জামালপুরের ইসলামপুরে সরকারি খরচে ১০ বছর পর পৈতৃক বসতভিটা পেল এক কৃষক পরিবার। 


ভুক্তভোগী ওই কৃষকের নাম মো. জিয়েল হক। তিনি উপজেলার গাইবান্ধা ইউনিয়নের নাপিতেরচর বলিদাপাড়া আকন্দবাড়ির মৃত জুল হাবেজ আকন্দের ছেলে। 


শনিবার (৭ নভেম্বর) বিকেলে জামালপুর জেলা  লিগ্যাল এইড কর্মকর্তা ও সিনিয়র সিভিল জজ এ. কে. এম ছিফাতুল্লাহ্ সশরীরে উপস্থিত হয়ে উঠান বৈঠকের মাধ্যমে ওই কৃষক পরিবারকে বিরোধপূর্ণ পৈতৃক বসতভিটা দখল বোঝে দেন। 


এর আগে বেলা ১১টার দিকে জামালপুর জেলা  লিগ্যাল এইড কার্যালয়ের সংশ্লিষ্টরা সরেজমিনে এসে বাদী-বিবাদীর উভয় পক্ষের মধ্যে আলোচনা শুরু করেন। এক পর্যায়ে কাগজপত্র ঘেঁটে জমির মালিকানা যাচাই-বাছাইয়ের পর জমির পরিমাফ শেষে বিরোধপূর্ণ বসতভিটা উদ্ধার শেষে ওই কৃষক পরিবারকে দখল দেন। 



এ উপলক্ষে জেলা লিগ্যাল এইড কার্যালের আয়োজনে বলিদাপাড়া আকন্দবাড়িতে সরকারি খরচে আইনগত সহায়তা, আইনি পরামর্শ ও বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তিসংক্রান্ত জনসচেতনতামূলক উঠান বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এতে উপস্থিত ছিলেন জেলা লিগ্যাল এইড কার্যালয়ের অফিস সহকারী রফিকুল ইসলাম, পেশকার সজিবুল ইসলাম, ইসলামপুর থানার সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) বাদল, স্থানীয় বিএনপি নেতা সুলতান আকন্দসহ গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ। এসময় জেলা লিগ্যাল এইডের সুবিধা সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করেন লিগ্যাল এইড কর্মকর্তা ও সিনিয়র সিভিল জজ এ. কে. এম ছিফাতুল্লাহ্। পরে উপস্থিত লোকজনের মাঝে সরকারি খরচে আইনগত সুবিধাসমূহের ফেস্টুন বিতরণ করা হয়। 



জেলা  লিগ্যাল এইড কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, কৃষক জিয়েল হকের পৈতৃক বসতভিটার ১১ শতাংশ জমি দীর্ঘদিন ধরে ভোগদখল করতে পারতে ছিলেন না। এনিয়ে গত ৭ জুলাই ভুক্তভোগী কৃষক জিয়েল হক জেলা  লিগ্যাল এইড কর্মকর্তার বরাবর আইগত সহায়তা প্রদান ও আপোস-মিমাংসার মাধ্যমে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের আবেদন করেন। এতে বিবাদী করা প্রতিবেশী মৃত সাদেক আলী আকন্দের ছেলে লালচাঁন আকন্দসহ ১২ জনকে বিবাদী করা হয়। ওই আবেদনের পেক্ষিতে জমি উদ্ধার শেষে প্রকৃত মালিককে দেওয়া হয়। 


জেলা লিগ্যাল এইড কার্যালয়ের অফিস সহকারী রফিকুল ইসলাম আজকের পত্রিকাকে বলেন, '১১ শতাংশ জমি উদ্ধারের দাবিতে আবেদন করেছিলেন কৃষক জিয়েল হক। উভয় পক্ষের সমঝোতা ভিত্তিতে ৭ শতাংশ জমির দখল বুঝিয়ে বিরোধ নিষ্পত্তি করা হয়েছে। 

জেলা লিগ্যাল এইড কার্যালয়ে আবেদনকারী কৃষক জিয়েল হক বলেন, 'প্রায় ১০ বছর ধরে পৈতৃক বসতভিটা বেদখল ছিলো। আজ সরকারি খরচে বসতভিটার দখল পেলাম।'





প্রকাশক : কাজী জসিম উদ্দিন   |   সম্পাদক : ওয়াহিদুজ্জামান

© Deshchitro 2024