শার্শায় হোয়াটসঅ্যাপ হ্যাক করে পরিচিতজনদের কাছে টাকা দাবি, আতঙ্কে রাজনৈতিক নেতা-সাংবাদিক-শিক্ষক-ব্যবসায়ীরা *পরিচিত ব্যক্তির নম্বর ও প্রোফাইল ছবি ব্যবহার করে মেসেজ আসায় অনেকেই বিভ্রান্ত হয়ে পড়ছেন যশোরের শার্শায় হোয়াটসঅ্যাপ অ্যাকাউন্ট হ্যাক করে পরিচিতজনদের কাছে টাকা দাবি করার অভিযোগে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। গত কয়েকদিনে রাজনৈতিক নেতা-কর্মী, সাংবাদিক, শিক্ষক ও ব্যবসায়ীদের ব্যবহৃত মোবাইল নম্বর ও হোয়াটসঅ্যাপ অ্যাকাউন্ট হ্যাক করে তাদের পরিচয় ও ছবি ব্যবহার করে ১০ থেকে ২০ হাজার টাকা পর্যন্ত ধার চাওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী হয়েছেন দৈনিক লোকসমাজের বাগআঁচড়া প্রতিনিধি ও সিনিয়র সাংবাদিক আজিজুল ইসলাম। তিনি জানান, কয়েকদিন আগে তার হোয়াটসঅ্যাপ অ্যাকাউন্ট হ্যাক করে পরিচিত বিভিন্ন ব্যক্তির কাছে টাকা চেয়ে মেসেজ পাঠানো হয়। সাংবাদিক আজিজুল ইসলাম বলেন, তার নম্বর হ্যাক হওয়ার পরের দিনই কায়বা ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি ও সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান রবিউল হোসেন, বাগআঁচড়া ইউনাইটেড মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক খান হাসান আরিফ আহম্মেদ, দীঘা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আশরাফ আলী, উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক মোস্তাফিজ্বোহা সেলিম ও বেনাপোল পৌরসভার সাবেক মেয়র আশরাফুল আলম লিটনের ব্যবহৃত নম্বরও হ্যাক করা হয়েছে বলে তিনি জানতে পারেন। এসব নম্বর থেকেও পরিচিতজনদের কাছে টাকা চেয়ে মেসেজ পাঠানো হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। ভুক্তভোগীরা জানান, হ্যাক করা নম্বর থেকে পরিচিতজনদের হোয়াটসঅ্যাপে মেসেজ পাঠিয়ে বলা হচ্ছে,‘বিপদে পড়েছি’, ‘জরুরি টাকা প্রয়োজন’ অথবা ‘এখন টাকা ধার দেন, পরে ফেরত দিয়ে দেব।’ এরপর একটি বিকাশ নম্বর দিয়ে দ্রুত টাকা পাঠাতে বলা হচ্ছে। পরিচিত ব্যক্তির নম্বর ও ছবি ব্যবহার করে মেসেজ আসায় অনেকেই প্রথমে বিষয়টি সত্য মনে করছেন। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রতারকরা প্রথমে কোনো ব্যক্তির হোয়াটসঅ্যাপ অ্যাকাউন্টের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার চেষ্টা করে। নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার পর ওই ব্যক্তির নাম, ছবি ও পরিচিতির সুযোগ কাজে লাগিয়ে তার হোয়াটসঅ্যাপের কনট্যাক্ট তালিকায় থাকা ব্যক্তিদের কাছে মেসেজ পাঠানো হচ্ছে। জরুরি প্রয়োজনের কথা বলে দ্রুত টাকা পাঠাতে বলা হচ্ছে। এ ক্ষেত্রে ১০ থেকে ২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাওয়া হচ্ছে বলে ভুক্তভোগীরা জানিয়েছেন। পরিচিত ব্যক্তির নম্বর ও প্রোফাইল ছবি ব্যবহার করে মেসেজ আসায় অনেকেই বিভ্রান্ত হয়ে পড়ছেন। তবে সচেতন কয়েকজন টাকা পাঠানোর আগে সরাসরি সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির সঙ্গে ফোনে যোগাযোগ করে বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ায় প্রতারণার হাত থেকে রক্ষা পেয়েছেন। একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তির মোবাইল নম্বর হ্যাক হওয়ার ঘটনায় শার্শায় বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। বিশেষ করে রাজনৈতিক ব্যক্তি, সাংবাদিক, শিক্ষক ও ব্যবসায়ীদের নম্বর টার্গেট করে ধারাবাহিকভাবে এমন ঘটনা ঘটায় স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে। দ্রুত তদন্ত করে কারা এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত এবং কীভাবে অ্যাকাউন্টগুলোর নিয়ন্ত্রণ নেওয়া হচ্ছে, তা শনাক্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া অনুরোধ জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা। এ বিষয়ে শার্শা থানার অফিসার ইনচার্জ(ওসি) শামিনুর ইসলাম বলেন, “এ ধরনের ঘটনায় এখন পর্যন্ত থানায় কেউ কোনো লিখিত অভিযোগ দেননি। অভিযোগ পাওয়া গেলে তথ্যপ্রযুক্তির মাধ্যমে হ্যাকারদের শনাক্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব।” তিনি আরও বলেন, কোনো ব্যক্তির নম্বর থেকে হঠাৎ টাকা চেয়ে মেসেজ এলে যাচাই না করে কোনোভাবেই টাকা পাঠানো যাবে না। সরাসরি ফোন করে অথবা অন্য কোনো মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির সঙ্গে যোগাযোগ করে বিষয়টি নিশ্চিত হতে হবে। একই সঙ্গে হোয়াটসঅ্যাপে আসা সন্দেহজনক কোনো লিংকে প্রবেশ না করা এবং OTP, ভেরিফিকেশন কোড বা ব্যক্তিগত তথ্য কারও সঙ্গে শেয়ার না করার জন্য সবাইকে সতর্ক থাকার পরামর্শ দেন তিনি।
প্রকাশক : কাজী জসিম উদ্দিন   |   সম্পাদক : ওয়াহিদুজ্জামান

© Deshchitro 2024