|
Date: 2026-07-23 11:02:24 |
চট্টগ্রামের চন্দনাইশ উপজেলায় হঠাৎ করেই সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোকে টার্গেট করে সক্রিয় হয়ে উঠেছে একটি সংঘবদ্ধ চোর চক্র। চলতি মাসেই উপজেলার ৪টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে চুরির ঘটনা ঘটেছে। একের পর এক বিদ্যালয়ে এমন দুঃসাহসিক চুরির ঘটনায় স্থানীয় শিক্ষক, অভিভাবক ও সচেতন সমাজের মাঝে তীব্র উদ্বেগ ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা
যায়, চোর
চক্রের শিকার
হওয়া বিদ্যালয়গুলো
হলো—চন্দনাইশ
সদর সরকারি
প্রাথমিক বিদ্যালয়,
ফতেনগর সরকারি
প্রাথমিক বিদ্যালয়,
দোহাজারী সরকারি
প্রাথমিক বিদ্যালয়
এবং পাঠানদণ্ডী
উজির আলী
সরকারি প্রাথমিক
বিদ্যালয়। চুরি হওয়া মালামালের মধ্যে
রয়েছে শিক্ষার্থীদের
ডিজিটাল শিক্ষাদানে
ব্যবহৃত ল্যাপটপ,
প্রজেক্টর, আইপিএস, সাউন্ড সিস্টেম, কম্পিউটারসহ
গুরুত্বপূর্ণ দাপ্তরিক ও শিক্ষা উপকরণ।
এসব মূল্যবান
সরঞ্জাম চুরি
হয়ে যাওয়ায়
বিদ্যালয়গুলোতে স্বাভাবিক পাঠদান ও আইসিটি
ভিত্তিক শিক্ষা
কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রতিটি
সরকারি প্রাথমিক
বিদ্যালয়ে নিরাপত্তা ও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার
জন্য চুক্তিভিত্তিক
‘দপ্তরি-কাম-প্রহরী’ নিয়োগবিধি
থাকলেও অনেক
বিদ্যালয়ে পদটি খালি রয়েছে। কিছু
কিছু বিদ্যালয়ে
প্রহরীরা দিনের
বেলা দীর্ঘ
সময় অবস্থান
ও দাপ্তরিক
কাজ করায়
রাতের বেলা
অনেকেই বিদ্যালয়ে
অবস্থান করেন
না। ফলে
রাতে বিদ্যালয়গুলো
অরক্ষিত থেকে
যায়। এ
সুযোগটি কাজে
লাগিয়ে চোরের
দল বিদ্যালয়ের
মূল্যবান জিনিসপত্র
চুরি করে
নিয়ে যাচ্ছে।
স্থানীয় অভিভাবকরা জানান,
বিদ্যালয়গুলোতে ডিজিটাল শিক্ষা নিশ্চিত করতে
সরকার ল্যাপটপ
ও প্রজেক্টর
দিয়েছিল। কিন্তু
রাতে নিরাপত্তা
না থাকায়
একের পর
এক বিদ্যালয়ে
চুরি হচ্ছে।
এ বিষয়ে
সংশ্লিষ্ট প্রশাসন ও থানা পুলিশ
কর্তৃক দ্রুত
পদক্ষেপ গ্রহণ
এবং প্রহরীদের
দায়িত্ব নিশ্চিত
করার জোর
দাবি জানিয়েছেন
তারা।
গত ২০ জুলাই
দিবাগত রাতে
৫মে বারের
মতো চন্দনাইশ
সদর সরকারি
প্রাথমিক বিদ্যালয়ের
অফিস কক্ষের
লক ভেঙে
প্রবেশ করে
সিসি ক্যামেরা,
মনিটর, নগদ
টাকাসহ ৫০
হাজার টাকার
মালামাল নিয়ে
যায়। এ
ব্যাপারে প্রধান
শিক্ষক রুমা
চক্রবর্তী বাদী হয়ে চন্দনাইশ থানায়
অভিযোগ দায়ের
করেন।
এদিকে গত ১৮
জুলাই দিবাগত
রাতে চোরের
দল দোহাজারী
সরকারি প্রাথমিক
বিদ্যালয়ের অফিস কক্ষের তালা ভেঙে
প্রবেশ করে
২টি ল্যাপটপ,
৮টি বৈদ্যুতিক
পাখা, ইউপিএস,
মনিটর, প্রজেক্টরসহ
২ লক্ষাধিক
টাকার মালামাল
চুরি করে
নিয়ে যায়।
একইভাবে গত
১৯ জুলাই
পাঠানদণ্ডী উজির আলী সরকারি প্রাথমিক
বিদ্যালয়ের অফিস কক্ষের দরজা ভেঙে
চোর প্রবেশ
করে মূল্যবান
জিনিসপত্র নিয়ে যায়। একইভাবে ফতেনগর
সরকারি প্রাথমিক
বিদ্যালয়ে পৃথক চুরির ঘটনা সংগঠিত
হয়।
উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা
অফিস থেকে
সরঞ্জাম উদ্ধার
ও আইনানুগ
সহযোগিতার কোনো তৎপরতা না দেওয়ায়
সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গ হতাশ। তারা হতাশ
হয়ে বলেন,
"সরকারি মাল দরিয়া মে ঢাল"। এ ব্যাপারে বক্তব্য জানতে
ভারপ্রাপ্ত উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার
মো. ইলিয়াছকে
ফোনে যোগাযোগ
করা হলে
তিনি প্রতিনিধিকে
তার অফিসে
যেতে বলেন।
অন্যথায় প্রতিনিধি
পাঠালেও সহযোগিতা
করবেন বলে
উল্লেখ করেন
তিনি।
© Deshchitro 2024