|
Date: 2026-10-23 15:18:20 |
দীর্ঘ ২১ বছরের গবেষণা ও নিরলস প্রচেষ্টায় ২৫টি ধানের জাত উদ্ভাবনকারী কৃষক সেন্টু কুমার হাজংয়ের কৃষি কার্যক্রম সরেজমিনে পরিদর্শন করেছেন শেরপুরের জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মিজ্ ফরিদা ইয়াসমিন। শুক্রবার (২৩ অক্টোবর ২০২৬) নালিতাবাড়ী উপজেলার নয়াবিল ইউনিয়নের চাঁদকুড়িয়া গ্রামে গিয়ে তিনি সেন্টু হাজংয়ের উদ্ভাবিত ধানের জাত ও কৃষি কার্যক্রম সম্পর্কে খোঁজখবর নেন।
সেন্টু কুমার হাজংয়ের ২১ বছরের গবেষণায় ২৫টি ধানের জাত উদ্ভাবনের খবর বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত হওয়ার পর জেলা প্রশাসক তাঁর উদ্যোগ সরেজমিনে দেখতে যান। এ সময় তিনি কৃষকের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন এবং তাঁর উদ্ভাবনী প্রচেষ্টা, অভিজ্ঞতা ও কৃষিক্ষেত্রে অবদান সম্পর্কে অবগত হন।
সেন্টু কুমার হাজংয়ের উদ্ভাবিত ২৫টি ধানের জাতের মধ্যে ২২টি আমন ধানের জাত। এসব জাতের দানার আকৃতি, রং ও গাছের বৈশিষ্ট্যে রয়েছে ভিন্নতা। কোনো জাতের ধান চিকন, কোনোটি মোটা দানার। আবার কোনো জাতের দানা সোনালি, কোনোটি লালচে-কালো বর্ণের। যথাযথ বৈজ্ঞানিক মূল্যায়নের মাধ্যমে এসব জাতের সম্ভাবনা যাচাই করা গেলে দেশের কৃষিতে নতুন সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে।
নালিতাবাড়ীর এই কৃষকের প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষাজীবন এসএসসি পর্যন্ত। একটি বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থার মাধ্যমে কৃষিবিষয়ক প্রাথমিক প্রশিক্ষণ নেওয়ার পাশাপাশি বাংলাদেশ পরমাণু কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের (বিনা) অধীনে ব্রিডিং বিষয়ে মাত্র ১০ দিনের প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেন তিনি। এরপর নিজের অভিজ্ঞতা, মেধা, শ্রম ও অধ্যবসায়কে কাজে লাগিয়ে দীর্ঘ ২১ বছর ধরে ধানের জাত উদ্ভাবনে কাজ করে যাচ্ছেন।
তবে দীর্ঘদিনের গবেষণায় উদ্ভাবিত জাতগুলোর আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি এখনো পাননি সেন্টু কুমার হাজং। ফলে তাঁর উদ্ভাবিত ধানের জাতগুলোর বৈজ্ঞানিক মূল্যায়ন, ফলন ও অন্যান্য কৃষিগুণ যাচাই এবং সম্ভাব্য উপযোগিতা নির্ধারণের বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
সেন্টু হাজংয়ের এই উদ্যোগ তৃণমূল পর্যায়ে কৃষকের উদ্ভাবনী সক্ষমতার একটি উল্লেখযোগ্য দৃষ্টান্ত। যথাযথ বৈজ্ঞানিক পরীক্ষা-নিরীক্ষা, কারিগরি সহায়তা ও প্রাতিষ্ঠানিক মূল্যায়নের মাধ্যমে তাঁর গবেষণার সম্ভাবনা আরও বিস্তৃত হতে পারে।
জেলা প্রশাসকের সরেজমিন পরিদর্শন স্থানীয় পর্যায়ে কৃষকের উদ্ভাবনী উদ্যোগকে সামনে আনার ক্ষেত্রে তাৎপর্যপূর্ণ। দীর্ঘদিনের গবেষণায় উদ্ভাবিত ধানের জাতগুলোর যথাযথ মূল্যায়ন ও স্বীকৃতি পেলে তা সেন্টু কুমার হাজংয়ের গবেষণাকে এগিয়ে নেওয়ার পাশাপাশি শেরপুরের কৃষিতেও নতুন সম্ভাবনা সৃষ্টি করতে পারে।
এ বিষয়ে সেন্টু কুমার হাজং বলেন, “দীর্ঘ সময় অতিবাহিত হলেও শেরপুরের জেলা প্রশাসক মহোদয় আমার উদ্ভাবনী ২৫টি ধানের জাত-এর বিষয়ে খোঁজখবর নেওয়ায় আমি অত্যন্ত আনন্দিত ও গর্বিত। তাঁর এই আগ্রহ ও উদ্যোগ আমাকে অনুপ্রাণিত করেছে।”
© Deshchitro 2024