|
Date: 2026-09-30 08:35:39 |
◾তানজিনা আক্তার ইমু : লালমাটিয়া সরকারি মহিলা কলেজ একটি সুনামধন্য প্রতিষ্ঠান। এটি ১৯৬৬ সালে ঢাকায় মোহাম্মদপুর এর লালমাটিয়া এলাকায় এই কলেজটি প্রতিষ্ঠিত হয়।এর যাত্রা শুরু তে বেসরকারি প্রতিষ্ঠান হিসেবে চলছিলো।পরবর্তীতে হয়ে উঠে একটি সরকারি প্রতিষ্ঠান। নারী শিক্ষার অগ্রযাত্রায় বিরাট ভুমিকা রেখে আসছে এই লালমাটিয়া মহিলা কলেজ। কলেজটি সময়ের সাথে সাথে হয়ে উঠে জাতীয় পর্যায়ে 'সেরা মহিলা কলেজ'।
কিন্তু সেরা বললেই কি সবকিছু সেরা হয়?? প্রতিষ্ঠার পর থেকে উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষার্থীদের ঘিরে নানান আয়োজন,অবকাঠামো গঠন। পরবর্তীতে কলেজটিতে চালু হয় অনার্স ও মাস্টার্স। অনার্স-মাস্টার্স চালু হওয়ায় কলেজটির সুনাম দিনদিন বেড়েই চলছিলো। পড়াশোনার মান,ভালো ভবিষ্যত গড়ে তুলতে সরকার এই কলেজটি কে সরকারি করণ করে দেয়।
সরকারি একটা প্রতিষ্ঠানে এত অনিয়ম, এত অবহেলা কেন? জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে কলেজটি বিশাল একটা সম্মানের জায়গা ধরে রাখে বরাবরই। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা কখনোই পরিপূর্ণ সুযোগ সুবিধা পায়নি। ঢাকায় একজন শিক্ষার্থী যখন পড়াশোনা করার উদ্দেশ্য আসে, তখন তার কতকিছুই ছেড়ে দিয়ে এই যান্ত্রিক শহরে মানিয়ে নিতে হয় প্রতিটি মুহূর্তে।এত কষ্ট, এত ত্যাগ শিকার কেন করে! শিক্ষা অর্জন করতে গিয়ে প্রতিনিয়ত দুর্নীতি আর কিছু দালালদের সম্মুখীন হতে হয়। লালমাটিয়া সরকারি মহিলা কলেজে রয়েছে নিজস্ব হল।দূরদূরান্ত থেকে আসা শিক্ষার্থীদের জন্য থাকার সুযোগ রয়েছে। কিন্তু হল হয়ে গেছে মরণ ফাঁদ।সেদিন আমার সহপাঠী সুমাইয়া আলম মীম গুরুতর জ্বর তবুও হল কর্তৃপক্ষ তেমন কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করেনি।পরবর্তীতে মেডিকেল নিয়ে গেলে পরীক্ষা নিরিক্ষার মাধ্যমে জানা যায় যে ডেঙ্গু জ্বর হয়েছে।অতঃপর চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যায় মীম।মারা যাওয়ার পর এই ঘটনাকে এখন ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করতেছে।কারণ কলেজ কর্তৃপক্ষ যে অবহেলা করেছে এটা প্রকাশ্যে চলে আসবে।আমরা একজন মেধাবী শিক্ষার্থী কে হারিয়েছি।আর কতো মিম কে আমরা হারাবো?সরকারি একটা হল সেখানে এত অনিয়ম এত অবহেলা কেন হবে?প্রতিবছর চিকিৎসা ভাতা বাবদ নেওয়া হয় ৬০০ টাকা। তাহলে কি ইনকাম করাটাই এখানে প্রধান বিষয়? হল কর্তৃক দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তা দের আচরণ ও অত্যন্ত নিকৃষ্ট। একটা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী সন্ধ্যা ৭ টা হলেই আর বের হতে পারে না, কেন এমন নিয়ম? জীবন জীবিকার তাগিদে অনেক শিক্ষার্থী টিউশন, পার্ট টাইম জব করে নিজেদের ভরণপোষণের দায়িত্ব নেয়,পড়াশোনার খরচ চালায়।সেখানে সন্ধ্যা হলেই গেইট বন্ধ। গুরুতর সমস্যা হলেও নিয়মের দোহাই দিয়ে আঁটকে রাখে। শুধু কি এটাই, খাবার টুকু পর্যন্ত স্বাস্থ্যসম্মত নয়।খাবারে অনেক সময় ময়লা পাওয়া যায়, আলুর খোসা,ডিমের খোসা,চুল,এমনকি পোকা।কেন এত অস্বাস্থ্যকর খাবার দেওয়া হবে শিক্ষার্থীদের।আমরা এমন হল চাই না। হলে সুরক্ষা নিশ্চিত করতে হবে,প্রয়োজনীয় সকল অবকাঠামো গ্রহণ করতে হবে।বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ুয়া মেয়েদের হলে বিশেষ নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে, এবং সন্ধ্যা হলেই আঁটকে রাখা যাবে না। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য হল চাই আরো।সুন্দর স্বাভাবিক পরিবেশে পড়াশোনা হোক এটাই সবার চাওয়া।
এছাড়াও ক্যাম্পাসে নেই কোনো বাস,যাতায়াতে হয় বিশাল সমস্যা। কেন বাস নেই?
