দিনাজপুর সদর উপজেলার জামতলী বাজার এলাকায় ৪ বছরের শিশু রাকিবা আক্তার রুহি হত্যা ও মরদেহ গুমের ঘটনায় গ্রেফতার রিপন টুডুর দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে দ্বিতীয় দফায় অভিযান চালিয়ে শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় প্রধান আসামি রিপন টুডুসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে 
গ্ৰেফতারকৃত অপর আসামিরা হলেন শিশুটির মা জিন্নাতুন বেগম এবং তাদের সহযোগী সুজন টুডু।

২২সেপ্টেম্বর মঙ্গলবার দুপুরে দিনাজপুর পুলিশ সুপার কার্যালয়ের কনফারেন্স রুমে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য নিশ্চিত করেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ক্রাইম এন্ড অবস মোঃ আনোয়ার হোসেন।
এ ঘটনায় শিশুটির মা জিন্নাতুন বেগমকেও গ্রেফতার করেছে পুলিশ। গ্রেফতার রিপন টুডু ও জিন্নাতুন বেগমকে জিজ্ঞাসাবাদ করে হত্যার প্রকৃত কারণ, মরদেহ গুমের সঙ্গে কারা জড়িত এবং এ ঘটনায় আরও কেউ জড়িত কি না এসব বিষয়ে তথ্য জানার চেষ্টা চলছে বলে জানিয়েছে দিনাজপুর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।
পুলিশ জানায়, শিশু রুহি হত্যা ও মরদেহ গুমের ঘটনায় রিপন টুডুকে গ্রেফতারের পর সোমবার রাতে তাকে সঙ্গে নিয়ে মরদেহ উদ্ধারে অভিযান শুরু করে ডিবি পুলিশ। জামতলী বাজার সংলগ্ন আমবাগান, হলুদখেত ও আশপাশের বিভিন্ন এলাকায় রাতভর তল্লাশি চালানো হয়। অভিযানের একপর্যায়ে সন্দেহভাজন কয়েকটি স্থান খুঁড়েও শিশুটির সন্ধান পাওয়া যায়নি। রাত ১২টা পর্যন্ত অভিযান চালানোর পরও মরদেহ উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি।
পরে রিপন টুডুর দেয়া তথ্য পুনরায় যাচাই করে ২২ সেপ্টেম্বর মঙ্গলবার সকালে দ্বিতীয় দফায় অভিযান শুরু করে পুলিশ। একপর্যায়ে জামতলী এলাকার একটি জঙ্গলের নির্জন ও পরিত্যক্ত স্থানে শিশুটির মরদেহের সন্ধান পাওয়া যায়। পরে সেখান থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়।
মরদেহ উদ্ধারের সময় মামলার তদন্ত কর্মকর্তা (আইও) এসআই শাহাদাত হোসেন, দিনাজপুর সদর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আব্দুল হালিমসহ সাদা পোশাক ও পোশাকধারী পুলিশের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
দিনাজপুর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) অফিসার ইনচার্জ আলমগীর হোসেন বলেন, ‘গ্রেফতার রিপন টুডুর দেয়া তথ্যের ভিত্তিতেই দ্বিতীয় দফায় অভিযান চালিয়ে শিশু রুহির মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় রিপন টুডু ও শিশুটির মা জিন্নাতুন বেগমকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তাদের জিজ্ঞাসাবাদ চলছে।’

প্রকাশক : কাজী জসিম উদ্দিন   |   সম্পাদক : ওয়াহিদুজ্জামান

© Deshchitro 2024