|
Date: 2026-09-06 21:53:38 |
মোঃ ফরমান উল্লাহ,বিশেষ প্রতিনিধি
দীর্ঘ ১৭ বছর সংগ্রাম আন্দোলনের পর ৫ আগস্ট ২০২৪ সালে ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে স্বৈরাচার আওয়ামীলীগ সরকারের প্রধানমন্ত্রী জীবন বাঁচাতে ভারতে পলায়ন করে। এরপর সকল দলের ঐক্যমত্যের ভিত্তিতে ড. মুহাম্মদ ইউনুসকে প্রধান উপদেষ্টা করে অন্তর্বতিকালীন সরকার গঠন করা হয়।অন্তর্বতিকালিন সরকার ঘটনের পর থেকে জাতীয় নির্বাচন অনুষ্টান নিয়ে চলতে থাকে নানা তালবাহানা।
অনেক চড়াই উৎড়াই পার হয়ে অবশেষ ১২ ফব্রুয়ারী সে কাংক্ষিত জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। এতে বিএনপি একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে ১৭ ফেব্রুয়ারী সরকার গঠন করে। এদিকে ১১ দলীয় জোট বিরোধি দলের আসনে অধিষ্ঠিত হয়। বিএনপি সরকার গঠনের পর থেকে বিরোধি দল সরকারী দলের বিরোধিতা করতে শুরু করে। তার প্রমান প্রথম দিন সংসদ অধিবেশন থেকে বিরোধি দলের ওয়াক আউট।
সরকারের বয়স ৬ মাস হতে না হতেই ৬ আগস্ট/২৬ তারিখে বিরোধি দল সচিবালায় ঘেরাও করতে যায়। দেশে এমন কি পরিস্থিতি হয়েছে যে সচিবালয়ের মত একটি স্পর্শ কাতর এবং দেশের গুরুত্ব পূর্ণ সরকারী অফিস ঘেরাও করতে হবে?
বিরোধি দল সংসদে সুবিধা করতে না পেরে তেল, গ্যাস, বিদ্যুতের দাবীতে ৫ সেপ্টেম্বর লংমাট করা ঘোষণা দেন। ৫ সেপ্টেম্বর(শনিবার) হাজার হাজার গাড়ীর বহর নিয়ে চট্রগ্রামের উদ্দেশ্যে লংমার্চ করেন। এর আগে বিরোধি দলের শীর্ষ স্থানীয় নেতারা প্রচার করতে থাকেন লংমার্চে বাধা দিলে পরিস্থিতি ভয়াবহ হবে।লংমার্চে এনসিপির নেতা নাসির উদ্দিম পাটোয়ারী ছাত্রদল এবং যুবদলের নাম উল্লেখ করে উস্কানি মূলক স্লোগান দিতে থাকে। লংমার্চে বিরোধি দলের কার্যকলাপ দেখে মনে হচ্ছে তারা দেশে একটা অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টি করে বৃহত্তর আন্দোলনের ডাক দেওয়া। কিন্তু আজ সেটা সফল হলো না।
প্রধানমন্ত্রীর দূরদর্শী রাজনীতি, প্রজ্ঞা এবং রাজনৈতিক বিচক্ষনতায় ১১দলীয় জোট সে সুযোগ না পেয়ে মর্মাহত হয়ে চট্রগ্রাম থেকে খালি হাতেই ফিরে আসলো।
১১দলীয় জোটের এ লংমার্চে দেশের জনগন কি কিছু পেয়েছে? যে কর্মসূচী জনগনের কোন উপকারে আসবে না সে কর্মসূচীর নামে কোটিকোটি টাকা খরচ করার কি কোন যৌক্তিকতা আছে? তেল,গ্যাস, বিদ্যুতের দাবী হাজার হাজার গাড়ী নিয়ে লংমার্চ করে কোটি কোটি টাকা খরচ করে জনগনকে কি দিলেন। এ লংমার্চে জনগন কিছু পাইনি,পেয়েছে সকাল থেকে রাত পর্যন্ত ভোগান্তুি আর ভোগান্তি।
আসলে এটা কি লংমার্চ ছিল না কি লংমার্চের নামে লং ড্রাইভ ছিল, নাকি আনন্দ ভ্রমণ ছিল? যে কর্মসূচি জাতি কে কিছু দিতে পারে না সে কর্মসূচি দিয়ে লাভ কি?
নিজেদের ক্ষমতার সাধ মিটানোর জন্য এসব অনর্থক কর্মসচী না দিয়ে সরকার-বিরোধি দল মিলে জনগন সাথে নিয়ে দেশের উন্নয়নের জন্য কাজ করাই হবে প্রকৃত দেশপ্রমিকের দায়িত্ব ও কর্তব্য।
© Deshchitro 2024