প্রস্তাবিত ‘উত্তর সাতকানিয়া’
উপজেলা গঠন
নিয়ে বিরোধিতার
প্রসঙ্গে দোহাজারীবাসীকে
‘ষড়যন্ত্রকারী’ আখ্যা দেওয়ার অভিযোগে চট্টগ্রাম-১৪ আসনের
সংসদ সদস্য
জসিম উদ্দিন
আহমেদের বিরুদ্ধে
বিক্ষোভ মিছিল
ও প্রতিবাদ
সমাবেশ করেছেন
দোহাজারীর বাসিন্দারা।
মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) রাতে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের
দোহাজারী এলাকায়
এ কর্মসূচি
পালন করা
হয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা
যায়, সম্প্রতি
সাতকানিয়ার পুরানগড় শরফুদ্দীন উচ্চবিদ্যালয়ের এক
সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে
প্রধান অতিথির
বক্তব্যে সংসদ
সদস্য জসিম
উদ্দিন আহমেদ
প্রস্তাবিত ‘উত্তর সাতকানিয়া’ উপজেলা গঠনের
বিরোধিতার প্রসঙ্গে দোহাজারীর অবস্থানকে ইঙ্গিত
করে সংশ্লিষ্টদের
‘ষড়যন্ত্রকারী’ হিসেবে আখ্যা দেন বলে
অভিযোগ ওঠে। একই অনুষ্ঠানে তিনি উত্তর
সাতকানিয়াবাসীকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান।
সংসদ সদস্যের বক্তব্যের
ভিডিও ও
সংবাদ সামাজিক
যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর দোহাজারীতে
ক্ষোভের সৃষ্টি
হয়।
এর জেরে
মঙ্গলবার রাতে
বিক্ষুব্ধ বাসিন্দারা রাজপথে নেমে আসেন। ‘এমপি সাহেব জানেন নাকি,
দোহাজারীর ভোটে এমপি আপনি?’—এমন
স্লোগানে মুখর
হয়ে ওঠে
এলাকা।
এ সময়
‘এমপি সাহেব
জানেন নাকি,
ষড়যন্ত্রের মূল নায়ক আপনি’ এবং
‘চেয়েছিলাম অধিকার, হয়ে গেলাম ষড়যন্ত্রকারী’—এমন স্লোগানও
শোনা যায়।
বিক্ষোভ মিছিলটি চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের
দোহাজারী সদর
ও হাসপাতাল
এলাকা প্রদক্ষিণ
করে দোহাজারী
পুলিশ বক্সের
সামনে গিয়ে
শেষ হয়। পরে সেখানে সংক্ষিপ্ত সমাবেশ
অনুষ্ঠিত হয়। সমাবেশে বক্তারা দোহাজারীকে ঐতিহাসিক
ও গৌরবময়
জনপদ উল্লেখ
করে বাসিন্দাদের
‘ষড়যন্ত্রকারী’ আখ্যা দেওয়ার বক্তব্যের প্রতিবাদ
জানান।
তাদের দাবি,
এমন মন্তব্য
স্থানীয় জনগণের
মর্যাদা ক্ষুণ্ন
করে এবং
প্রতিবেশী এলাকার মানুষের মধ্যে ভুল-বোঝাবুঝি তৈরি
করতে পারে।
সমাবেশ থেকে আগামী
২৪ ঘণ্টার
মধ্যে সংসদ
সদস্যকে তার
বক্তব্য প্রত্যাহার
করে দোহাজারীবাসীর
কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে
ক্ষমা চাওয়ার
আহ্বান জানানো
হয়।
অন্যথায় লাগাতার
কর্মসূচির মাধ্যমে বৃহত্তর আন্দোলন গড়ে
তোলার হুঁশিয়ারি
দেন বিক্ষুব্ধরা। এ ছাড়া, আন্দোলনকারীদের অভিযোগ,
ওই ঘটনার
পর রাতে
তাদের বাড়িতে
পুলিশি হয়রানি
শুরু হয়েছে।
এদিকে, এ ঘটনাকে
কেন্দ্র করে
দোহাজারী ও
পার্শ্ববর্তী ছয় ইউনিয়নের মানুষের পারস্পরিক
সম্পর্ক এবং
প্রশাসনিক সুবিধা নিয়ে নতুন করে
প্রশ্ন উঠেছে। স্থানীয়দের একাংশের প্রশ্ন, দোহাজারীবাসী
কারও সঙ্গে
বিরোধে না
জড়িয়েও কেন
প্রতিবেশী এলাকার মানুষের কাছে নেতিবাচকভাবে
উপস্থাপিত হচ্ছেন? জনপ্রতিনিধি ও স্থানীয়
নেতৃত্বের ভূমিকা কি দুই এলাকার
মানুষের মধ্যে
দূরত্ব কমাচ্ছে,
নাকি বিভেদ
বাড়াচ্ছে?
দোহাজারীর উন্নয়ন ও
প্রশাসনিক সুবিধা নিশ্চিত করার উদ্যোগকে
পার্শ্ববর্তী ছয় ইউনিয়নের মানুষের স্বার্থের
বিপরীতে দেখার
কোনো কারণ
নেই বলে
মনে করছেন
সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।
তাদের মতে,
দুই এলাকার
মানুষের মধ্যে
আর্থিক, ব্যবসায়িক
ও পারিবারিক
সম্পর্ক দীর্ঘদিনের। তাই প্রশাসনিক সুবিধা ও
উন্নয়ন পরিকল্পনা
নিয়ে মতপার্থক্য
থাকলেও তা
যেন পারস্পরিক
বিরোধে রূপ
না নেয়।
দোহাজারীর উন্নয়ন মানেই
প্রতিবেশী এলাকার ক্ষতি নয়।
বরং পারস্পরিক
সহযোগিতা, আস্থা ও ঐক্যের ভিত্তিতে
প্রশাসনিক সুবিধা নিশ্চিত করা গেলে
উভয় এলাকার
মানুষ উপকৃত
হতে পারেন। এ জন্য আবেগ বা
গুজবের ভিত্তিতে
কাউকে দোষারোপ
না করে
বিভেদের কারণ
চিহ্নিত করা
এবং জনপ্রতিনিধিদের
ভূমিকা ও
বক্তব্যের জবাবদিহি নিশ্চিত করা জরুরি।
এখন প্রশ্ন—দোহাজারী
ও পার্শ্ববর্তী
ছয় ইউনিয়নের
মানুষের ঐক্য
ও সম্মিলিত
উন্নয়নের পথে
বাধা কোথায়?
কারা সেই
বাধা দূর
করতে ভূমিকা
রাখবেন?