|
Date: 2026-08-19 18:00:46 |
সাতক্ষীরায় প্রয়োজনীয় লাইসেন্স ও সরকারি অনুমোদন ছাড়াই পরিচালিত একটি বেসরকারি ক্লিনিকে অভিযান চালিয়ে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। একই সঙ্গে অননুমোদিত ওই ক্লিনিকের সব ধরনের কার্যক্রম বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
বুধবার (১৯ আগস্ট) দুপুর ৩টার দিকে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব)-৬-এর গোপন তথ্যের ভিত্তিতে জেলা প্রশাসনের সহযোগিতায় সাতক্ষীরা শহরের ‘সাতক্ষীরা সার্জিক্যাল ক্লিনিক’-এ এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।
অভিযান সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, ক্লিনিকটি বৈধ কাগজপত্র ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের প্রয়োজনীয় অনুমোদন ছাড়াই চিকিৎসাসেবা কার্যক্রম পরিচালনা করছে এমন তথ্য পায় র্যাব-৬। বিষয়টি জেলা প্রশাসনকে অবহিত করার পর যৌথভাবে অভিযান পরিচালনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
অভিযানকালে ক্লিনিকটির প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও অনুমোদন সংক্রান্ত বিষয় যাচাই-বাছাই করা হয়। এ সময় অভিযোগের সত্যতা পাওয়ায় ভ্রাম্যমাণ আদালত সংশ্লিষ্ট আইনে ক্লিনিকটির প্রতিনিধি মো. আক্কাস হোসেনকে ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করেন।
ভ্রাম্যমাণ আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী জরিমানার অর্থ তাৎক্ষণিকভাবে পরিশোধ করতে বলা হয়। জরিমানার অর্থ পরিশোধে ব্যর্থ হলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে দুই মাসের কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে বলেও আদালতের পক্ষ থেকে নির্দেশ দেওয়া হয়।
অভিযান পরিচালনা করেন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সাইফুল ইসলাম। এ সময় র্যাব-৬-এর কোম্পানি কমান্ডার জায়েন উদ্দিন মোহাম্মদ জিয়াদসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
র্যাব-৬-এর কোম্পানি কমান্ডার জায়েন উদ্দিন মোহাম্মদ জিয়াদ জানান, কোনো বৈধ কাগজপত্র ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অনুমোদন ছাড়া ক্লিনিক পরিচালনার অভিযোগের ভিত্তিতেই সেখানে অভিযান চালানো হয়েছে। অভিযানে অভিযোগের সত্যতা পাওয়ায় আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
ভ্রাম্যমাণ আদালত একই সঙ্গে ‘সাতক্ষীরা সার্জিক্যাল ক্লিনিক’-এর সব ধরনের কার্যক্রম বন্ধ রাখার নির্দেশ দেন। পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত ক্লিনিকটিতে চিকিৎসাসেবা কার্যক্রম পরিচালনা না করার জন্য সংশ্লিষ্টদের সতর্ক করা হয়।
সংশ্লিষ্টরা জানান, সাধারণ মানুষের নিরাপদ ও মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে কোনো প্রতিষ্ঠানকে সরকারি বিধিবিধান ও প্রয়োজনীয় অনুমোদন ছাড়া চিকিৎসাসেবা পরিচালনার সুযোগ দেওয়া হবে না। জনস্বার্থে লাইসেন্স ও প্রয়োজনীয় অনুমোদন ছাড়া পরিচালিত স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে জেলা প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।
© Deshchitro 2024