সাতক্ষীরায় মানব পাচার প্রতিরোধে বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা (এনজিও) ও সুশীল সমাজের সংগঠনগুলোর (সিএসও) মধ্যে সমন্বিত উদ্যোগ জোরদার করতে ত্রৈমাসিক নেটওয়ার্ক সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সোমবার (০২ মার্চ) সকালে জেলা শহরের হোটেল টাইগার প্লাসের সম্মেলন কক্ষে উন্নয়ন সংস্থা ‘রূপান্তর’-এর উদ্যোগে এ সভার আয়োজন করা হয়।
সীমান্তবর্তী জেলা হিসেবে সাতক্ষীরা দীর্ঘদিন ধরেই মানব পাচারের ঝুঁকিতে রয়েছে। এ বাস্তবতায় পাচার প্রতিরোধে কার্যকর ও টেকসই সমন্বয় গড়ে তোলা, তথ্য আদান-প্রদান বৃদ্ধি এবং সচেতনতা কার্যক্রম জোরদার করার লক্ষ্যে সভায় বিস্তারিত আলোচনা হয়। বক্তারা বলেন, মানব পাচার প্রতিরোধে শুধু আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর উদ্যোগই যথেষ্ট নয়; বরং স্থানীয় প্রশাসন, সামাজিক সংগঠন, গণমাধ্যম ও সচেতন নাগরিকদের সম্মিলিত প্রচেষ্টাই পারে এ অপরাধ দমনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে।
সুইজারল্যান্ড অ্যাম্বাসির সহযোগিতায় এবং উইনরক ইন্টারন্যাশনালের বাস্তবায়নে পরিচালিত ‘আশ্বাস’ প্রকল্পের আওতায় সভাটি অনুষ্ঠিত হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন রূপান্তরের নির্বাহী পরিচালক স্বপন কুমার গুহ। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস্) মিথুন সরকার।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে মিথুন সরকার বলেন, মানব পাচার একটি সংগঠিত অপরাধ। এটি প্রতিরোধে গোয়েন্দা তৎপরতা বৃদ্ধির পাশাপাশি সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলা জরুরি। তিনি এনজিও ও সিএসও প্রতিনিধিদের তথ্যভিত্তিক কাজ ও মাঠপর্যায়ে সচেতনতা বাড়ানোর আহ্বান জানান। একই সঙ্গে ভুক্তভোগীদের আইনি সহায়তা ও পুনর্বাসনে সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
সভায় উইনরক ইন্টারন্যাশনালের রিজিওনাল কোঅর্ডিনেটর শেখ মাসুদুল হাসান প্রকল্পের কার্যক্রম তুলে ধরেন। এছাড়া বক্তব্য রাখেন স্বদেশের নির্বাহী পরিচালক মাধব চন্দ্র দত্ত, ক্রিসেন্টের নির্বাহী পরিচালক এ কে এম আবু জাফর সিদ্দিক, হেডের নির্বাহী পরিচালক লুইস রানা গাইন, মিডার নির্বাহী পরিচালক দুলাল চন্দ্র দাস, সিডোর নির্বাহী পরিচালক শ্যামল কুমার বিশ্বাস, আরার ফ্যাসিলিটেটর সেকেন্দার আবু জাফর, প্রেরণার ট্রেনিং ডেভেলপমেন্ট অফিসার মৃত্যুঞ্জয় সাহা, মৌমাছির মরিয়ম খাতুন, পরিত্রাণের প্রোগ্রাম কো-অর্ডিনেটর মোহাম্মদ রবিউল ইসলাম, জাস্টিস ফর কেয়ারের ইউথ লিডার সোহেল রানা, অগ্রগতির প্রজেক্ট ম্যানেজার শেখ মাহাবুবুর রহমান, উত্তরনের লিগ্যাল অ্যাডভাইজার অ্যাডভোকেট মুনির উদ্দিন, সিটিআইপি সদস্য সাফিরুল ইসলাম ও সারভাইভার লিডার জেসমিন সুলতানা। এছাড়াও ব্র্যাকের জেলা সমন্বয়কারী হুমায়ূন রশীদসহ বিভিন্ন সংস্থার প্রতিনিধি ও সারভাইভার লিডাররা অংশ নেন।
আলোচনায় উঠে আসে, সীমান্তবর্তী এলাকায় দারিদ্র্য, কর্মসংস্থানের অভাব ও অসচেতনতার সুযোগ নিয়ে পাচারকারীরা সক্রিয় থাকে। তাই গ্রামভিত্তিক সচেতনতা কর্মসূচি, ঝুঁকিপূর্ণ পরিবারের তালিকা প্রণয়ন, স্কুল-কলেজ পর্যায়ে ক্যাম্পেইন এবং ভুক্তভোগীদের পুনর্বাসনে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের বিষয়ে মতামত দেওয়া হয়।
সভা শেষে মানব পাচার প্রতিরোধে তথ্যভিত্তিক কাজ, সমন্বিত নেটওয়ার্ক শক্তিশালীকরণ এবং ভবিষ্যতে যৌথ কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়নের অঙ্গীকার ব্যক্ত করা হয়।
১ ঘন্টা ১১ মিনিট আগে
১ ঘন্টা ৩৩ মিনিট আগে
১ ঘন্টা ৩৯ মিনিট আগে
১ ঘন্টা ৪৯ মিনিট আগে
২ ঘন্টা ২৮ মিনিট আগে