|
Date: 2026-11-01 22:21:45 |
◾মো. ইমন আলী : অনলাইন জুয়া ভয়াবহ সামাজিক ব্যাধি। সামাজিক মূল্যবোধের অবক্ষয়ের অন্যতম মাধ্যম। অনলাইন জুয়া এখন নির্দিষ্ট স্থানে বা জুয়ার আসরে সীমাবদ্ধ নয়। বর্তমানে মোবাইল ফোনের মাধ্যমে ঘরে বসেই বিভিন্ন বেটিং ওয়েবসাইট, ক্যাসিনো এবং অনলাইন গেমের মাধ্যমে অর্থ বাজি ধরার সুযোগ তৈরি হয়েছে।
সাম্প্রতিক সময়ে ঠাকুরগাঁওয়ের বালিয়াডাঙ্গী উপজেলাতে অনলাইন জুয়ার পাদুর্ভাব বেড়েছে। কৃষি, শিক্ষা ও পরিশ্রমী মানুষের সমন্বয়ে গড়ে ওঠা এই জনপদ আজ এক নীরব ভয়াবহ সামাজিক ব্যাধির কবলে অনলাইন জুয়াবাজি। এটি আর কোন বিচ্ছিন্ন কোনো অপরাধ নয় ; বরং একটি সংগঠিত সামাজিক সংকটে পরিণত হয়েছে।
সবচেয়ে উদ্বেগজনক দিক হলো এই জুয়ায় তরুণরা জড়িয়ে পড়েছে। বেকার যুবকদের পাশাপাশি স্কুল-কলেজ পড়ুয়া শিক্ষার্থীরাও জড়িয়ে পড়েছে। অনলাইন গেম, ক্যাসিনোর মতো অনলাইন জুয়া তরুণদের ভবিষ্যৎ ধ্বংসের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
অনলাইন জুয়ায় দ্রুত টাকা আয়, অল্প বিনিয়োগে বড় ধরনের লাভ এবং অল্প সময়ের মধ্যে আর্থিক সচ্ছলতা অর্জনের লোভে তরুণ শিক্ষার্থীরা এই দিকে ধাবিত হচ্ছে। একজনের লাভ হওয়ার ফলে আশপাশের তরুণরাও অনলাইন জুয়ার দিকে আগ্রহ বাড়াচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে অল্প টাকা দিয়ে খেলা শুরু করে সামান্য লাভ হলে খেলোয়ারের মনে বেশি লাভের আকাঙ্খা তৈরি হয়। হারালে সেই ক্ষতি পুষিয়ে নিতে আবারও টাকা বিনিয়োগ করে।
অনলাইন জুয়ার সবচেয়ে বড় বিপদ হচ্ছে টাকা হারানোর পর পুনরায় খেলতে যাওয়া। কেউ নিজের সঞ্চয়, ঋণ, পরিবারে রাখা টাকা কি়ংবা পড়াশোনারর খরচ ব্যবহার করছে। অনেক সময় উপায় না পেয়ে চুরি, ছিনতাই কিংবা অসদ উপায় অবলম্বনের পথ বেছে নিচ্ছে। কেউ কেউ কিশোর গ্যাংয়ের সাথে জড়িয়ে পড়ছে অথবা বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের সাথে জড়িয়ে পড়ছে।
অনলাইন জুয়ার করুণ প্রভাব পড়ে পরিবারে। এটি শুধু ব্যক্তির জীবনে সীমাবদ্ধ থাকে না, পরিবারের অর্থনৈতিকের সাথে যুক্ত। জুয়ায় সর্বস্ব হারিয়ে বহু পরিবারে নেমে এসেছে অশান্তি ও অনিশ্চয়তা। পরিবারে শুরু হয় কলহ, দাম্পত্য ভাঙন ও সহিংসতা।
সবচেয়ে বেশি আসক্ত স্কুল কলেজের কোমলমতি শিক্ষার্থীরা। অনলাইন গেমের কারণে তারা অতিরিক্ত সময় মোবাইলে ব্যয় করছে। পড়াশোনা বা কাজে মনোযোগ কমে যাচ্ছে। অনেকেই শিক্ষা জীবনের মাঝপথে ঝড়ে পড়ছে।
এসব ঘটনার পরও সবচেয়ে হতাশাজনক হলো জুয়া প্রতিরোধে প্রশাসনের কার্যকর ও ধারাবাহিক ভূমিকা খুব একটা চোখে পড়ছে না। এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে সমন্বিত উদ্যােগ গ্রহণ করা জরুরী। প্রশাসনের পাশাপাশি পরিবার,শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, সামাজিক ও ধর্মীয় নেতাদের সক্রিয় ভূমিকা রাখতে হবে। নিয়মিত অভিযান, কঠোর নজরদারি, স্কুল-কলেজে সচেতনামূলক কার্যক্রম এবং গণমাধ্যমের দায়িত্বশীল ভূমিকা সময়ের দাবি।
জুয়া একটি সামাজিক ব্যাধি। যদি বালিয়াডাঙ্গী উপজেলায় এই ব্যাধির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান গ্রহণ না করে তাহলে আগামী দিনে আমরা হারাবো একটি সম্ভাবনাময় প্রজন্ম। সময় এসেছে, বালিয়াডাঙ্গীকে রক্ষা করতে সম্মিলিত প্রতিরোধ গড়ে তোলার।
মো. ইমন আলী
শিক্ষার্থী, মনোবিজ্ঞান বিভাগ, ঢাকা কলেজ
© Deshchitro 2024