|
Date: 2026-10-29 02:11:31 |
ভোলা জেলা শহর থেকে মাত্র তিন কিলোমিটার দূরে অবস্থিত ঐতিহাসিক ‘ভোলা খেয়াঘাট’। ব্রিটিশ আমল থেকে গড়ে ওঠা ঐতিহ্যবাহী এই ঘাটটি একসময় ছিল পুরো জেলার যাত্রী ও পণ্য পরিবহনের অন্যতম প্রধান কেন্দ্রস্থল। তবে যাত্রীসংকট ও লোকসানের অজুহাতে লঞ্চ চলাচল বন্ধ হয়ে যাওয়ায় এখন সেখানে নেমে এসেছে নিস্তব্ধতা।
গত ৫ জুলাই থেকে ভোলা খেয়াঘাট থেকে ঢাকাগামী সর্বশেষ দুটি লঞ্চ ('আবে জমজম-৩' ও 'এমভি কর্ণফুলী-৯') চলাচল পুরোপুরি বন্ধ করে দেয় মালিকপক্ষ। এর আগে নিয়মিত ৮টি লঞ্চ চলাচল করলেও বর্তমানে সব লঞ্চ সদর উপজেলার ইলিশা লঞ্চঘাট থেকে চলাচল করছে। ২০০৪ সালে বিআইডব্লিউটিএ কর্তৃক একমাত্র ‘লেবার হ্যান্ডেলিং পয়েন্ট’ হিসেবে স্বীকৃতি পাওয়া এই ঘাটটিতে এখন আর লঞ্চের নোঙর নেই, নেই কোনো হাঁকডাক।
লঞ্চ বন্ধ হয়ে যাওয়ার প্রভাবে মারাত্মক অর্থনৈতিক সংকটে পড়েছেন স্থানীয় শ্রমজীবী মানুষ ও ব্যবসায়ীরা। কাজ হারিয়ে এখানকার শতাধিক শ্রমিক জীবিকার তাগিদে ছড়িয়ে পড়েছেন বিভিন্ন এলাকায়।
অন্যদিকে, বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন ঘাট ইজারাদাররা। চলতি বছরের ১ জুলাই থেকে ৫২ লাখ ৫৫ হাজার টাকায় এক বছরের জন্য ঘাটটি ইজারা নিলেও মাত্র পাঁচ দিন লঞ্চ চলাচল করার পর তা বন্ধ হয়ে যায়। লোকসান এড়াতে ইজারার টাকা ফেরতের আবেদন জানিয়ে বিআইডব্লিউটিএর চেয়ারম্যান বরাবর চিঠি পাঠিয়েছেন ইজারাদার মো. জাহাঙ্গীর আলম।
লঞ্চ কর্তৃপক্ষের দাবি, যাত্রীসংকটের কারণে লোকসান সামলাতে না পেরে তারা আপাতত সেবা বন্ধ রেখেছেন। ঐতিহ্যবাহী এই ঘাটটির অচলাবস্থা নিরসনে দ্রুত কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হবে কি না—এখন সেটাই দেখার বিষয়।
© Deshchitro 2024