর থেকেই পুনরায় শুরু হয়েছে ভাঙন। ইতিমধ্যে প্রায় ৫০০ হাত এলাকা নতুন করে ঝুঁকির মধ্যে পড়েছে। প্রতিদিনই ২ থেকে ৩ হাত করে বাঁধের মাটি নদীগর্ভে বিলীন হচ্ছে।

এদিকে ভাঙনের প্রভাব শুধু স্থলভাগেই সীমাবদ্ধ নয়, নদী পারাপারেও তৈরি হয়েছে চরম ঝুঁকি। স্থানীয় সাংবাদিকদের ভাষ্য অনুযায়ী, খেয়া নৌকায় যাত্রী পারাপারের সময় প্রায়ই দুর্ঘটনার আশঙ্কা দেখা দিচ্ছে। সম্প্রতি এক ঘটনায়, নৌকা তীরে ভিড়তে গেলে হঠাৎ করেই পাড়ের মাটি ধসে পড়ে। এতে নৌকা ডুবে যাওয়ার উপক্রম হয় এবং যাত্রীরা পানিতে পড়ে যান। বিশেষ করে এক শিশুযাত্রীর প্রাণ নিয়ে শঙ্কা তৈরি হয়েছিল। পরে স্থানীয়দের সহায়তায় সবাই প্রাণে রক্ষা পান।

স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছে, এ পরিস্থিতি কেবল প্রাকৃতিক নয়; বরং পরিকল্পনাহীন উন্নয়ন কার্যক্রমের ফল। তাঁরা বলছেন, নদী ব্যবস্থাপনায় সমন্বিত পরিকল্পনার অভাব এবং বাস্তব পরিস্থিতি বিবেচনায় না নেওয়ার কারণে ভাঙন আরও তীব্র হয়েছে।

এ বিষয়ে জজ কোর্টের এপিপি ও উপজেলা জামায়াতের কর্মপরিষদ সদস্য অ্যাডভোকেট শহিদুল ইসলাম বলেন, “নদীর ভরাট হয়ে যাওয়া অংশ কেটে স্রোতকে সঠিক পথে প্রবাহিত করতে হবে। তা না হলে বুধহাটা বাজার ও আশপাশের এলাকা রক্ষা করা সম্ভব হবে না।” তিনি দ্রুত উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।

বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, নদী খনন শুধু পলি অপসারণের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকলে চলবে না; এর সঙ্গে যুক্ত থাকতে হবে স্রোতের গতি, তীররক্ষা ব্যবস্থা এবং স্থানীয় ভূপ্রকৃতির সমন্বিত বিশ্লেষণ। অন্যথায় উন্নয়ন প্রকল্পই হয়ে উঠতে পারে নতুন বিপদের কারণ।

বুধহাটা বাজারের বর্তমান পরিস্থিতি সেই আশঙ্কারই প্রতিফলন। সময়মতো কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে, একসময় হয়তো এই ঐতিহ্যবাহী বাজার মানচিত্র থেকেই হারিয়ে যেতে পারে—এমন আশঙ্কাই এখন স্থানীয়দের মনে ঘুরপাক 

Tag
আরও খবর