গণতন্ত্রের অন্যতম প্রধান ভিত্তি হলো স্বাধীন গণমাধ্যম ও নির্ভীক সাংবাদিকতা। সমাজের অনিয়ম, দুর্নীতি, সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি, অন্যায়-অবিচার এবং জনস্বার্থবিরোধী কর্মকাণ্ডের চিত্র তুলে ধরে সাংবাদিকরা রাষ্ট্র ও সমাজের প্রতি গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন। তাই সাংবাদিকদের নিরাপত্তা, মর্যাদা ও পেশাগত স্বাধীনতা নিশ্চিত করা সময়ের অন্যতম দাবি। সাংবাদিকরা যখন ভয়ভীতি, হুমকি, হামলা, হয়রানি কিংবা মিথ্যা মামলার আশঙ্কা ছাড়াই দায়িত্ব পালন করতে পারবেন, তখনই সাধারণ মানুষের প্রকৃত সমস্যাগুলো সংবাদমাধ্যমে উঠে আসবে। অন্যদিকে, সাংবাদিকদের কণ্ঠ রোধ করা হলে মানুষের তথ্য জানার অধিকার বাধাগ্রস্ত হয় এবং জবাবদিহিমূলক সমাজ প্রতিষ্ঠার পথ সংকুচিত হয়ে পড়ে। একটি স্বাধীন ও দায়িত্বশীল গণমাধ্যম রাষ্ট্রের ভুল-ত্রুটি তুলে ধরে, ক্ষমতার অপব্যবহার প্রতিরোধে ভূমিকা রাখে এবং জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠায় সহায়তা করে। এ কারণে সাংবাদিকদের ওপর হামলা বা পেশাগত দায়িত্ব পালনে বাধা শুধু একজন ব্যক্তির ওপর আঘাত নয়; এটি স্বাধীন সাংবাদিকতা ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের জন্যও উদ্বেগের বিষয়। সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর পদক্ষেপ, সাংবাদিক নির্যাতনের ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত, দোষীদের আইনানুগ বিচার এবং সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা রক্ষায় সম্মিলিত উদ্যোগ প্রয়োজন। একই সঙ্গে সাংবাদিকদেরও বস্তুনিষ্ঠতা, সত্যনিষ্ঠা, পেশাগত নৈতিকতা ও জনস্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে। মনে রাখতে হবে, স্বাধীন সাংবাদিকতা ছাড়া জনগণের কাছে সত্য ও সঠিক তথ্য পৌঁছানো কঠিন। আর তথ্যপ্রাপ্তির অধিকার ও জবাবদিহি দুর্বল হলে গণতন্ত্রও ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তাই সময়ের দাবি একটাই—সাংবাদিকের নিরাপত্তা নিশ্চিত হোক, সত্য প্রকাশের স্বাধীনতা অক্ষুণ্ন থাকুক। কারণ, সাংবাদিক বাঁচলে সংবাদ বাঁচবে, সংবাদ বাঁচলে গণতন্ত্র বাঁচবে
প্রকাশক : কাজী জসিম উদ্দিন   |   সম্পাদক : ওয়াহিদুজ্জামান

© Deshchitro 2024