চট্টগ্রামের চন্দনাইশ উপজেলার বৈলতলী ইউনিয়ন পরিষদে বন্যা দুর্গতদের মাঝে এনজিওর ত্রাণ বিতরণে অনিয়মের প্রতিবাদ করায় বৈলতলী ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক মো. সেলিমকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এস. এম. সায়েমের বিরুদ্ধে।

গত মঙ্গলবার দুপুরে বৈলতলী ইউনিয়ন পরিষদ মাঠে আন্তর্জাতিক এনজিও সংস্থাইসলামিক রিলিফ বাংলাদেশ’-এর খাদ্যসামগ্রী নগদ অর্থ বিতরণ চলাকালে ঘটনা ঘটে।

বিএনপি নেতার অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, এনজিওটি ত্রাণ অর্থ বিতরণের জন্য ইউপি চেয়ারম্যান স্থানীয় বিএনপি নেতাদের সহযোগিতা নেয়। কিন্তু বিতরণকালে প্রকৃতপক্ষে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে বাদ দিয়ে অপেক্ষাকৃত স্বাবলম্বী ব্যক্তিযেমন: স্কেভেটর পাকা ঘরের মালিক নম্বর ওয়ার্ডের মো. মঞ্জুরের মত একাধিক ব্যক্তি ত্রাণ প্রদান করা হচ্ছিল। অনিয়মের প্রতিবাদ জানালে ইউপি চেয়ারম্যান এস. এম. সায়েমের নেতৃত্বে তার ওপর হামলা চালানো হয়।

আহত বিএনপি নেতা মো. সেলিম জানান, এলোপাতাড়ি কিল-ঘুষিতে তার বুকের দুই পাশে মুখে গুরুতর আঘাত লাগে এবং মুখ দাঁত দিয়ে রক্ত পড়তে থাকে। পরবর্তীতে চন্দনাইশ থানার এসআই রশিদ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাকে উদ্ধার করেন। এরপর তিনি চন্দনাইশ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রাথমিক চিকিৎসা গ্রহণ করেন। ঘটনায় তিনি চেয়ারম্যানসহ জনের নাম উল্লেখ এবং অজ্ঞাতনামা আরও / জনকে বিবাদী করে চন্দনাইশ থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।

অন্যদিকে, বিষয়টি অস্বীকার করে বৈলতলী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান এস. এম. সায়েম জানান, সেখানে বড় ধরনের কোনো ঘটনা বা হামলা ঘটেনি। অভিযোগের বিষয়ে তিনি বলেন, “মঞ্জুর নামের ওই ব্যক্তি সাব্বির নামক এক ব্যক্তির কাছে ১৫ লাখ টাকায় স্কেভেটর বন্ধক রেখেছেন। বিএনপি নেতা মিজানই তালিকায় তার নাম দিয়েছেন। তাছাড়া মঞ্জুরের কাছে সেলিম টাকা পান, যা নিয়ে তিনি সেখানে বাড়াবাড়ি করছিলেন।তার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগের বিষয়ে তিনি কোনো হস্তক্ষেপ করবেন না বলেও জানান।

বিষয়ে বিশেষ সূত্রে জানা গেছে, প্রাপ্ত লিখিত অভিযোগের প্রেক্ষিতে বিষয়টি নিষ্পত্তির লক্ষ্যে ২২ জুলাই (বুধবার) ওসির কার্যালয়ে একটি আপস-মীমাংসা বৈঠকের আহ্বান করা হয়েছে।

 

প্রকাশক : কাজী জসিম উদ্দিন   |   সম্পাদক : ওয়াহিদুজ্জামান

© Deshchitro 2024