ঝিকরগাছায় বিদ্যালয়ের গাছ বিক্রির অভিযোগ ইউপি সদস্যের বিরুদ্ধে
ঝিকরগাছায় বিদ্যালয়ের গাছ বিক্রির অভিযোগ ইউপি সদস্যের বিরুদ্ধে
যশোরের ঝিকরগাছার পল্লিতে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের একটি মেহগনি গাছ কেটে বিক্রি করার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) সদস্য ও আওয়ামী লীগ নেতা রেজাউল গাজীর বিরুদ্ধে।
ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলা শংকরপুর ইউনিয়নের রাজবাড়ীয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সরকারি ছুটির দিনে প্রায় ২০ হাজার টাকা মূল্যের গাছটি কেটে নেওয়া হয়। বিষয়টি জানাজানি হলে এলাকাবাসী ঘটনাস্থলে জড়ো হন। স্থানীয়দের প্রতিক্রিয়ার মুখে ইউপি সদস্য গাছটি ফেলে রেখে দ্রুত স্থান ত্যাগ করেন বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান।
বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ এবং স্থানীয়রা জানান, গাছটি স্কুলের প্রাচীরসংলগ্ন এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে ছিল এবং বিদ্যালয়ের পরিবেশ রক্ষা ও ছায়া দেওয়ার কাজে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছিল।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আলী হোসেন বলেন, "ঘটনার দিন আমি এলাকায় ছিলাম না। পরে স্থানীয়দের মাধ্যমে জানতে পেরে বিষয়টি উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তাকে অবহিত করি।"
তিনি আরও জানান, গাছটি দীর্ঘদিন ধরে বিদ্যালয় চত্বরে ছিল এবং এটি ছায়া দেওয়ার পাশাপাশি বিদ্যালয়ের পরিবেশ রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছিলো।
এ বিষয়ে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. ওলিয়ার রহমান বলেন,ঘটনাটি জানার পরই আমরা ইউএনও মহোদয়ের মাধ্যমে অভিযুক্ত ইউপি সদস্যের সঙ্গে যোগাযোগ করেছি। তাকে গাছটি যেখানে ছিল, সেখানেই রেখে দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।”
অভিযুক্ত ইউপি সদস্য রেজাউল গাজী অবশ্য গাছটি নিজের বলে দাবি করেন। তিনি জানান, স্কুল প্রাচীর ২ ফুট জায়গা ছেড়ে নির্মাণ করা হয়েছে এবং গাছটি সেই ২ ফুটের মধ্যে অবস্থিত। তাই এটি আমার সম্পত্তিতে পড়েছে এবং আমি তা বিক্রি করেছি।
তবে এলাকাবাসীর দাবি, সরকারি বিদ্যালয়ের সীমানার ভেতরে থাকা যেকোনো গাছ সরকারি সম্পত্তির অন্তর্ভুক্ত এবং তা কাটা আইনগতভাবে দণ্ডনীয় অপরাধ। এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন।