পেটে গজ রেখে সেলাই করা বিথী আক্তার, মামলা না করার শর্তে টাকা নেন বিথীর স্বামী



ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে বিথী আক্তারের সিজারের সময় পেটে গজ রেখে সেলাই করা হয়েছিল বলে এমন অভিযোগ উঠেছে। পরবর্তী সময়ে তার চিকিৎসা ও শারীরিক অবস্থার অবনতি নিয়ে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে অবহেলার অভিযোগও করেন পরিবারের স্বজনরা।


এদিকে, একটি স্ট্যাম্পে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে আর্থিক সহায়তা নেওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে। ১০০ টাকার নন-জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পে করা ওই লিখিত চুক্তিতে ভবিষ্যতে রোগীর পরিবার হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কাছে কোনো আইনি ব্যবস্থা বা আর্থিক দাবি করবে না বলে উল্লেখ রয়েছে। সেখানে আর্থিক সহায়তার পরিমাণ ৫৫ হাজার টাকা উল্লেখ করা হয়েছে বলে জানা গেছে। নথিতে বিথির স্বামী রাকিবুল ইসলামের স্বাক্ষরও রয়েছে।


তবে বিষয়টি নিয়ে নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করেছেন রাকিবুল। বিথীর মৃত্যুর পর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দেওয়া এক স্ট্যাটাসে তিনি দাবি করেন, ওই সময় তার কাছে মাত্র ২০ হাজার টাকা ছিল এবং হাসপাতালের বকেয়া বিলসহ নানা আর্থিক চাপের মধ্যে পড়েছিলেন। এ পরিস্থিতিতে তিনি স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর করে ৫০ হাজার টাকা নিয়েছিলেন বলেও জানান।


রাকিবুলের ভাষ্য, সে সময় পরিবারের ভবিষ্যৎ ও আর্থিক পরিস্থিতি বিবেচনা করেই তিনি ওই সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। পরে বীথির মৃত্যুর পর ঘটনাটি নিয়ে তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজের বক্তব্য তুলে ধরেন।


গত ৬ মে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে বিথীর সিজারিয়ান অস্ত্রোপচার করা হয়। অস্ত্রোপচারের পর তার পেটে গজ রেখে সেলাই দিয়ে দেওয়া হয়। এরপর থেকেই বিথী তীব্র যন্ত্রণা ও দীর্ঘ জটিলতায় ভুগেন।


শারীরিক অবস্থার আশঙ্কাজনক অবনতি হলে প্রথম অস্ত্রোপচারের প্রায় দুই মাস পর ১৫ জুলাই আবারও অস্ত্রোপচার করাতে হয়। চিকিৎসাধীন থাকাকালীন অবস্থার অবনতি হলে তাকে কয়েকদিন আইসিইউতে রাখা হয়।


রাকিবুল বলেছিলেন, ধীরে ধীরে তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হ‌লে উন্নত চিকিৎসার জন্য ৪ অক্টোবর বিথীকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সকাল সাড়ে ৮টার দিকে তার মৃত্যু হয়।


বিথী আক্তার (২৫) রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার উজানচর ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের জামতলার হাট সংলগ্ন জ্যেতিনবর্দিপাড়া গ্রামের রাকিবুল ইসলামের স্ত্রী। তিনি ফরিদপুর শহরের একটি নার্সিং কলেজের শিক্ষার্থী ছিলেন। পাশাপাশি ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রশিক্ষণার্থী হিসেবে কাজ করতেন।


ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের উপপরিচালক ও ভারপ্রাপ্ত পরিচালক মানস কৃষ্ণ কুণ্ডু বলেন, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের টাকা দেওয়ার বিষয়টি জানা নেই। তবে বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে বলে শুনেছি।


তিনি আরও বলেন, বিথির চিকিৎসার জন্য একটি মেডিকেল বোর্ড গঠন করা হয়েছিল। বোর্ডের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী তাকে ঢাকায় পাঠানো হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছে সে। বিথীর চিকিৎসায় কোনো ধরনের অবহেলা হয়েছিল কি না, তা খতিয়ে দেখতে ছয় সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। হাসপাতালের সার্জারি বিভাগের প্রধান স্বপন কুমার বিশ্বাসকে কমিটির প্রধান করা হয়েছে। কমিটিকে ১০ দিনের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে।


মানস কৃষ্ণ কুণ্ডু বলেন, তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।



প্রকাশক : কাজী জসিম উদ্দিন   |   সম্পাদক : ওয়াহিদুজ্জামান

© Deshchitro 2024