|
Date: 2026-09-17 18:46:15 |
জামালপুরের ইসলামপুর উপজেলাকে জুয়ামুক্ত রাখতে কঠোর অবস্থান নিয়েছে ইসলামপুর থানা-পুলিশ। জুয়ার আসর বন্ধ এবং জুয়ার সঙ্গে জড়িতদের আইনের আওতায় আনতে নিয়মিত অভিযান ও নজরদারি চালিয়ে যাচ্ছে পুলিশ। থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিজানুর রহমানের নেতৃত্বে এ তৎপরতা জোরদার করা হয়েছে।
ইতোমধ্যে জুয়া প্রতিরোধের নতুন আইনে ইসলামপুর থানায় দুটি মামলা রুজু করা হয়েছে। এসব মামলায় বেশ কয়েকজন জুয়াড়িকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতের মাধ্যমে তাদের কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
থানা-পুলিশ বলছে, উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় জুয়ার আসর বসানোর চেষ্টা ও জুয়ার সঙ্গে সম্পৃক্ত ব্যক্তিদের বিষয়ে নজরদারি করা হচ্ছে। গোপনে কোথাও জুয়ার আসর বসানোর খবর পাওয়া গেলে দ্রুত সেখানে অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানে আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
থানা সূত্রে জানা গেছে, গত ১৫ সেপ্টেম্বর বিকেলে উপজেলার গোয়ালেরচর ইউনিয়নের মহলগিরী এলাকায় এসআই মো. জুনায়েদ হাসানের নেতৃত্বে অভিযান চালানো হয়। এসময় ইউনিয়নের মালমারা গ্রামের ইসমাইলের ছেলে হামিদুর রহমানকে (৩৫) আটক করে পুলিশ। এঘটনায় পুলিশ বাদী হয়ে থানায় জুয়া খেলা প্রতিরোধ আইনে মামলা করে। এতে আট জনের নামোল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা আরও ৪-৫ জনকে আসামি করা হয়। পরদিন ১৬ সেপ্টেম্বর ওই মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতের মাধ্যমে আটক হামিদুর রহমানকে কারাগারে পাঠায় পুলিশ।
এর আগে গত ৪ আগষ্ট বিকেলে একই ইউনিয়নের মোহাম্মদপুর বালুচর এলাকায় ব্রহ্মপুত্র নদের পাড়ে জুয়া খেলা হচ্ছিল। গোপন খবরের ভিত্তিতে ইসলামপুর থানার এসআই মো. জুনায়েদ হাসানের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল জুয়া খেলার আসরে অভিযান চালান। এসময় অন্যান্য জুয়াড়ি দৌড়ে পালিয়ে গেলে দুই জুয়াড়িকে আটক করে পুলিশ। পরে রাতে এসআই মো. জুনায়েদ হাসান বাদী হয়ে সাতজনের নামোলেখসহ অজ্ঞাত ৩-৪ জনের বিরুদ্ধে ইসলামপুর থানায় জুয়া প্রতিরোধের নতুন আইনের ১৫ ধারায় মামলা দায়ের করেন। পরদিন ৫ আগষ্ট ওই মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতের মাধ্যমে আটক দুই জুয়াড়িকে কারাগারে পাঠানো হয়।
স্থানীয় সূত্রগুলো বলছে, বিভিন্ন সময় উপজেলার প্রত্যন্ত এলাকায় গোপনে জুয়ার আসর বসানোর অভিযোগ পাওয়া যায়। এসব আসরে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া না হলে তা ধীরে ধীরে সামাজিক সমস্যায় রূপ নিতে পারে। জুয়ার কারণে অর্থনৈতিক ক্ষতির পাশাপাশি পারিবারিক অশান্তি ও নানা ধরনের অপরাধের ঝুঁকি তৈরি হয় বলেও মনে করেন সচেতন নাগরিকরা। এ অবস্থায় জুয়ার বিরুদ্ধে পুলিশের কঠোর অবস্থানকে স্বাগত জানিয়েছেন স্থানীয়রা। তাঁদের প্রত্যাশা, শুধু অভিযান পরিচালনার সময় নয়, নিয়মিতভাবে জুয়ার আসর ও এর সঙ্গে জড়িতদের ওপর নজরদারি রাখা হবে।
ইসলামপুর থানার ওসি মিজানুর রহমান বলেন, 'থানা এলাকাকে জুয়ামুক্ত রাখতে আমরা বদ্ধপরিকর।
জুয়ার কারণে সামাজিক অবক্ষয় ও নানা অপরাধের সৃষ্টি হতে পারে। তাই জুয়ার সঙ্গে জড়িত কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না। গত ৫ আগষ্ট জুয়া প্রতিরোধের নতুন আইনে থানায় প্রথম বারের মতো একটি মামলা রুজু করা হয়। ১৬ সেপ্টেম্বর দ্বিতীয় বারের মতো জুয়া প্রতিরোধে মামলা করা হয়েছে। জুয়ার আসর বসানো কিংবা জুয়ার সঙ্গে সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়া গেলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। জুয়া প্রতিরোধে পুলিশের অভিযান অব্যাহত থাকবে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা এবং সামাজিক অপরাধ নিয়ন্ত্রণে জুয়ার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।'
উল্লেখ্য, ১৮৬৭ সালের প্রায় দেড়শ বছরের পুরোনো আইন বাতিল করে যুগোপযোগী ‘জুয়া প্রতিরোধ আইন, ২০২৬’ প্রণয়ন ও কার্যকর করেছে বর্তমান সরকার। নতুন এই আইনে অনলাইন জুয়া, বেটিং, ভার্চুয়াল ক্যাসিনো, ম্যাচ ফিক্সিং এবং ক্রিপ্টোকারেন্সির মতো ডিজিটাল আর্থিক লেনদেন কঠোরভাবে নিষিদ্ধ করা হয়েছে। জুয়া খেলার অপরাধে সর্বোচ্চ ৭ থেকে ১০ বছরের কারাদণ্ড ও ৫ কোটি টাকা পর্যন্ত অর্থদণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে। গত ৫ আগষ্ট এ জেলায় প্রথম বারের মতো ইসলামপুর থানায় জুয়া প্রতিরোধের নতুন আইনে মামলা দায়ের করে পুলিশ।
© Deshchitro 2024