মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে ছড়িয়ে রয়েছে মার্কিন সামরিক ও কূটনৈতিক স্থাপনা। এবার এসব স্থাপনাকে লক্ষ্যবস্তু করে হামলা চালাচ্ছে ইরান। যার ফলে শত শত অবকাঠামো ধ্বংস হয়েছে।


মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) পেন্টাগন মহাপরিদর্শকের এক প্রতিবেদনে এ খবর দেয়া হয়েছে।


প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এসব হামলায় একাধিক ঘাঁটির শত শত অবকাঠামো ধ্বংস বা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। মার্কিন কূটনৈতিক স্থাপনাগুলোর অন্তত ১৮ কোটি ৪০ লাখ ডলারের ক্ষতি হয়েছে।


মার্কিন কংগ্রেসের কাছে জমা দেয়া প্রতিবেদনে অবরুদ্ধ পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ব্যয়ের মাত্রা ও সরঞ্জাম সংকটের চিত্র তুলে ধরা হয়। অপারেশন এপিক ফিউরি নামের এ অভিযানের খরচ ইতিমধ্যেই আকাশচুম্বী হয়েছে।


মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ আগে জানিয়েছিলেন, যুদ্ধ পরিচালনায় ইতিমধ্যেই ৩ হাজার ৭৫০ কোটি ডলার ব্যয় হয়েছে। অস্ত্রাগার পুনরায় পূর্ণ করতে আরও ৬ হাজার ৭০০ কোটি ডলার প্রয়োজন।


পেন্টাগনের প্রতিবেদনে বলা হয়, প্যাট্রিয়ট, থাড ও টমাহক ক্ষেপণাস্ত্রের মতো গুরুত্বপূর্ণ অস্ত্রের মজুদ আশঙ্কাজনকভাবে কমে গেছে। এর ফলে এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে সম্ভাব্য সংঘাত মোকাবিলায় যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তুতি বিঘ্নিত হতে পারে বলে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন মার্কিন মিত্ররা।


তবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দাবি করেছেন, যুক্তরাষ্ট্রে রেকর্ড পরিমাণ অত্যাধুনিক অস্ত্র তৈরি হচ্ছে। অস্ত্র সংকটের খবর সত্য নয়।


প্রতিবেদনে নিশ্চিত করা হয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যে সেন্টকমের অধীনে ৫০ হাজারের বেশি মার্কিন সেনা মোতায়েন রয়েছে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধ শুরুর পর থেকে ৩০ জুন পর্যন্ত অন্তত ১৮ জন মার্কিন সেনা নিহত হয়। আহত হয়েছে ৪১৭ জন সেনা। এছাড়া চারটি এফ-১৫ই যুদ্ধবিমান, একটি এফ-৩৫এ বিমান ও অন্তত ৩০টি ড্রোন ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংস হয়েছে।


যুদ্ধের জেরে উদ্ভূত পরিস্থিতিতে প্রায় ৯ হাজার মার্কিন নাগরিক ও কূটনীতিককে মধ্যপ্রাচ্য থেকে সরিয়ে নেয়া হয়েছে। ফলে ওই অঞ্চলের স্বাস্থ্য, কৃষি ও পানি পরিশোধনের মতো বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ মানবিক সহায়তা কার্যক্রম থমকে গেছে।


প্রকাশক : কাজী জসিম উদ্দিন   |   সম্পাদক : ওয়াহিদুজ্জামান

© Deshchitro 2024