লোকাল বাসে প্রতিনিয়ত ভোগান্তির শিকার হতে হয় শিক্ষার্থীদের।আজ যদি ক্যাম্পাসের নিজস্ব বাস থাকতো এত ভোগান্তি হতো না।আমরা শিক্ষার্থীরা চাই সামান্য একটু স্বস্তি, একটু নিরাপত্তা,পরিশেষে চাই সুবিধা। লালমাটিয়া সরকারি মহিলা কলেজ সুনামধন্য হওয়ার পরেও পিছিয়ে রয়েছে। কেননা দূর্নীতির কবলে পড়ে গেছে। দূর্নীতি থেকে মুক্তি চাই, ক্যাম্পাস সুন্দর স্বাভাবিক চাই।সরকার মহিলাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পিংক বাস চালু করছে। অথচ এত সুনামধন্য একটা প্রতিষ্ঠানের কোনো বাস নেই। এটা কি আমাদেরকে অধিকার থেকে বঞ্চিত করা হলো না? আমাদের কে বাস দেওয়া হোক এটা জোরপূর্বক দাবি। হল দেওয়া হোক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য, তার সাথে হলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হোক।
পার্শ্ববর্তী ইডেন মহিল কলেজ, বদরুন্নেসা সরকারি মহিলা কলেজ, এদের চেয়ে কেন লালমাটিয়া সরকারি মহিলা কলেজ পিছিয়ে?
কিছু সিন্ডিকেটের কারণে উপরে উঠতে গিয়েও পারছে না, পিছিয়ে পরছে বারবার। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে সেরা মহিলা কলেজ হওয়ার আগে আমরা চাই বাস্তবিক অর্থেই যেন মানুষের কাছে সেরা হয়।কাগজে কলমে সেরা নয়,মানুষের মন থেকে সেরা হওয়া দরকার। বাস চালু করলে, হলের সুরক্ষা ও দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তা দের আচরণ ভালো হওয়া চাই।তবেই ক্যাম্পাস হয়ে উঠবে সেরা।
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের শ্রদ্ধেয় উপাচার্য স্যারের কাছে আমাদের বিনীত অনুরোধ, ক্যাম্পাসে অতিদ্রুত বাস চালু করার ব্যবস্থা গ্রহণ করুন।হলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করুন।আমরা চাই সুস্থ স্বাভাবিক একটা ক্যাম্পাস।
পরিশেষে এটা বলতে চাই যে,লালমাটিয়া সরকারি মহিলা কলেজ সুনামধন্য প্রতিষ্ঠান। সেই সুনাম যেন অব্যাহত থাকে। কলেজটির নিজস্ব বাস চালু করার জোরপূর্বক দাবি, এবং হলের সুরক্ষা নিশ্চিত করা হোক। এর সাথে হল প্রতিষ্ঠা করা হোক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য।
লেখক : তানজিনা আক্তার ইমু
শিক্ষার্থী, লালমাটিয়া সরকারি মহিলা কলেজ, ঢাকা
© Deshchitro 2024