কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচরে নিম্নমানের নির্মাণ সামগ্রী ব্যবহারের কারণে আরসিসি ঢালাইয়ের কাজ শেষ হতে না হতেই ভেঙে পড়েছে নবনির্মিত সড়ক। কাজ শেষ হওয়ার মাত্র দু'সপ্তাহের মাথায় রাস্তার স্লাব ও কালভার্টের ঢালাই খসে পড়ে ভেতরের রড বেরিয়ে গেছে। একই সাথে দেখা দিয়েছে বড় বড় ফাটল। এতে চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে সড়কটি, আর চরম দুর্ভোগে পড়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। ইতোমধ্যে ভাঙা স্থানে অটোরিকশা উল্টে বেশ কয়েকজন যাত্রী আহত হয়েছেন। এঘটনার একাধিক ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে ভাইরাল হলে বিষয়টি ধামাচাপা দিতে কোন রকমভাবে হালকা সিমেন্ট ও বালু দিয়ে নবনির্মিত রাস্তা ও কালভার্টের ভাঙ্গা স্থানে প্রলেপ দিয়েই রাস্তা ও কালভার্টের সংস্থার কাজ শেষ করা হয়েছে বলে জানান এলাকাবাসী। তারা বলেন ইতিপূর্বে এমন নিম্ন মানের কাজ আর কোথাও দেখেননি।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার গোবরিয়া আব্দুল্লাহপুর ইউনিয়নের পূর্ব আব্দুল্লাহপুর হতে পশ্চিম আব্দুল্লাহপুর কাঁচা রাস্তাটি আরসিসি করণের উদ্যোগ নেয় সরকার। এম.আর.আর.আই.ডি.পি প্রকল্পের আওতায় ২ কোটি ৪৭ লক্ষ টাকা ব্যয়ে ১১৬০ মিটার দৈর্ঘ্য ও ৩ মিটার প্রস্থের এ রাস্তার নির্মাণ কাজ পান চট্টগ্রামের ‘মেসার্স মোহাম্মদ ইউসূফ এন্ড ব্রাদার্স প্রাইভেট লিমিটেড’ নামের একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। নথি অনুযায়ী গত বছরের ৮ ডিসেম্বর আনুষ্ঠানিকভাবে কাজ শুরু হয়, যা চলতি বছরের ৮ জুলাই শেষ হওয়ার কথা ছিল। তবে স্থানীয়ভাবে কাজটি পরিচালনা ও তদারকি করছেন কুলিয়ারচরের ‘মেসার্স প্রগতি এন্টারপ্রাইজ’-এর স্বত্বাধিকারী মো. দেলোয়ার হোসেন খোকন।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, দক্ষিণ পাড়ার মুসলিম উদ্দিনের বাড়ি সংলগ্ন মোড় থেকে পশ্চিম আব্দুল্লাহপুর সাধু বাজার সংযোগ কালভার্টের অংশে কাজ শেষ হওয়ার মাত্র ১০-১২ দিনের মাথায় ওপরের পুরো ঢালাই উঠে গেছে। জং ধরা রড বের হয়ে পড়েছে এবং দুই পাশে বিপজ্জনক ফাটল ধরেছে। ফলে যেকোনো মুহূর্তে পুরো অংশটি ধসে বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

ক্ষোভ প্রকাশ করে স্থানীয় বাসিন্দা ইমরান খান এনায়েত (৫৫), শাহীন সুলতানা (৪৫), মো. দ্বীন ইসলাম (৪৫), নিজাম উদ্দিন (৩৫), তন্ময় মাহমুদ (২৬), সাকিব আল হাসান (১৮), মোহাম্মদ আলী (২১) ও সানাউল্লাহ (২১)সহ অনেকেই অভিযোগ করেন, "ঠিকাদার শুরু থেকেই অত্যন্ত নিম্নমানের রড, সিমেন্ট ও বালু ব্যবহার করেছেন। আমরা বাধা দিলেও তারা শোনেননি। ইঞ্জিনিয়ারদের চোখ ফাঁকি দিয়ে নিম্নমানের কাজ চালানো হয়েছে। সামান্য বৃষ্টি হলেই রাস্তায় পানি জমে থাকে। দুই কোটি টাকার বেশি বাজেটের একটি রাস্তায় সপ্তাহ পার হতে না হতেই ফাটল ধরে রড বের হয়ে যায় কীভাবে? এটি স্পষ্ট দুর্নীতি। বর্তমানে প্রতিদিন এই ভাঙা রাস্তায় অটোরিকশা উল্টে মানুষ আহত হচ্ছে।" তারা অবিলম্বে পুনরায় মানসম্মত কাজ ও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থার দাবি জানান।

এ বিষয়ে স্থানীয়ভাবে দায়িত্বরত তদারককারী মো. দেলোয়ার হোসেন খোকনের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়ায় না যাওয়ায় তার বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।

অন্যদিকে, অনিয়ম ও দুর্ভোগের বিষয়ে জানতে চাইলে কুলিয়ারচর উপজেলা প্রকৌশলী (এলজিইডি) মো. আলী জিন্নাহ বলেন, রাস্তার সাইট সংক্রান্ত কিছু জটিলতার সংবাদ পেয়েছি। আমরা ইতোমধ্যে বিষয়টি তদারকি করেছি। কোনো ধরনের অনিয়ম বরদাস্ত করা হবে না; ত্রুটিযুক্ত অংশ দ্রুত ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে দিয়ে পুনরায় সংস্কার করিয়ে নেওয়া হচ্ছে।

প্রকাশক : কাজী জসিম উদ্দিন   |   সম্পাদক : ওয়াহিদুজ্জামান

© Deshchitro 2024