|
Date: 2026-08-25 19:00:54 |
লাখাইয়ে সুতাংনদীর স্তূপীকৃত বালি নিলাম দিতে গিয়ে স্থানীয়দের তোপের মুখে উপজেলা প্রশাসন।
লাখাইয়ে উপজেলার সুতাংনদীর নাব্যতা পুনরুজ্জীবিত করনের লক্ষ্যে সরকারি ভাবে ড্রেজিং শুরু হওয়ায় নদী থেকে উত্তোলিত বালি দিয়ে দিয়ে সরকারি বিদ্যালয়, মসজিদ প্রাঙ্গণ,মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের মাঠসহ বিভিন্ন স্থান ভরাট করার পাশাপাশি অতিরিক্ত বালি বিভিন্ন এলাকায় স্তূপীকৃত করে রাখা হয়েছে। এ স্তুপিকৃত বালির ৫ টি স্তুপ প্রকাশ্যে নিলাম দেওয়ার উদ্যোগ গ্রহণ করে উপজেলা প্রশাসন। নিলাম বাস্তবায়নের পদক্ষেপ এর অংশ হিসাবে মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) লাখাই উপজেলার ১ নং লাখাই ইউনিয়ন এর লাখাই গ্রামের বাংগালপাড়া হাটির পাশে স্তুপিকৃত বালি নিলাম দেওয়ার উদ্যোগ গ্রহণ করে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইউএনও সৈয়দ মুরাদ ইসলাম। এ সময় সংসলিষ্ট বিভাগের কর্মকর্তাগন,নিলাম গ্রহণ করতে আগ্রহী গন ও স্থানীয় গণমাধ্যম কর্মী এবং এলাকাবাসী উপস্থিত ছিলেন। নিলাম কার্যক্রম শুরুর প্রাক্কালে বাংগাল পাড় হাটির শত শত নারী পুরুষ নিলাম কার্যক্রম বাস্তবায়নে বাধা হয়ে দাড়ায় এবং বিক্ষুব্ধ হয়ে উঠে। তাদের দাবী আমরা স্থানীয় লোকজন সকলের ঐক্য বদ্ধ প্রয়াস চালিয়ে স্থানীয় কয়েকজন রাজনৈতিক দলের নেতাদের টাকা দিয়ে বালি ক্রয় করে আমাদের নীচু জমি ভরাট করেছি।হয়তো আমাদের টাকা ফেরত দেওয়া হোক নতুবা আমাদের জমিতে ভরাট করা বালি জমিতেই থাকবে।এ বালি নিলাম দিতে দেবনা।তাঁরা জন সম্মুখে অভিযোগ করেন স্বেচ্ছাসেবক দলের লাখাই ইউনিয়ন কমিটির সভাপতি তোফাজ্জল হোসেন,ইউনিয়ন যুবদলের সেক্রেটারি রায়হান উদ্দিন সহ কয়েক জন আমাদের নিকট থেকে বালির বিনিময়ে মোটা অংকের টাকা হাতিয়ে নিয়েছে।আমরা এ টাকা ফেরত চাই নয়তু বালি চাই।এমন উদ্ভুত পরিস্থিতিতে উপজেলা প্রশাসন নিলাম কার্যক্রম বাস্তবায়ন না করে ফেরত যেতে বাধ্য হয় এবং পরবর্তীতে উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে নিলাম দেওয়ার কার্যক্রম সম্পন্ন করেন বলে জানা যায়।
স্থানীয়দের দাবী,লাখাই ইউনিয়নের এই অসহায় মানুষগুলোর চোখের পানি কি আমাদের বিবেককে একবারও নাড়া দেবে না?
তিল তিল করে জমানো কষ্টের টাকা দিয়ে, হারভাঙা পরিশ্রমের উপার্জন দিয়ে তারা স্বপ্ন দেখেছিল—নিজেদের এক টুকরো বসতভিটা হবে। সুতাং নদী ড্রেজিংয়ের সময় সেই স্বপ্ন পূরণের আশায় তারা বালু ভরাটের জন্য ঠিকাদারকে অর্থ দিয়েছে, বিভিন্ন খরচ বহন করেছে, এমনকি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে ম্যানেজ করার জন্যও অর্থ ব্যয় করেছে এমন অভিযোগ স্থানীয়দের।
পরবর্তীতে সমালোচনার মুখে সরকারি বালু নিলাম হবে, নিলামের অর্থ সরকারি কোষাগারে জমা হবে। কিন্তু প্রশ্ন থেকে যায় এই অসহায় মানুষগুলোর কষ্টার্জিত যে অর্থ ইতোমধ্যে খরচ হয়ে গেছে, সেই অর্থের কী হবে?
তাদের কাছে এই টাকা নিছক টাকা নয় এটা তাদের সারাজীবনের সঞ্চয়, তাদের সন্তানের ভবিষ্যৎ, তাদের মাথা গোঁজার ঠাঁইয়ের স্বপ্ন।
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইউএনও সৈয়দ মুরাদ ইসলাম বলেন স্তূপীকৃত বালির ৫ টি স্পট এর নিলাম দেওয়ার কার্যক্রম যথানিয়মে সম্পন্ন হয়েছে তবে বাংগালপাড় হাটির বালির বিষয়ে স্থানীয়রা অর্থ আদায়ের যে অভিযোগ করেছেন সে বিষয়ে লিখিত অভিযোগ পেলে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে
© Deshchitro 2024