|
Date: 2026-09-06 14:46:20 |
বাংলাদেশের বাণিজ্যিক পোল্ট্রি খামারে প্রচলিত ভেষজ চর্চা এবং অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহারের সম্পর্ক নিয়ে নতুন একটি গবেষণা আন্তর্জাতিক জার্নাল জার্নাল অব এথনোফার্মাকোলজি (এলসেভিয়ার)-এ প্রকাশিত হয়েছে। গবেষণায় দেশের ৮টি প্রশাসনিক বিভাগের ৩৫ জেলার ৭৯৫টি বাণিজ্যিক পোল্ট্রি খামারের তথ্য বিশ্লেষণ করা হয়েছে।
গবেষণার প্রথম লেখক পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (পবিপ্রবি) শিক্ষার্থী জোবায়ের মাহমুদ নির্যাস। গবেষণার যোগাযোগকারী লেখক গাজীপুর এগ্রিকালচারাল ইউনিভার্সিটির সহকারী অধ্যাপক মৌসুমি সাহা। সহলেখক হিসেবে রয়েছেন রুদ্র সরকার।
গবেষণায় খামারিদের সাক্ষাৎকারের মাধ্যমে ভেষজ ব্যবহার, অ্যান্টিবায়োটিক প্রয়োগ এবং খামার ব্যবস্থাপনা-সংক্রান্ত তথ্য সংগ্রহ করা হয়। যেখানে সম্ভব, চিকিৎসা-সংক্রান্ত নোট ও ব্যবহৃত ওষুধের প্যাকেট বা বোতলের তথ্যের সঙ্গে তা মিলিয়ে দেখা হয়। তবে অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহারের তথ্য স্বাধীনভাবে প্রেসক্রিপশন, ক্রয় রেকর্ড বা নিরীক্ষিত খামার নথির মাধ্যমে যাচাই করা হয়নি।
গবেষণায় ১৪টি ভেষজ উদ্ভিদ বা উদ্ভিদজাত উপাদানের ব্যবহার শনাক্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত হয়েছে সজনে পাতা (২২.৮ শতাংশ), আদা (২১.৪ শতাংশ) এবং লেবু (২০.০ শতাংশ)।
গবেষণার ফলাফলে দেখা যায়, ভেষজ ব্যবহারকারী খামারগুলোতে খামার পর্যায়ে অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহারের হার প্রায় ৪৩.৬ শতাংশ কম ছিল। এছাড়া এসব খামারে খাদ্য রূপান্তর হার (এফসিআর) এবং মৃত্যুহার-এর ক্ষেত্রেও তুলনামূলকভাবে অনুকূল ফলাফল পাওয়া গেছে। তবে গবেষকরা উল্লেখ করেছেন, এটি একটি পর্যবেক্ষণভিত্তিক ক্রস-সেকশনাল গবেষণা হওয়ায় এসব ফলাফলকে ভেষজ ব্যবহারের সরাসরি কারণগত প্রভাব হিসেবে ব্যাখ্যা করা যাবে না।
গবেষণায় আরও দেখা গেছে, মাত্র ৩০.২ শতাংশ খামারি জানতেন যে কিছু ভেষজ উপাদানের অবশিষ্টাংশ মাংস বা ডিমে থেকে যেতে পারে। গবেষকদের মতে, ভেষজ ব্যবহারের নিরাপত্তা, সঠিক মাত্রা এবং সম্ভাব্য অবশিষ্টাংশ সম্পর্কে খামারিদের সচেতনতা বাড়ানো প্রয়োজন।
প্রধান লেখক জোবায়ের মাহমুদ নির্যাস বলেন, বাংলাদেশের বাণিজ্যিক পোল্ট্রি খামারের বাস্তব চিত্র গবেষণার মাধ্যমে তুলে ধরাই ছিল তাঁর লক্ষ্য। ভবিষ্যতে এ বিষয়ে আরও শক্তিশালী গবেষণার পাশাপাশি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সেন্সর প্রযুক্তি এবং প্রমাণভিত্তিক ভেটেরিনারি চিকিৎসা-এর সমন্বয়ে টেকসই প্রাণিস্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনা নিয়ে কাজ করতে চান তিনি।
গবেষণার যোগাযোগকারী লেখক মৌসুমি সাহা বলেন, দেশে অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল রেজিস্ট্যান্স (এএমআর) একটি গুরুত্বপূর্ণ 'ওয়ান হেলথ' চ্যালেঞ্জ। ভেষজ চিকিৎসাকে অ্যান্টিবায়োটিকের বিকল্প হিসেবে ব্যবহারের আগে এর কার্যকারিতা, নিরাপত্তা, সঠিক মাত্রা এবং সম্ভাব্য অবশিষ্টাংশ নিয়ে আরও বিস্তৃত বৈজ্ঞানিক গবেষণা প্রয়োজন।
© Deshchitro 2024