|
Date: 2026-07-20 21:56:45 |
দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম বৃহৎ ঔষধি উদ্ভিদ ও ফাইটোকেমিক্যাল ডাটাবেজ নির্মাণে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রেখেছেন পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (পবিপ্রবি) শিক্ষার্থী ইসমাইল হোসেন।
এ্যানিমেল সায়েন্স অ্যান্ড ভেটেরিনারি মেডিসিন অনুষদের ডক্টর অব ভেটেরিনারি মেডিসিন ডিসিপ্লিনের চতুর্থ বর্ষের এই শিক্ষার্থী গত দুই বছর ধরে বাংলাদেশের প্রথম বায়োইনফরম্যাটিক্স প্রতিষ্ঠান ডন অব বায়োইনফরম্যাটিক্স লিমিটেডের 'বাংলাদেশ মেডিসিনাল প্ল্যান্টস অ্যান্ড ফাইটোকেমিক্যালস ডেটাবেস' (বিএমপিপিডি) প্রকল্পে গবেষণা সদস্য হিসেবে কাজ করছেন।
ডাটাবেজ নির্মাণে ইসমাইল হোসেন তথ্য সংগ্রহ ও পরিমার্জন(ডাটা কিউরেশন) এবং বায়োইনফরম্যাটিক্স বিশ্লেষণ উভয় ক্ষেত্রেই কাজ করেছেন। ভেটেরিনারি বিজ্ঞানের একজন শিক্ষার্থী হিসেবে ঔষধি উদ্ভিদ ও প্রাণিজ চিকিৎসার সংযোগস্থলে তার এই অংশগ্রহণকে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
এ প্রসঙ্গে ইসমাইল হোসেন বলেন, "বাংলাদেশে শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে নানা ঔষধি উদ্ভিদ লোকজ চিকিৎসার অংশ হয়ে আছে। কবিরাজের হাতে বাটা পাতা, দাদির দেওয়া পাঁচন, মায়ের রান্নাঘরের মশলা; লোকচিকিৎসার এই ধারা বয়ে এসেছে মুখে মুখে, প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে, কোনো লিখিত দলিল ছাড়াই। ঐতিহ্যের এই মৌখিক জ্ঞানভাণ্ডার আর আধুনিক বিজ্ঞানের মাঝে যে সেতুটি নির্মিত হওয়া প্রয়োজন ছিল বহুদিন ধরে, বাংলাদেশে প্রথমবারের মতো সেই সেতু নির্মাণের কাজ শুরু হলো একটি পূর্ণাঙ্গ ও বিজ্ঞানসম্মত উপাত্তভাণ্ডার "বিএমপিপিডি" এর হাত ধরে। আমি অত্যন্ত আনন্দিত এই বৃহৎ প্রজেক্টের অংশ হতে পেরে।"
ডন অব বায়োইনফরম্যাটিক্স-এর প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা এস কে ফয়সাল আহমেদ বলেন, "প্রকৃতি শুরু থেকেই যে ভাষায় কথা বলে এসেছে, বায়োইনফরম্যাটিক্স তারই আধুনিক বৈজ্ঞানিক রূপ। বিএমপিপিডি-র প্রতিটি যৌগের মধ্যে লুকিয়ে থাকতে পারে সম্ভাব্য জীবনরক্ষাকারী ওষুধের সূত্র। দক্ষিণ এশিয়ার ঔষধি ঐতিহ্যকে বায়োইনফরম্যাটিক্সের মাধ্যমে বিশ্বমঞ্চে তুলে ধরার এখনই সময়। এই যাত্রায় বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের সক্রিয় অংশগ্রহণ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।"
উল্লেখ্য, বাংলাদেশ মেডিসিনাল প্ল্যান্টস অ্যান্ড ফাইটোকেমিক্যালস ডাটাবেস (বিএমপিপিডি) ডন অব বায়োইনফরম্যাটিক্স লিমিটেডের গবেষণা বিভাগ ডন আই ল্যাবের তৈরি একটি ওপেন-অ্যাক্সেস গবেষণা ডাটাবেস। এতে ৭০০টির বেশি ঔষধি উদ্ভিদের তথ্য, প্রায় ১ লাখ ১৩ হাজার ৪০০ ফাইটোকেমিক্যাল এন্ট্রি এবং প্রায় ৬৩ হাজার ৯০০টি ইউনিক রাসায়নিক যৌগের তথ্য সংরক্ষিত রয়েছে। গবেষক, শিক্ষার্থী এবং ওষুধ আবিষ্কার-সংশ্লিষ্ট গবেষণায় এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ তথ্যভান্ডার হিসেবে ব্যবহারের লক্ষ্য নিয়ে ডাটাবেজটি তৈরি করা হয়েছে।
© Deshchitro 2024