|
Date: 2026-09-18 14:02:22 |
নাগেশ্বরী উপজেলার বল্লভেরখাস ইউনিয়নের গাবতলা বাজারে সার গোডাউনে সারের তীব্র সংকট ও কৃষকদের সার না দেওয়ার অভিযোগ কেন্দ্র করে তৈরি হয়েছে চাঞ্চল্যকর পরিস্থিতি ও রাস্তা বন্ধ করে অবরোধ । ক্ষুব্ধ কৃষকরা উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা (বিএস)-কে গোডাউনে আটকে রাখলে পরবর্তীতে নাগেশ্বরী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যান।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে কৃষকরা সার না পেয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে আসছিলেন। একপর্যায়ে গাবতলা বাজার সার গোডাউনে বিএস-কে অবরুদ্ধ করেন স্থানীয় জনতা। খবর পেয়ে ইউএনও মহোদয় উপস্থিত হন এবং স্থানীয় লোকজনের সহায়তায় বিএস-কে নিজের গাড়িতে তুলে নিয়ে নাগেশ্বরী থানায় পৌঁছান। পরবর্তীতে থানায় কৃষি কর্মকর্তা ও নাগেশ্বরী সার্কেল অফিসার উপস্থিত হন।
ঘটনার বিষয়ে নাগেশ্বরী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জানান, "উক্ত এলাকার জন্য মোট ১৬০ বস্তা সার বরাদ্দ ছিল। যা দুইটি পয়েন্টে আশি (৮০) বস্তা করে দুটি গোডাউনে রাখা হয়েছিল।"
অন্যদিকে কৃষি কর্মকর্তা জানান, "আমরা সরাসরি ভুক্তভোগী জনগণের বক্তব্য শুনেছি। দায়িত্বে অবহেলা ও অনিয়মের অভিযোগে সংশ্লিষ্ট উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তার (বিএস) বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।"
জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে আটক বিএস জানান এক বিস্ফোরক তথ্য! যে ডিলারের নামে সার বরাদ্দ দেওয়া হয় (প্রোপাইটার: 'ভাই ভাই মেশিনারিজ'), সেই মূল ডিলার ইতিমধ্যেই মৃত্যুবরণ করেছেন।
তাহলে মৃত ব্যক্তির নামে কিভাবে বরাদ্দ ও সরবরাহ চলছে—এমন প্রশ্নে তিনি জানান, সার মূলত খায়রুল আলম নামের এক ব্যক্তির নামে উত্তোলন করা হয়। পরবর্তীতে 'বাবু' নামের এক সাব-ডিলার সেই সার বিতরণ করে আসছিলেন।
মৃত ডিলারের নামে সার উত্তোলন এবং অবৈধ সাব-ডিলার প্রক্রিয়ার বিষয়টি ইউএনও মহোদয়ের নজরে আনা হলে তিনি দৃঢ় আশ্বাস দিয়ে জানান, "ডিলার মারা যাওয়ার বিষয়টিসহ সম্পূর্ণ অবৈধ প্রক্রিয়ার বিষয়ে আমরা গুরুত্বের সাথে তদন্ত শুরু করেছি। সকল ডিলারের কার্যক্রম নিয়মিত তদারকির আওতায় রয়েছে এবং অনিয়ম পেলেই কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।"
স্বচ্ছতা ফিরিয়ে আনতে এবং আসল কৃষকের সার প্রাপ্তি নিশ্চিত করতে এই সারের কালোবাজারি ও জালিয়াতির সঠিক সুষ্ঠু বিচার চান স্থানীয় ভুক্তভোগী কৃষকরা।
© Deshchitro 2024