সাতক্ষীরার তালা উপজেলায় বাড়িতে নকল ও ভেজাল সার-কীটনাশক মজুত এবং উৎপাদন ও বাজারজাতের অভিযোগে মশিয়ার রহমান নামে এক ব্যবসায়ীকে এক মাসের কারাদণ্ড ও ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। একই সঙ্গে অভিযানে জব্দ করা বিপুল পরিমাণ নকল ও ভেজাল সার-কীটনাশক ধ্বংসের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) সকালে তালা উপজেলার লাউতাড়া গ্রামে মশিয়ার রহমানের বাড়িতে অভিযান পরিচালনা করে র‌্যাব। অভিযানে তার বাড়িতে বিভিন্ন ধরনের নকল ও ভেজাল সার-কীটনাশক মজুত থাকার বিষয়টি শনাক্ত করা হয়। পরে ঘটনাস্থলে তালা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জান্নাতুল আফরোজ স্বর্ণার নেতৃত্বে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হয়।

অভিযানসংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, মশিয়ার রহমানের বাড়িতে বিপুল পরিমাণ সার ও কীটনাশক মজুত রাখা হয়েছিল। এসব পণ্যের মধ্যে নকল ও ভেজাল পণ্য থাকার অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায়। একই সঙ্গে নকল ও ভেজাল সার-কীটনাশক উৎপাদন ও বাজারজাতের সঙ্গে তার সম্পৃক্ততার বিষয়টিও অভিযানে উঠে আসে। পরে ভ্রাম্যমাণ আদালত তাকে এক মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করেন।

অভিযানে প্রায় ৫ লাখ টাকা মূল্যের নকল ও ভেজাল সার-কীটনাশক জব্দ করা হয়েছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। জব্দ করা এসব পণ্য কৃষি ও কৃষকদের স্বার্থে ব্যবহার অনুপযোগী হওয়ায় তা ধ্বংসের নির্দেশ দেওয়া হয়।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দণ্ডপ্রাপ্ত মশিয়ার রহমান লাউতাড়া গ্রামের ইমান আলী মোড়লের ছেলে। তিনি বিসিআইসি সার সাব-ডিলার হিসেবে ব্যবসা পরিচালনার পাশাপাশি সার ও কীটনাশকের ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।

তালা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জান্নাতুল আফরোজ স্বর্ণা বলেন, নকল ও ভেজাল সার-কীটনাশক কৃষি উৎপাদন এবং কৃষকদের জন্য ক্ষতিকর। এ ধরনের পণ্য ব্যবহারের ফলে ফসলের উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি কৃষকরা আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারেন। অভিযানে মশিয়ার রহমানের বাড়ি থেকে প্রায় ৫ লাখ টাকা মূল্যের নকল ও ভেজাল সার-কীটনাশক জব্দ করা হয়েছে। পরে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে তাকে এক মাসের কারাদণ্ড ও ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

কৃষি খাতে নকল ও ভেজাল উপকরণের ব্যবহার রোধে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত রাখার প্রয়োজনীয়তার কথাও জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

প্রকাশক : কাজী জসিম উদ্দিন   |   সম্পাদক : ওয়াহিদুজ্জামান

© Deshchitro 2024