উন্নত জীবন, উচ্চ আয় ও নিরাপদ ভবিষ্যতের আশায় প্রতিবছর বাংলাদেশ থেকে হাজারো মানুষ অবৈধ পথে ইউরোপে পাড়ি জমানোর চেষ্টা করেন। কিন্তু সেই স্বপ্নের যাত্রা যে কতটা বিপদসংকুল ও অনিশ্চিত, তা অনেকেই উপলব্ধি করেন না। দালালচক্রের প্রলোভনে পড়ে অনেকে সর্বস্ব বিক্রি করে এই ঝুঁকিপূর্ণ পথে নামলেও শেষ পর্যন্ত ভয়াবহ পরিণতির শিকার হচ্ছেন।
অবৈধ অভিবাসনের পথে সবচেয়ে বেশি প্রাণহানি ঘটে ভূমধ্যসাগর পাড়ি দেওয়ার সময়। নড়বড়ে নৌকা, অতিরিক্ত যাত্রী ও প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে সাগরে ডুবে প্রাণ হারান অসংখ্য মানুষ। আবার কেউ লিবিয়া কিংবা মরুভূমি অধ্যুষিত সীমান্ত এলাকায় মানবপাচারকারীদের হাতে আটক হয়ে নির্যাতনের শিকার হন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, মানবপাচারকারী চক্রই এই অবৈধ অভিবাসনের সবচেয়ে বড় ঝুঁকি। তারা মোটা অঙ্কের অর্থ আদায় করলেও যাত্রীদের নিরাপত্তার কোনো নিশ্চয়তা দেয় না। অনেক ক্ষেত্রে অভিবাসনপ্রত্যাশীদের অমানবিক পরিবেশে আটকে রাখা হয়, পর্যাপ্ত খাবার ও চিকিৎসার ব্যবস্থা থাকে না। এমনকি জিম্মি করে পরিবারের কাছ থেকে অতিরিক্ত টাকা আদায়ের ঘটনাও ঘটছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
যারা কোনোভাবে ইউরোপে পৌঁছাতে সক্ষম হন, তাদের জীবনও খুব একটা স্বস্তির হয় না। বৈধ কাগজপত্রের অভাবে তারা ভালো চাকরি পান না, পুলিশের ভয়ে আত্মগোপনে থাকতে হয় এবং যেকোনো সময় গ্রেপ্তার কিংবা দেশে ফেরত পাঠানোর আশঙ্কায় দিন কাটাতে হয়। ফলে স্বপ্নের ইউরোপ অনেকের কাছেই দুঃস্বপ্নে পরিণত হচ্ছে।
এ বিষয়ে সচেতন মহল তরুণদের আবেগে সিদ্ধান্ত না নেওয়ার আহ্বান জানাচ্ছেন। তাদের মতে, গুজব ও মিথ্যা আশ্বাসে বিশ্বাস করে অবৈধ পথে বিদেশে যাওয়ার প্রবণতা বন্ধ করতে হবে। বরং বৈধ উপায়ে বিদেশগমন, দেশে থেকেই দক্ষতা উন্নয়ন এবং বাস্তবতা জেনে সিদ্ধান্ত নেওয়ার ওপর গুরুত্ব দেওয়া জরুরি।
বিশেষজ্ঞরা আরও বলেন, অবৈধ অভিবাসন রোধে শুধু আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতা যথেষ্ট নয়; প্রয়োজন সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধি। পরিবার ও সমাজ যদি শুরু থেকেই ঝুঁকির বিষয়গুলো তুলে ধরে, তবে অনেক তরুণ এই বিপজ্জনক পথে পা বাড়ানো থেকে বিরত থাকতে পারবেন।
সংশ্লিষ্টদের মতে, ইউরোপে যাওয়ার স্বপ্ন দেখাটা স্বাভাবিক; তবে সেই স্বপ্ন পূরণের পথে অবৈধ ও প্রাণঘাতী পথ বেছে নেওয়া জীবনকে চরম ঝুঁকির মুখে ঠেলে দেয়, যার মূল্য অনেক সময় দিতে হয় প্রাণ দিয়ে।
৭ ঘন্টা ২৭ মিনিট আগে
৭ ঘন্টা ২৯ মিনিট আগে
২০ ঘন্টা ৫১ মিনিট আগে
২২ ঘন্টা ৪৫ মিনিট আগে
২২ ঘন্টা ৪৬ মিনিট আগে
২২ ঘন্টা ৪৮ মিনিট আগে
২ দিন ৩০ মিনিট আগে
২ দিন ৩২ মিনিট আগে