কৃষকের মাথায় হাত, সেচ নিয়ে চরম দুশ্চিন্তা।

কক্সবাজারের  কুতুবদিয়ায় তীব্র অনাবৃষ্টি ও দাবদাহে কৃষকের ধানের জমি ফেটে চৌচির হয়ে গেছে। পর্যাপ্ত পানির অভাবে ক্ষেতের সোনালী স্বপ্ন এখন ধুলিসাৎ হওয়ার উপক্রম। গভীর নলকূপ ও শ্যালো ইঞ্জিন চালিয়েও পর্যাপ্ত সেচ দিতে না পেরে চরম বিপাকে পড়েছেন স্থানীয় কৃষকরা।

​মাঠের পর মাঠ ফাটল, হাহাকার কৃষকের মাঝে,​উপজেলার বিভিন্ন মাঠ ঘুরে দেখা গেছে, তীব্র রোদে মাটি শুকিয়ে শক্ত হয়ে বড় বড় ফাটল ধরেছে। অনেক কৃষকের রোপণ করা খেতের কচি চারা শুকিয়ে হলুদ বর্ণ ধারণ করেছে। বৃষ্টির এক ফোঁটা পানির জন্য আকাশের দিকে তাকিয়ে দিন পার করছেন এই জনপদের প্রান্তিক কৃষকরা।

​সেচ সংকট ও অতিরিক্ত খরচের বোঝা,​মাঠের পর মাঠ সেচ দিতে গিয়ে হিমশিম খাচ্ছেন চাষিরা। একদিকে তীব্র খরা, অন্যদিকে ডিজেলের চড়া দাম—সবমিলিয়ে কৃষকদের পকেট থেকে অতিরিক্ত অর্থ বেরিয়ে যাচ্ছে। অনেক এলাকায় শ্যালো মেশিন চালিয়েও ভূগর্ভস্থ পানির স্তর নিচে নেমে যাওয়ায় পর্যাপ্ত পানি উঠছে না।

এদিকে, অপ্রত্যাশিত খরা ও প্রাকৃতিক বিরূপতায় এবার আমন ধানের ফলন বিপর্যয়ের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। ধানের গোড়ার মাটি শুকিয়ে জমি ফেটে চৌচির হয়ে যাওয়ায় অনেক জমির ধান অপরিপক্ব অবস্থায় চিটা হয়ে যাচ্ছে। তথ্য বলছে ,  উপজেলা  কৃষি তথ্য বাতায়ন এবং স্থানীয় সরকারি অফিসের উপাত্ত অনুযায়ী, মোট কৃষি জমির পরিমাণ ৩,৫২০ হেক্টর।

এছাড়া, এবার আমনে ভালো ফলনের প্রত্যাশা ছিল কৃষকদের। কিন্তু শেষ মুহূর্তে এসে সেই প্রত্যাশায় দেখা দিয়েছে শঙ্কা।

মাঠের বর্তমান অবস্থা ঘুরে দেখা গেছে, অধিকাংশ জমির ধান এখন পরিণত হওয়ার পর্যায়ে রয়েছে। শিগগিরই ধানের গোছায় শীষ বের হওয়ার কথা। কিন্তু এ সময় কিছু এলাকায় ধানের গোড়ার মাটি শুকিয়ে জমি ফেটে চৌচির হয়ে গেছে। পানির অভাবে ধানের গোছাগুলো স্বাভাবিকভাবে বেড়ে উঠতে পারছে না। অনেক জমিতে ধান পরিপক্ব হওয়ার আগেই চিটা হয়ে যাচ্ছে। এতে ফলন বিপর্যয়ের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।  শুক্রবার সরেজমিনে উপজেলার দক্ষিণ ধুরুং এ  এমন চিত্র দেখা গেছে। এ সময় গ্রামের প্রান্তিক কৃষক নুর আলম  বলেন, তার ১৬ গণ্ডা জমিতে গত বছর আমনের ফলন ঘরে তুলে প্রায় ৩০ হাজার টাকার ধান বিক্রি করেছিলেন। বাকি ধান দিয়ে সারা বছর পরিবারের চালের চাহিদাও মিটেছিল। কিন্তু এবার জমির প্রায় সব ধানই চিটা হয়ে যাচ্ছে। অর্ধেক ফলনও ঘরে তোলা যাবে না বলে আশঙ্কা করছেন তিনি।

স্থানীয়রা  জানান, আশপাশের কয়েকজন কৃষক কয়েকটি জমিতে পার্শ্ববর্তী পুকুর থেকে সামান্য পানি দিতে পেরেছিলেন। কিন্তু এরপর আর বৃষ্টি না হওয়ায় ফসলের এমন বিপর্যয় হয়েছে। ধানের শীষ বের হওয়ার আগেই জমির মাটি ফেটে চৌচির হয়ে গেছে। সবুজ ধান লালচে রং ধারণ করার আগেই শুকিয়ে যাচ্ছে।

আরেক স্থানীয় কৃষক  হোসেন বলেন, তার দুই কানি জমির ধানের মধ্যে এক কানির ধানই চিটা হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। কী করবেন বুঝতে পারছেন না। 

উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে এ সংকট দেখা দিয়েছে। এতে এবার উপজেলার কয়েক শ একর জমিতে আমনের ফলন বিপর্যয়ের আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

উপজেলা কৃষি অফিস সুত্রে জানা যায়, এবার উপজেলার বেশ কিছু এলাকায় এমন সমস্যা দেখা দিয়েছে। এখন থেকে কৃষকেরা সামান্য হলেও সেচের ব্যবস্থা করতে পারলে পরিস্থিতি সামাল দেওয়া সম্ভব হবে বলে আশা করছেন । এছাড়া প্রতিকূলতা মোকাবিলায় কৃষকদের বিভিন্ন সহায়ক পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।


প্রকাশক : কাজী জসিম উদ্দিন   |   সম্পাদক : ওয়াহিদুজ্জামান

© Deshchitro 2024