সাতক্ষীরার জাতীয় অধ্যাপক ডাঃ এম আর খান শিশু হাসপাতালে ৬টি পদে নিয়োগকে ঘিরে স্বজনপ্রীতি, অনিয়ম ও অনুদানের নামে অর্থ নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে, নিয়োগ পরীক্ষার আগেই নির্দিষ্ট কয়েকজন প্রার্থীকে চূড়ান্ত করা হয়েছে। বিষয়টি প্রকাশ্যে আসার পর হাসপাতাল সংশ্লিষ্ট মহল এবং স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
অনুসন্ধানে জানা যায়, সম্প্রতি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ৬টি শূন্য পদে জনবল নিয়োগের জন্য বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে। বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের পর বিভিন্ন স্থান থেকে প্রার্থীরা আবেদন করেন। কিন্তু অভিযোগ রয়েছে, নিয়ম অনুযায়ী লিখিত বা মৌখিক কোনো পরীক্ষা না নিয়েই হাসপাতালের সাধারণ সম্পাদকের স্বজনসহ নির্দিষ্ট কয়েকজনকে কৌশলে নিয়োগ দেওয়া হয়।
অভিযোগ অনুযায়ী, কনসালটেন্ট পদে তনিমা রহমান তমা, সিস্টার পদে স্মৃতি, প্যাথলজি বিভাগে রাফিন, অ্যাসিস্ট্যান্ট পদে শওকত মজুমদার ও শান্তা এবং নাইট গার্ড পদে সজীবকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, এদের মধ্যে কয়েকজনের কাছ থেকে প্রতিষ্ঠানের উন্নয়নের জন্য অনুদানের নামে ২ থেকে ৩ লাখ টাকা করে নেওয়া হয়েছে। তবে এ অর্থ হাসপাতালের কোনো সরকারি নথিতে উল্লেখ নেই বলে অভিযোগ উঠেছে।
জানা গেছে, নিয়োগপ্রাপ্তরা গত ১ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখে নিজ নিজ পদে যোগদান করেন। এরই মধ্যে জানুয়ারি মাসের বেতন-ভাতাও তাদের দেওয়া হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। তবে ফেব্রুয়ারি মাসের বেতন প্রদান সংক্রান্ত রেজুলেশনে স্বাক্ষরের জন্য বিষয়টি হাসপাতালের সভাপতি ও সাতক্ষীরার জেলা প্রশাসক মিজ্ আফরোজা আখতারের কাছে উপস্থাপন করা হলে তিনি এতে স্বাক্ষর করতে অস্বীকৃতি জানান।
জেলা প্রশাসক বিধি অনুযায়ী স্বচ্ছ ও ন্যায্য প্রক্রিয়ায় পুনরায় নিয়োগ কার্যক্রম পরিচালনার নির্দেশ দেন। সেই অনুযায়ী আগামী ৮ মার্চ ২০২৬ তারিখ রোববার বেলা ১২টায় নতুন করে নিয়োগ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।
তবে সর্বশেষ পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, ওই ৬ জন প্রার্থীকে পুনরায় নিয়োগে টিকিয়ে রাখার জন্য শনিবার (৭ মার্চ) সকাল সাড়ে ৯টা থেকে ১১টা পর্যন্ত হাসপাতালের সাধারণ সম্পাদক, একজন সিনিয়র চিকিৎসকসহ কয়েকজন দায়িত্বশীল ব্যক্তি একটি বৈঠক করেন। সেখানে ডাঃ আরমান নামের এক চিকিৎসককে প্রার্থীদের সঙ্গে সমন্বয়ের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে বলে সূত্র জানিয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, যেকোনো মূল্যে ওই প্রার্থীদের নিয়োগ নিশ্চিত করার জন্য চেষ্টা চালানো হচ্ছে।
এ বিষয়ে জানতে হাসপাতালের সভাপতি ও সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসক মিজ্ আফরোজা আখতারের মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি কল রিসিভ করেননি।
এদিকে জেলার সচেতন মহল ও স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, একটি শিশু হাসপাতালের মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানে নিয়োগ প্রক্রিয়ায় কোনো ধরনের অনিয়ম বা স্বজনপ্রীতি গ্রহণযোগ্য নয়। তারা স্বচ্ছ ও মেধাভিত্তিক নিয়োগ নিশ্চিত করার জন্য প্রশাসনের কার্যকর পদক্ষেপ কামনা করেছেন।
১ ঘন্টা ১১ মিনিট আগে
১ ঘন্টা ৩৩ মিনিট আগে
১ ঘন্টা ৩৯ মিনিট আগে
১ ঘন্টা ৪৯ মিনিট আগে
২ ঘন্টা ২৭ মিনিট আগে