পলাশে যৌতুকের জন্য প্রবাস ফেরত স্ত্রীকে হত্যার দায়ে স্বামীর যাবজ্জীবন কারাদণ্ড
‎
‎পলাশ উপজেলা প্রতিনিধি, নরসিংদী
‎
‎
‎                   নরসিংদীর পলাশে যৌতুকের দাবিতে প্রবাস ফেরত স্ত্রী সুমি আক্তারকে (২৩) গলাটিপে শ্বাসরুদ্ধ করে হত্যার দায়ে স্বামী নূর আলম রূপা (৩০)কে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাকে এক লাখ টাকা অর্থদণ্ড করা হয়েছে।
‎
‎           ৩০ জুলাই ২০২৬ রোজ বৃহস্পতিবার দুপুরে নরসিংদী নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মুহাম্মদ আলী আহসান এ রায় দেন। রায় ঘোষণার সময় আসামি নূর আলম রুপা আদালতে উপস্থিত ছিলেন।
‎
‎             আদালত ও নিহতের পরিবার সূত্রে জানা যায়, ২০১৭ সালে পলাশ উপজেলার ঘোড়াশাল পৌর এলাকার উত্তর মিয়াপাড়ার আবদুর রহিমের ছেলে নূর আলম রূপার সঙ্গে কিশোরগঞ্জের তাড়াইল উপজেলার তালজংগা এলাকার ফজলু মিয়ার মেয়ে সুমি আক্তারের বিয়ে হয়। এরপর থেকে তারা উত্তর মিয়াপাড়ায় একটি ভাড়া বাসায় বসবাস শুরু করেন।
‎
‎                   অভিযোগ অনুযায়ী, বিয়ের কিছুদিন পর থেকেই রূপা যৌতুকের দাবিতে সুমির ওপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালাতে শুরু করেন। তাদের সংসারে একটি ছেলে সন্তানের জন্ম হলেও নির্যাতন বন্ধ হয়নি। মেয়ের সংসার টিকিয়ে রাখতে সুমির বাবা, যিনি পেশায় রিকশাচালক, কয়েক দফায় রূপাকে দুই লাখ টাকা দেন। পরে আরও ৫০ হাজার টাকা দাবি করা হলে তা দিতে না পারায় সুমির ওপর আবারও নির্যাতন চালানো হয়।
‎
‎                  পরিস্থিতির একপর্যায়ে সুমি জীবিকার জন্য বিদেশে যান। সেখান থেকে স্বামী ও সন্তানের ভবিষ্যতের কথা ভেবে নিয়মিত অর্থ পাঠালেও, অভিযোগ অনুযায়ী, রূপা সেই অর্থ সঞ্চয় না করে বিভিন্নভাবে খরচ করেন। ২০২৩ সালের সেপ্টেম্বরে দেশে ফেরার পর রূপা একটি মোটরসাইকেল কিনে দেওয়ার দাবি করেন। এ সময় সুমি তার পাঠানো টাকার হিসাব চাইলে তাদের মধ্যে বিরোধ শুরু হয় এবং নির্যাতন আরও বেড়ে যায়।
‎
‎            মামলার তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালের ১৮ নভেম্বর রাত ১০টা থেকে পরদিন সকাল ১১টার মধ্যে কোনো এক সময় পরিকল্পিতভাবে সুমিকে গলাটিপে শ্বাসরুদ্ধ করে হত্যা করা হয়। পরদিন সকালে চার বছরের ছেলে ইলমীকে কৌশলে এক আত্মীয়ের বাসায় রেখে পালিয়ে যান রূপা। পরে পরিবারের সদস্যরা ভাড়া বাসায় গিয়ে মেঝেতে সুমির মরদেহ দেখতে পান।
‎
‎                             এ ঘটনায় নিহতের বাবা ফজলু মিয়া বাদী হয়ে পলাশ থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন আইনে মামলা করেন। অভিযোগপত্রের ভিত্তিতে সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে আদালত বৃহস্পতিবার এ রায় ঘোষণা করেন।
‎
‎

প্রকাশক : কাজী জসিম উদ্দিন   |   সম্পাদক : ওয়াহিদুজ্জামান

© Deshchitro 2024