|
Date: 2026-09-29 17:00:14 |
গোয়ালন্দে সিজারের পর পেটে গজ রেখেই নার্সের সেলাই অসুস্থ সেই বিথীর বাড়িতে ইউএনও
রাজবাড়ীর গোয়ালন্দে সিজারের পর পেটে গজ রেখে সেলাই করা
ডিপ্লোমা মিডওয়াইফ নার্স সেই বিথীর বাড়িতে ছুটে গেলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. সাইফুল হুদা। এসময় তিনি অসুস্থ বিথীর ৪ মাসের ছোট্ট শিশুকে কোলে নিয়ে সু-চিকিৎসার আশ্বাস প্রদান করেন। মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) সকাল সাড়ে ১০ টার দিকে উপজেলার উজানচর ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের তমিজ উদ্দিন মৃধা পাড়া গ্রামে বিথীর স্বামীর বাড়িতে ছুটে যান তিনি।
এ সময় তিনি অসুস্থ বিথীর শারীরিক অবস্থার খোঁজখবর নেন এবং চিকিৎসার বিষয়ে বিস্তারিত জানতে চান। পাশাপাশি সরকারি পর্যায় থেকে সম্ভবপর সহযোগিতা করার আশ্বাস দেন।
ইউএনওর এ মানবিক উদ্যোগে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন অসুস্থ বিথীর স্বামী মো. রাকিবুল ইসলাম ও তার পরিবারের সদস্যরা। ভুল চিকিৎসায় সিসিইউ ও সার্জারি বিভাগে অসুস্থ হয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় থাকা একজন অসহায় বোনের পাশে প্রশাসনের একজন কর্মকর্তা এভাবে এগিয়ে আসায় স্থানীয়রাও বিষয়টিকে ইতিবাচকভাবে দেখছেন।
এ সময় আরো উপস্থিত ছিলেন, উপজেলা সহকারী কমিশনার ভূমি মো. মুনতাসির হাসান খান।
জানা গেছে, ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে সিজারিয়ান অপারেশনের সময় ডা. তামান্না এবং ইন্টার্ন চিকিৎসক অরবিন্দের মাধ্যমে অস্ত্রোপচার করা হয়। ওই অস্ত্রোপচারের পর বিথী আক্তারের পেটে গজ রেখে সেলাই দেওয়া হয়েছিল বলে পরিবারের অভিযোগ।
এরপর থেকেই শারীরিক নানা জটিলতায় ভুগতে থাকেন বিথী। বর্তমানে তিনি হাসপাতালের সিসিইউতে (কার্ডিয়াক কেয়ার ইউনিট) চিকিৎসাধীন এবং গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় জীবন-মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করছেন।
চার মাস ধরে নিজের নবজাতক সন্তানকে বুকে জড়িয়ে ধরা তো দূরের কথা, সন্তানকে কোলে নেওয়া কিংবা দুধ খাওয়ানোর মতো অবস্থাতেও নেই তিনি। মায়ের স্নেহ থেকে বঞ্চিত হচ্ছে তার ছোট্ট সন্তান।
পরিবারের অভিযোগ, গত ৬ মে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে বিথী আক্তারের সিজারিয়ান অস্ত্রোপচার সম্পন্ন হয়। অভিযোগ রয়েছে, অস্ত্রোপচারের সময় সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকদের অবহেলার কারণে তার পেটের ভেতর গজ থেকে যায়। এরপর থেকেই তার শরীরে তীব্র যন্ত্রণা ও দীর্ঘ জটিলতা শুরু হয়। শারীরিক অবস্থার আশঙ্কাজনক অবনতি হলে প্রথম অস্ত্রোপচারের প্রায় দুই মাস পর তাকে আবারও বড় ধরনের অস্ত্রোপচার করাতে হয়। পরবর্তীতে পেটের নাড়িতে তীব্র জটিলতা দেখা দেওয়ায় তাকে আইসিইউতে চিকিৎসাধীন থাকতে হয় এবং বাইপাস সার্জারিসহ একাধিক জটিল চিকিৎসা নিতে হয়। দীর্ঘদিন অসুস্থতায় ভুগে একসময়ের ৬১ কেজি ওজনের সুস্থ বিথী আক্তারের শারীরিক ওজন বর্তমানে কমে দাঁড়িয়েছে মাত্র ৩৯ কেজিতে।
ইউএনও সাইফুল হুদা বলেন, বিথীর অসুস্থতার বিষয়টি আগে আমার জানা ছিল না। সাংবাদিকদের মাধ্যমে বিষয়টি জানতে পেরেছি। খবর পাওয়ার পরই তার ৪ মাসের ছোট্ট শিশু ও পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে এসেছি। তিনি বলেন, বিথীর মতো একজন নার্সের সাথে যদি ভুল চিকিৎসার ঘটনা ঘটে তাহলে সাধারণ মানুষের কি হবে...! আমরা বিষয়টি জেলা প্রশাসক মহোদয়ের মাধ্যমে উদ্ধর্তন কতৃপক্ষকে জানিয়েছি, আশা করছি এ বিষয়ে কতৃপক্ষ যথাযথ ব্যবস্থা নিবেন। তিনি আরও বলেন, জেলা প্রশাসক স্যারের পক্ষ এবং উপজেলা প্রশাসন থেকে নগদ অর্থ ও তার শিশুর জন্য কিছু প্রয়োজনীয় সামগ্রী সহযোগিতা করা হয়েছে। ইনশাআল্লাহ বিথীর পরিবারের পাশে জেলা ও উপজেলা প্রশাসন সর্বক্ষণ থাকবে এবং খোঁজ খবর রাখবে। এছাড়াও সরকারি পর্যায় থেকে যতটা সম্ভব সহযোগিতা করার চেষ্টা করা হবে।
স্থানীয়রা মনে করছেন, বিথীর মতো একজন মিডওয়াইফ নার্সের সাথে এমন ভুল চিকিৎসার ঘটনা ঘটে তাহলে সাধারণ মানুষের কি অবস্থা করে এ সমস্ত ভুয়া চিকিৎসকেরা। তারা সরকারের নিকট বিথীর সু-চিকিৎসা সহ তদন্ত সাপেক্ষে দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।
© Deshchitro 2024