|
Date: 2026-08-18 17:01:45 |
গোয়ালন্দে শাপলা মহিলা সংস্থার আয়োজনে কমিনিউটি কর্মশালা সংবেদনশীলতা বৃদ্ধিমূলক সভা
রাজবাড়ীর গোয়ালন্দে দৌলতদিয়া যৌনপল্লীতে বসবাসরত নারী ও শিশুদের সুরক্ষা, স্বাস্থ্যঝুঁকি মোকাবিলা, মানবপাচার প্রতিরোধ এবং তাদের স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনার বিষয়ে সচেতনতা বাড়াতে কমিউনিটি কর্মশালা ও সংবেদনশীলতা বৃদ্ধিমূলক সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) দুপুর ১২টায় দৌলতদিয়ায় পায়াকট বাংলাদেশ-এর প্রশিক্ষণ হলরুমে শাপলা মহিলা সংস্থার (এসএমএস) আয়োজনে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।
সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মারুফ হাসান। সভায় সভাপতিত্ব করেন শাপলা মহিলা সংস্থার প্রজন্ম-সোপান প্রকল্পের মনিটরিং অফিসার বিধান রায়। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন সোপান প্রকল্পের প্রজেক্ট ইমপ্লিমেন্টেশন অফিসার মো. খোরশেদ আলম।
সভায় অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন গোয়ালন্দঘাট থানার প্রতিনিধি এসআই রাজিব সিকদার, উপজেলা সমাজসেবা অধিদপ্তরের প্রতিনিধি মো. হাবিবুর রহমান, বীর মুক্তিযোদ্ধা ফকির আব্দুল জব্বার গার্লস স্কুলের প্রধান শিক্ষক মো. মানিক মিয়া, ইউনিয়ন পরিষদের সচিব মো. ইব্রাহিম হোসেন, পায়াকট বাংলাদেশ-এর প্রোগ্রাম ম্যানেজার মো. মজিবুর রহমান জুয়েল, গোয়ালন্দ সাংবাদিক ফোরামের সদস্য সচিব মো. মোজাম্মেল হকসহ বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকরা।
সভায় দৌলতদিয়া যৌনপল্লীতে বসবাসরত নারী ও শিশুদের বিভিন্ন সমস্যা, তাদের স্বাস্থ্যঝুঁকি, নিরাপত্তা, অধিকার এবং সামাজিক সুরক্ষা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। বিশেষ করে যৌনপল্লীতে বসবাসকারী নারী ও শিশুদের কীভাবে নিরাপদ ও স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনা যায়, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর সমন্বিত ভূমিকার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।
আলোচনায় মানবপাচার প্রতিরোধ ও পাচারের শিকার ব্যক্তিদের উদ্ধারে কার্যকর ট্রাফিকিং ম্যানেজমেন্ট, যৌনপল্লীতে শিশুদের যৌন নিপীড়ন ও শোষণ থেকে রক্ষা, শিশুদের মাদক ব্যবসায় ব্যবহারের ঝুঁকি এবং তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিভিন্ন দিক তুলে ধরা হয়। একই সঙ্গে যৌনপল্লীর বাসিন্দাদের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা, স্বাস্থ্যঝুঁকি কমানো এবং স্যানিটেশন কার্যক্রমের মাধ্যমে নারীদের সুরক্ষা জোরদারের বিষয়েও আলোচনা করা হয়।
এসভায় উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মারুফ হাসান বলেন “ যৌনপল্লীতে বসবাসরত নারী ও শিশুরাও সমাজের অংশ এবং তাদের স্বাস্থ্য, নিরাপত্তা ও মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করা সবার দায়িত্ব। তাদের স্বাস্থ্যঝুঁকি কমাতে নিয়মিত স্বাস্থ্যসেবা, সচেতনতা, নিরাপদ স্যানিটেশন ব্যবস্থা এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে।
তিনি বলেন, বিশেষ করে শিশুদের সুরক্ষার বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কোনো শিশুকে যেন যৌন নিপীড়ন, মাদক ব্যবসা, মানবপাচার বা অন্য কোনো ধরনের শোষণের শিকার হতে না হয়, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সব প্রতিষ্ঠানকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। একই সঙ্গে যারা স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে চান, তাদের জন্য সামাজিক ও প্রাতিষ্ঠানিক সহায়তার ব্যবস্থা করা প্রয়োজন।
ডা. মারুফ হাসান আরও বলেন, শুধু আইন প্রয়োগের মাধ্যমে এ সমস্যার স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়; স্বাস্থ্য, সমাজসেবা, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, স্থানীয় প্রশাসন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থাসহ সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। এ ধরনের কর্মশালা মাঠপর্যায়ে কাজ করা সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে সমন্বয় ও সংবেদনশীলতা বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।”
সভায় বক্তারা বলেন, দৌলতদিয়া যৌনপল্লীর নারী ও শিশুদের নিরাপত্তা ও অধিকার নিশ্চিত করতে নিয়মিত সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনার পাশাপাশি প্রয়োজনীয় সরকারি-বেসরকারি সেবা সহজলভ্য করতে হবে। মানবপাচার, শিশু নির্যাতন, মাদক ও যৌন শোষণ প্রতিরোধে স্থানীয় পর্যায়ে কার্যকর নজরদারি এবং দ্রুত সেবা নিশ্চিত করার ওপরও গুরুত্বারোপ করেন তারা।
আয়োজকরা জানান, সংশ্লিষ্ট সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতা ও সমন্বয় বৃদ্ধির পাশাপাশি দৌলতদিয়া যৌনপল্লীর নারী ও শিশুদের নিরাপদ জীবন, স্বাস্থ্যসেবা ও সামাজিক সুরক্ষা নিশ্চিত করাই এ কর্মশালার অন্যতম উদ্দেশ্য।
© Deshchitro 2024