কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে পৈতৃক সম্পত্তি নিয়ে বিরোধের জেরে বসতবাড়ির টিনের বেড়া ও জানালার থাই গ্লাস ভাংচুর, মাটি কেটে আবাসিক ভবন ঝুঁকিপূর্ণ করে তোলা এবং প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। উপজেলার উজিরপুর ইউনিয়নের জগমোহনপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। এই ঘটনায় চৌদ্দগ্রাম থানায় দু’পক্ষের পাল্টাপাল্টি লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। অভিযুক্তরা হলো: উপজেলা উজিরপুর ইউনিয়নের জগমোহনপুর এলাকার মৃত আবুল বাশারের ছেলে আব্দুল ওয়াদুদ (৪৭), মৃত আবদুল বারেকের ছেলে ফারুক (৪০), পারভেজ (৩৫), ০৩নং কালিকাপুর ইউনিয়নের কাশিপুর এলাকার আবদুল হাকিমের ছেলে সামছু মিয়া (৪৫), সামছু মিয়ার ছেলে সবুজ (২৮), সুজন (২৪), শুভ (২৪), অজ্ঞাতনামা ২০/২৫ জন। মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) বিকেলে বিষয়টি নিশ্চিত করেন চৌদ্দগ্রাম মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মুহাম্মদ আরিফ হোছাইন। থানায় দায়েরকৃত অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার শীতলিয়া মৌজায় আব্দুল কুদ্দুছের বাবার রেখে যাওয়া সম্পত্তি উত্তরাধিকারীদের মধ্যে ভাগ-বণ্টনের পর দীর্ঘদিন যাবৎ তাঁরা নিজ নিজ অংশ ভোগ দখল করে আসছেন। তবে সম্পত্তির একটি অংশ নিয়ে তাঁর সৎ ভাই আব্দুল ওয়াদুদের সঙ্গে বিরোধ চলে আসছিল। এ নিয়ে আদালতে একটি মামলা চলমান রয়েছে। সোমবার (১৯ অক্টোবর) সকালে আব্দুল ওয়াদুদসহ কয়েকজন ব্যক্তি এবং অজ্ঞাতনামা আরও ২০ থেকে ২৫ জন লোক বিরোধপূর্ণ সম্পত্তিতে গিয়ে তাঁর বসতবাড়ির চারপাশের টিনের বেড়া ও ঘরের জানালার থাই গ্লাস ভাংচুর করে। তাঁর পাকা বসতঘরের পূর্ব পাশে মাটি কেটে নেওয়া হয়েছে। এতে দোতলা ভবনটি ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এ সময় বাধা দিতে গেলে আবদুল কুদ্দুছকে মারধর ও হত্যার হুমকি দেয়। আব্দুল কুদ্দুছ বলেন, বিরোধপূর্ণ সম্পত্তি নিজেদের মধ্যে সুষ্ঠুভাবে ভাগ-বণ্টন করে যার যার অংশ বুঝে নেওয়ার জন্য আমি একাধিকবার অনুরোধ করেছি। আমার সৎ ভাই তার অংশ অন্য মৌজায় নিয়ে ২০ বছর আগেই বিক্রি করে দিয়েছে। আমি এ জমি ৪০ বছর ধরে ভোগ দখল করে আসছি। তারা সন্ত্রাসী বাহিনী দিয়ে প্রতিদিন আমাকে হুমকি দিচ্ছে। যারফলে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে আমি চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি। অভিযুক্ত আবদুল ওয়াদুদ বলেন, আমি আমার বাবার প্রথম সংসারের ছেলে। আমার দাদার আগে আমার বাবা মারা যান। আমি অনেক কষ্ট করে আমার সৎ ভাই বোনসহ ১০ জনের সংসারের সকল খরচ চালিয়েছি। বন্টন অনুসারে এ জায়গায় আমার অংশীদারিত্ব রয়েছে। আমার ভাইয়েরা তাদের অংশে বসতঘর গড়ে তুলে বসবাস করে আসছে। ২০২৩ সালে আমার অংশের জায়গা খারিজ খতিয়ান করে আর্থিক সংকটে পড়ে জায়গাটি বিক্রি করেছি। আমার ভাইয়েরা এ জায়গা নিয়ে ঝামেলা করছেন। ভেকু দিয়ে মাটি কাটার বিষয়ে ফারুক বলেন, আমি আমার নিজস্ব পৈতৃক সম্পত্তিতে বসতবাড়ি করার লক্ষ্যে মাটি কেটে ভরাট করছি। কুদ্দুছের ঘরের পেছনে প্রায় ১০ ফুট জায়গা রেখে মাটি কাটা হচ্ছে। তার বিল্ডিং এর ক্ষতি করার মত আমার কোন অসৎ উদ্দেশ্য নেই। এ বিষয়ে চৌদ্দগ্রাম মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মুহাম্মদ আরিফ হোছাইন বলেন, উপজেলা উজিরপুর ইউনিয়নের শীতলিয়া এলাকায় জমি সংক্রান্ত বিরোধ নিয়ে দুই পক্ষই পাল্টাপাল্টি অভিযোগ করেছে। তদন্ত সাপেক্ষে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
প্রকাশক : কাজী জসিম উদ্দিন   |   সম্পাদক : ওয়াহিদুজ্জামান

© Deshchitro 2024