|
Date: 2026-10-28 14:09:27 |
খোলপেটুয়া নদীর ভাঙনে সাতক্ষীরার শ্যামনগরের বন্যতলায় প্রায় ৩০০ ফুট বেড়িবাঁধ নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। হুমকিতে রয়েছে বন্যতলা গ্রামসহ পাশের প্রতাপনগর ইউনিয়নের বিস্তীর্ণ এলাকা। বসতভিটা ও জনপদ রক্ষায় মঙ্গলবার রাতেই জিও ব্যাগ নিয়ে বাঁধে ছুটে আসেন সহস্রাধিক মানুষ। বুধবারও ভাঙন ঠেকানোর চেষ্টা চলছিল।
মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) সন্ধ্যা সাড়ে সাতটার দিকে ঝোড়ো হাওয়া ও উত্তাল ঢেউয়ের আঘাতে পদ্মপুকুর ইউনিয়নের বন্যতলা এলাকায় পাউবোর ৭/১ পোল্ডারের বাঁধে ভাঙন দেখা দেয়। কোথাও কোথাও বাঁধের মাত্র এক থেকে দেড় ফুট অংশ অবশিষ্ট রয়েছে। ভাঙনের খবর ছড়িয়ে পড়লে মসজিদের মাইকে এলাকাবাসীকে সতর্ক করা হয়। এরপর স্থানীয় লোকজন স্বেচ্ছাশ্রমে বালুভর্তি জিও ব্যাগ ফেলে ভাঙন প্রতিরোধের কাজ শুরু করেন।
পদ্মপুকুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আমজাদুল ইসলাম বলেন, আগে থেকে প্রস্তুত রাখা জিও ব্যাগ দিয়ে জরুরি ভিত্তিতে ভাঙন ঠেকানোর কাজ চলছে। বুধবারের মধ্যে কাজ শেষ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হবে বলে তিনি আশা করেন।
প্রতাপনগর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হাজী আবু দাউদ ঢালি বলেন, ভাঙনস্থল পদ্মপুকুরে হলেও নদীর পানি ঢুকলে প্রতাপনগরের বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হতে পারে। এ আশঙ্কায় রাত থেকেই স্থানীয় লোকজনকে নিয়ে ভাঙন প্রতিরোধে কাজ করছেন তাঁরা।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, বন্যতলার বাঁধ দীর্ঘদিন ধরে ঝুঁকিপূর্ণ। সংস্কারের জন্য খুলনার ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স বাবুল এন্টারপ্রাইজকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল। হাজার হাজার বালুভর্তি জিও ব্যাগ প্রস্তুত থাকলেও সময়মতো ঝুঁকিপূর্ণ অংশে ফেলা হয়নি। আগে ব্যবস্থা নিলে এ পরিস্থিতি এড়ানো যেত বলে মনে করেন তাঁরা।
স্থানীয় ঘেরমালিক রবিউল ইসলাম বলেন, জিও ব্যাগ সময়মতো ব্যবহার না করায় বাঁধ ধসে পড়েছে। দ্রুত ভাঙন ঠেকানো না গেলে ঘরবাড়ি, কৃষিজমি ও মৎস্যঘেরের ব্যাপক ক্ষতি হতে পারে।
আশাশুনি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শ্যামানন্দ কুন্ডু বলেন, ভাঙনের খবর পেয়ে পাউবোর ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ, সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসক ও শ্যামনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে জানানো হয়েছে।
সাতক্ষীরা পাউবো বিভাগ-২-এর নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আব্দুর রহমান তাযকিয়া বলেন, খবর পাওয়ার পর রাতেই লোক পাঠানো হয়। জিও ব্যাগ প্রস্তুত থাকলেও টাস্কফোর্সের মাধ্যমে সেগুলো গণনা ও চিহ্নিত করার প্রক্রিয়ায় কিছুটা দেরি হয়েছে। বুধবার বিকেলের মধ্যে জিও ব্যাগ ফেলার কাজ শেষ হলে ভাঙন প্রতিরোধ করা সম্ভব হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
দ্রুত ভাঙন ঠেকিয়ে বাঁধের ঝুঁকিপূর্ণ অংশ স্থায়ীভাবে মেরামতের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তাঁদের আশঙ্কা, বাঁধ ভেঙে পানি ঢুকলে বিস্তীর্ণ জনপদের ঘরবাড়ি, কৃষিজমি ও মৎস্যঘেরের পাশাপাশি মানুষের জীবিকাও বিপর্যস্ত হবে।
© Deshchitro 2024