‎
‎উপকূলজুড়ে মাছঘাটে ব্যস্ততা, জাল-নৌকা মেরামতে সময় পার করছেন জেলেরা; বাগেরহাটেও ইলিশ আহরণ ঘিরে প্রত্যাশা
‎
‎মা ইলিশ সংরক্ষণ ও ইলিশের উৎপাদন বাড়াতে টানা ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা শেষ হচ্ছে ২৯ অক্টোবর মধ্যরাতে। নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের পরপরই নদীতে মাছ ধরতে নামার প্রস্তুতি নিচ্ছেন উপকূলীয় এলাকার জেলেরা। জাল মেরামত, নৌকা প্রস্তুত করা এবং মাছ ধরার সরঞ্জাম ঠিকঠাক করতে ব্যস্ত সময় পার করছেন তাঁরা। বাগেরহাটের মোংলা, রামপাল, শরণখোলা ও মোড়েলগঞ্জসহ উপকূলীয় জনপদে ইলিশ আহরণকে ঘিরে জেলেদের মধ্যে নতুন প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে।
‎
‎মৎস্য খাতসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের আশা, নিষেধাজ্ঞা কার্যকরভাবে বাস্তবায়িত হলে ইলিশের প্রজনন ও বংশবিস্তারে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে। এতে ভবিষ্যতে ইলিশের উৎপাদন বাড়ার পাশাপাশি জেলেদের জীবিকা ও উপকূলীয় অর্থনীতিও উপকৃত হতে পারে।
‎
‎অভিযানের পর নদীতে ফেরার অপেক্ষা
‎
‎নিষেধাজ্ঞার সময় নদীতে মাছ ধরা বন্ধ থাকায় উপকূলের অনেক জেলে পরিবারকে সীমিত আয় ও সরকারি সহায়তার ওপর নির্ভর করতে হয়েছে। এ সময়ে নৌকা ও জাল মেরামত করে পরবর্তী মৌসুমের প্রস্তুতি নিয়েছেন তাঁরা। নিষেধাজ্ঞা শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে নদীতে নেমে মাছ আহরণের পরিকল্পনা করছেন জেলেরা।
‎
‎বাগেরহাটের মোংলা ও আশপাশের এলাকার জেলেদের জীবিকার সঙ্গে পশুর, মোংলা ও সুন্দরবনসংলগ্ন নদ-নদীর মৎস্যসম্পদ ঘনিষ্ঠভাবে জড়িত। ইলিশের পাশাপাশি বিভিন্ন প্রজাতির মাছ আহরণ, পরিবহন ও বাজারজাতকরণের সঙ্গে যুক্ত আড়তদার, ব্যবসায়ী, শ্রমিক এবং ক্ষুদ্র উদ্যোক্তারাও এ সময়ের ওপর নির্ভরশীল।
‎
‎তবে নদীতে ইলিশের প্রাপ্যতা, আবহাওয়া, জ্বালানি ব্যয় এবং মাছ ধরার সরঞ্জামের খরচের ওপর জেলেদের আয় অনেকাংশে নির্ভর করবে।
‎
‎সুন্দরবনসংলগ্ন নদীতেও সতর্কতা জরুরি
‎
‎বাগেরহাটের উপকূলীয় অঞ্চলে ইলিশ আহরণের পাশাপাশি সুন্দরবনসংলগ্ন নদ-নদীর সামগ্রিক মৎস্যসম্পদ রক্ষা করাও গুরুত্বপূর্ণ। নিষেধাজ্ঞা শেষ হলেও অন্যান্য প্রচলিত মৎস্য আইন, নির্দিষ্ট এলাকায় মাছ ধরার বিধিনিষেধ এবং জালের ব্যবহারসংক্রান্ত নিয়ম মেনে চলতে হবে।
‎
‎বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রজনন মৌসুমে মা ইলিশ রক্ষা এবং ছোট ইলিশ বা জাটকা সংরক্ষণ করা গেলে দীর্ঘ মেয়াদে মাছের উৎপাদন ও জেলেদের আয়—দুই ক্ষেত্রেই সুফল পাওয়া সম্ভব। এ জন্য নিষেধাজ্ঞার সময় আইন প্রয়োগের পাশাপাশি জেলেদের জন্য পর্যাপ্ত খাদ্যসহায়তা ও বিকল্প জীবিকার সুযোগ নিশ্চিত করাও জরুরি।
‎
‎সহায়তা ও নজরদারি অব্যাহত রাখার দাবি
‎
‎উপকূলীয় জেলেদের প্রত্যাশা, নিষেধাজ্ঞা শেষে নদীতে পর্যাপ্ত ইলিশ পাওয়া যাবে এবং দীর্ঘ বিরতির পর তাঁরা পরিবারের জীবিকা নির্বাহের মতো আয় করতে পারবেন। তবে মাছের উৎপাদন বাড়ার সুফল পেতে হলে নদীর পরিবেশ রক্ষা, অবৈধ জাল বন্ধ এবং নিয়মিত নজরদারি নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
‎
‎নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের পর বাগেরহাটসহ উপকূলীয় অঞ্চলের মাছঘাটগুলো আবারও কর্মচঞ্চল হয়ে উঠবে—এমন প্রত্যাশা স্থানীয় মৎস্য খাতসংশ্লিষ্টদের। এখন জেলেদের অপেক্ষা নদীতে নামার এবং জালভরা ইলিশ নিয়ে ঘাটে ফেরার।

‎
প্রকাশক : কাজী জসিম উদ্দিন   |   সম্পাদক : ওয়াহিদুজ্জামান

© Deshchitro 2024