মুন্সি শাহাব উদ্দীন, চট্টগ্রাম:

স্বপ্ন ছিল পড়াশোনা শেষ করে জীবনের পথে অনেক দূর এগিয়ে যাওয়ার। পরিবারের মুখে হাসি ফোটানোর, আপনজনদের স্বপ্ন পূরণের। কিন্তু নিয়তির নির্মম পরিহাসে সেই স্বপ্নযাত্রা থেমে গেল সড়ক দুর্ঘটনায়। দীর্ঘদিন মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করে অবশেষে না ফেরার দেশে চলে গেলেন লোহাগাড়ার তরুণ শিক্ষার্থী মোহাম্মদ ইমতিয়াজ।

চট্টগ্রামের লোহাগাড়া উপজেলার কলাউজান ইউনিয়নের উত্তর কলাউজান মিয়াজান মাস্টারপাড়া এলাকার বাসিন্দা মুহাম্মদ লোকমান সওদাগরের দ্বিতীয় সন্তান মোহাম্মদ ইমতিয়াজ বান্দরবান সরকারি কলেজের শিক্ষার্থী ছিলেন।

গত ৩০ আগস্ট কলেজে যাওয়ার পথে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের সাতকানিয়া উপজেলার ঠাকুরদিঘী শিশুতলা এলাকায় মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত হন তিনি। দুর্ঘটনার পর তাকে গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

সেখানে দীর্ঘদিন ধরে চিকিৎসাধীন ছিলেন ইমতিয়াজ। প্রতিটি মুহূর্তে স্বজনদের মনে ছিল প্রিয় মানুষটির সুস্থ হয়ে ফিরে আসার প্রত্যাশা। কিন্তু সেই অপেক্ষার অবসান হলো অত্যন্ত বেদনাবিধুরভাবে। আজ ভোররাত আনুমানিক সাড়ে ৩টার দিকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন) 

ইমতিয়াজের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়তেই পরিবার, স্বজন, বন্ধু-বান্ধব ও সহপাঠীদের মাঝে নেমে আসে গভীর শোকের ছায়া। প্রিয় মানুষটিকে হারিয়ে স্বজনদের আহাজারিতে ভারী হয়ে ওঠে পরিবেশ। সহপাঠী ও বন্ধুদের কাছেও তার এই অকালপ্রয়াণ যেন বিশ্বাস করাই কঠিন হয়ে পড়েছে।

একজন তরুণ শিক্ষার্থীর চোখে ছিল ভবিষ্যতের নানা স্বপ্ন। সামনে ছিল জীবনের দীর্ঘ পথ। কিন্তু একটি মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনা সেই পথচলাকে থামিয়ে দিল চিরদিনের জন্য। যে তরুণের হাতে থাকার কথা ছিল বই-খাতা, যে কণ্ঠে শোনা যাওয়ার কথা ছিল ভবিষ্যতের স্বপ্নের কথা আজ তার স্মৃতিই কেবল আপনজনদের হৃদয়ে বেঁচে থাকবে।

ইমতিয়াজের অকালমৃত্যু শুধু একটি পরিবারের স্বপ্নকেই থামিয়ে দেয়নি, শোকাহত করেছে তার বন্ধু, সহপাঠী ও পরিচিতজনদেরও। তার চলে যাওয়ায় তৈরি হয়েছে এমন এক শূন্যতা, যা কোনো কিছুর বিনিময়েই পূরণ হওয়ার নয়।




প্রকাশক : কাজী জসিম উদ্দিন   |   সম্পাদক : ওয়াহিদুজ্জামান

© Deshchitro 2024