‎সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওকে কেন্দ্র করে জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয়  নেতা ও সাতক্ষীরা-৪ (শ্যামনগর) আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামকে ঘিরে চলমান বিতর্কের মধ্যে শ্যামনগরে বিক্ষোভ মিছিল, মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।


‎কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া বক্তারা অভিযোগ গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত এবং সত্যতা প্রমাণিত হলে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান।


‎বুধবার (২২ জুলাই) দুপুরে ‘শ্যামনগরের সচেতন নাগরিক সমাজ’-এর ব্যানারে শ্যামনগর বাজার থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের হয়। এতে উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন থেকে আসা স্থানীয় নারী-পুরুষ ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ এবং সামাজিক সংগঠনের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।


‎মিছিলটি শ্যামনগর বাজারের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে উপজেলা প্রেসক্লাবের সামনে গিয়ে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশে মিলিত হয়।


‎বিক্ষোভ কারীদের অনেকের হাতে গাজী নজরুল ইসলামের ছবি ও প্রতীকী ঝাড়ু দেখা যায়। এ সময় তারা বিভিন্ন প্রতিবাদী স্লোগান দেন। এর মধ্যে ছিল—“ছি ছি নজরুল, লজ্জায় বাঁচি না”, “হই হই রই রই, বট বাহিনী গেলি কই” এবং “শ্যামনগরে হবে না, বট বাহিনীর ঠিকানা”।


‎মিছিলে অংশ নেওয়া বিভিন্ন ইউনিয়নের কয়েকজন বাসিন্দা বলেন, আমাদের কাছ থেকে ভোট নিয়ে মানুষের সঙ্গে প্রতারণা করা হয়েছে। অভিযোগ গুলোর সুষ্ঠু তদন্ত এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা চাই।


‎মানববন্ধনে বক্তব্য দেন নুরজাহান পারভীন ঝর্ণা। তিনি বলেন, আমরা নারীদের নিরাপত্তা চাই। বড় বড় কথা বললেই হবে না, নারীদের প্রকৃত নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। অভিযোগ গুলোর সুষ্ঠু তদন্ত করে সত্যতা প্রমাণিত হলে দায়ীদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নিতে হবে।


‎সমাবেশে পদ্মপুকুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোঃ আমজাদুল ইসালম বলেন, দাঁড়িপাল্লা প্রতীক নিয়ে মানুষের ভোটে নির্বাচিত হওয়ার পর একের পর এক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। জনগণ পরিবর্তনের আশায় ভোট দিয়েছিল, কিন্তু আজ তারা প্রতারিত বোধ করছে। আমরা নিরপেক্ষ তদন্ত এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা চাই।


‎নাগরিক নেতা অধ্যক্ষ আবু সাইদ বলেন, জনগণ যে প্রত্যাশা নিয়ে একজন জনপ্রতিনিধিকে নির্বাচিত করেছিল, সেই প্রত্যাশা ভেঙে গেছে। শ্যামনগরের মানুষের সম্মান কোনো ব্যক্তি বা দলের চেয়ে বড়। তাই প্রকৃত ঘটনা উদ্ঘাটন এবং জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে।


‎নাগরিক নেতা আশিকি এলাহি মুন্না বলেন, প্রথমে একটি ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে সেটিকে এআই দিয়ে তৈরি বলে দাবি করা হয়েছিল। পরে একের পর এক ভিডিও প্রকাশের পর সেই দাবি আর শোনা যায়নি। এরপর সংসদ সদস্য নিজেই ফেসবুকে দেওয়া এক বিবৃতিতে ওই নারীকে তার দ্বিতীয় স্ত্রী বলে উল্লেখ করেন। পরে আরও একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে, যেখানে তাকে একটি বাড়িতে স্থানীয়দের হাতে ধরা পড়তে দেখা যায় বলে দাবি করা হচ্ছে।


‎তিনি আরও বলেন, এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে সারা দেশে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। এতে শ্যামনগরের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয়েছে। আমরা সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক দলের প্রতি আহ্বান জানাই, দ্রুত সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হোক। একই সঙ্গে সরকারের কাছে দাবি জানাই, অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত করে সত্যতা প্রমাণিত হলে তাকে আইনের আওতায় আনা হোক।


‎সমাবেশ থেকে বক্তারা অভিযোগগুলোর সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদ্ঘাটন এবং আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নিশ্চিত করার দাবি জানান।


‎বিক্ষোভ কর্মসূচি চলাকালে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা এলাকায় অবস্থান নেন। তবে কোথাও কোনো অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি।


‎এদিকে, সমাবেশে উত্থাপিত অভিযোগের বিষয়ে সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলাম বা তার পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া সম্ভব হয়নি।

প্রকাশক : কাজী জসিম উদ্দিন   |   সম্পাদক : ওয়াহিদুজ্জামান

© Deshchitro 2024