রেজিস্ট্রি দলিলমূলে ক্রয়কৃত ও স্বত্বদখলীয় ২৪ শতকের মধ্যে ৩ শতক জমি  দখলের অপচেষ্টা এবং সহকারী কমিশনার (ভূমি) বিরুদ্ধে ভিত্তিহীন সংবাদ সম্মেলন ও অপপ্রচারের বিরুদ্ধে কঠোর লড়াইয়ের ঘোষণা দিয়েছেন প্রবাস ফেরত জমির মালিক নুরুল হাকিম।

প্রতিপক্ষের ১ সেপ্টেম্বর মঙ্গলবারে সংবাদ সম্মেলনে মিথ্যাচার, মানহানিকর বক্তব্য ও পেশিশক্তি প্রয়োগের   পাল্টা সংবাদ সম্মেলনে ২ সেপ্টেম্বর বুধবারের প্রতিবাদে  তিনি স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছেন—নিজের বৈধ জমির অধিকার রক্ষায় তিনি শেষ পর্যন্ত যুদ্ধ চালিয়ে যাবেন।

প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী, চট্টগ্রাম জেলার চন্দনাইশ উপজেলার পশ্চিম এলাহাবাদ মৌজায় ১৯৯৫ সালে ইউনুস মাস্টারের নিকট থেকে সাব-রেজিস্ট্রি দলিলমূলে ৩২৮ ও ৩১৮ নম্বর দাগে মোট ২৪ শতক জমি ক্রয় করেন প্রবাস ফেরত নুরুল হাকিম। জমি হস্তান্তরের পর থেকে তিনি তা ভোগদখলে রাখেন। পরবর্তীতে প্রবাসে থাকাকালীন অসুস্থতার সুযোগে বিবাদী পক্ষ (সেলিনা আক্তার, শাহিদুল আলম/শহীদুল্লাহ গং) ৩১৮ নম্বর দাগের ৩ শতক জমি বেআইনিভাবে নিজেদের নামে নামজারি করিয়ে নেয়।

অন্যায়ের প্রতিকার চেয়ে নুরুল হাকিম চন্দনাইশ উপজেলা ভূমি অফিসে 'মিস মামলা' দায়ের করেন। দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়া ও শুনানিতে বিবাদী পক্ষ কোনো বৈধ কাগজপত্র প্রদর্শন করতে ব্যর্থ হয়। পক্ষান্তরে, নুরুল হাকিমের পেশকৃত মূল দলিল ও স্বপক্ষের প্রমাণাদি সঠিক পাওয়ায় সহকারী কমিশনার (ভূমি) আইনি প্রক্রিয়ায় তার পক্ষে রায় প্রদান করেন। উক্ত আদেশের প্রেক্ষিতে নিয়ম মেনে সরকারি ফি প্রদানপূর্বক ২০২৬ সালের ২৫ আগস্ট বাদবাকি ৩ শতক জমির নামজারি খতিয়ান মঞ্জুর করা হয়।

আইনি প্রক্রিয়ায় হেরে গিয়ে বিবাদী পক্ষ সংবাদ সম্মেলন করে উপজেলা ভূমি অফিস ও এসিল্যান্ডের বিরুদ্ধে ঘুষ ও অনিয়মের কাল্পনিক অভিযোগ আনে। এ বিষয়ে নুরুল হাকিম ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, "সম্পূর্ণ আইনি ও বৈধ প্রক্রিয়ায় আমার নামজারি মঞ্জুর হয়েছে। আমার জায়গা ও নামজারিকে কেন্দ্র করে একজন সম্মানিত সরকারি কর্মকর্তার নাম জড়িয়ে অপপ্রচার চালানো চরম অন্যায়।"

তিনি আরও জানান, নামজারি পাওয়ার পর বিবাদী পক্ষ তাকে জমি থেকে তাড়িয়ে দেওয়ার উদ্দেশ্যে ভয়ভীতি প্রদর্শন ও অবৈধ দখলের চেষ্টা চালাচ্ছে।

১৯৯৫ সালে জমি ক্রয়ের সময় যাদের বয়স ছিল নগণ্য, আজ দীর্ঘ সময় পর তারা কাল্পনিক ও ভিত্তিহীন দাবি তুলে অস্থিরতা তৈরি করছে।

নুরুল হাকিম স্পষ্ট ঘোষণা করেন যে, জমি দখল ও মিথ্যাচারের বিরুদ্ধে তিনি আইনের সাহায্য নিয়েছেন এবং শেষ পর্যন্ত এই লড়াই চালিয়ে যাবেন। একইসঙ্গে, একজন সরকারি কর্মকর্তা ও প্রবাসীর সম্মান ক্ষুণ্ন করার পাঁয়তারায় জড়িতদের বিরুদ্ধে নিরপেক্ষ তদন্ত সাপেক্ষে দৃষ্টান্তমূলক আইনগত ব্যবস্থার দাবি জানানো হয়।

অপরদিকে চন্দনাইশ উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ঝন্টু বিকাশ চাকমা বলেন, “আমার বিরুদ্ধে অবৈধভাবে টাকা নেওয়ার যে অভিযোগ তোলা হয়েছে, তা সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন। যারা এ অভিযোগ করছেন, তাদের কাছে কোনো প্রমাণ থাকলে তা প্রকাশ করুক। বিনা দোষে আমার বিরুদ্ধে মনগড়া অভিযোগ এনে মানহানি করা হচ্ছে। এ কারণে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে পাঁচ কোটি টাকার মানহানির মামলা করার প্রস্তুতি নিচ্ছি।

নামজারি প্রক্রিয়া আইন অনুযায়ীই সম্পন্ন হয়েছে। এতে কোনো ত্রুটি হয়ে থাকলে ক্ষুব্ধ পক্ষ নিয়ম অনুযায়ী ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে আপিল করার সুযোগ রয়েছে। যে বিচারক রায় দেবেন, তার বিরুদ্ধে সরাসরি এ ধরনের অভিযোগ তোলা অনুচিত।

মূলত জমির মূল বিক্রেতা ভাই-বোনদের অভ্যন্তরীণ বিরোধকে কেন্দ্র করেই এ ধরনের জটিলতা তৈরি হয়েছে। ১৯৯৫ সালে ২৪ শতক জমি কেনার পর বাদবাকী ৩ শতক জায়গার সব আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে এবং জমির দখল বুঝে নেওয়ার পর একজন প্রবাসী বা বৈধ ক্রেতা কেন তার প্রাপ্য জমির নামজারি করতে পারবেন না? ভাই-বোনের বিরোধের কারণে একজন প্রবাসী ক্রেতা কেন ক্ষতিগ্রস্ত হবেন? এমন প্রশ্নও তোলেন তিনি।

 

প্রকাশক : কাজী জসিম উদ্দিন   |   সম্পাদক : ওয়াহিদুজ্জামান

© Deshchitro 2024