|
Date: 2026-10-28 20:21:47 |
২০০৬ সালের ২৮ অক্টোবর রাজধানীর পল্টনে লগি-বৈঠার সহিংসতায় নিহত শহীদ মুজাহিদুল ইসলাম ও শহীদ গোলাম কিবরিয়া শিপনসহ সেদিনের হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের বিচারের দাবিতে মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী, শ্রীমঙ্গল উপজেলা শাখা।
কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে বুধবার (২৮ অক্টোবর ২০২৬) বাদ মাগরিব শ্রীমঙ্গল-হবিগঞ্জ সড়কের কাঁচারি জামে মসজিদের সামনে থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের হয়। মিছিলটি শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে শ্রীমঙ্গল রেলস্টেশন চত্বরে গিয়ে এক সমাবেশে মিলিত হয়।
শ্রীমঙ্গল উপজেলা জামায়াতের আমির মাওলানা ইসমাইল হোসেনের সভাপতিত্বে এবং উপজেলা জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি ও উপজেলা যুব বিভাগের সভাপতি তারেক মাহফুজের সঞ্চালনায় সমাবেশে বক্তব্য দেন— উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি মো. আশরাফুল ইসলাম কামরুল, কর্মপরিষদ সদস্য মনির মিয়া এবং ইসলামী ছাত্রশিবিরের শ্রীমঙ্গল উপজেলা সভাপতি সফিজ উদ্দিনসহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ।
মিছিল ও সমাবেশে অংশগ্রহণকারীরা বিভিন্ন স্লোগানে রাজপথ মুখরিত করেন। এ সময় ‘ফ্যাসিস্ট স্বৈরাচার শেখ হাসিনার বিচার চাই’, ‘লগি-বৈঠার রাজনীতি চলবে না’, ‘মানুষ হত্যার রাজনীতি চলবে না’, ‘বিচারহীনতার রাজনীতি চলবে না’, ‘দিল্লি নয় ঢাকা, ঢাকা’, ‘অবিলম্বে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করতে হবে’ এবং ‘শহীদদের রক্ত বৃথা যেতে পারে না’ প্রভৃতি স্লোগান দেওয়া হয়।
সমাবেশে বক্তারা বলেন, ২০০৬ সালের ২৮ অক্টোবর ঢাকার রাজপথে লগি-বৈঠা দিয়ে সংঘটিত সহিংসতা ও হত্যাকাণ্ড বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের অন্যতম এক কলঙ্কজনক অধ্যায়। ওই ঘটনার মধ্য দিয়েই দেশে ফ্যাসিবাদী শাসন, গণতন্ত্রের সংকোচন এবং নাগরিক অধিকার হরণের পথ প্রশস্ত হয়েছিল। ঘটনার দুই দশক হতে চললেও বর্বরোচিত এই হত্যাকাণ্ডের বিচার সম্পন্ন না হওয়া অত্যন্ত দুঃখজনক।
বক্তারা আরও অভিযোগ করেন, ২৮ অক্টোবরের হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় মামলা করা হলেও ২০০৯ সালে সরকার পরিবর্তনের পর রাজনৈতিক প্রভাবে তা প্রত্যাহার করা হয় এবং মামলার নথিপত্রও গায়েব করা হয়। ফলে শহীদ পরিবারের সদস্যরা দীর্ঘ দেড় যুগ ধরে ন্যায়বিচারের প্রতীক্ষায় প্রহর গুনছেন।
সমাবেশ থেকে ২৮ অক্টোবরের হত্যাকাণ্ডসংক্রান্ত মামলাগুলো অবিলম্বে পুনরুজ্জীবিত করা, ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত সাপেক্ষে জড়িতদের আইনের আওতায় আনা এবং দ্রুত বিচার নিশ্চিত করার জোর দাবি জানানো হয়। বক্তারা দ্ব্যর্থহীন কণ্ঠে বলেন, জুলাই-পরবর্তী বাংলাদেশে এ দেশের মানুষ আর কোনো বিচারহীনতার সংস্কৃতি দেখতে চায় না।
পরিশেষে সমাবেশে উপস্থিত সকল নেতা-কর্মী ও সমর্থকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা ও ধন্যবাদ জানিয়ে শান্তিপূর্ণভাবে কর্মসূচি সমাপ্ত ঘোষণা করা হয়।
© Deshchitro 2024