লক্ষ্মীপুরের রায়পুর উপজেলাকে একটি আধুনিক, পরিকল্পিত ও
টেকসই মডেলে রূপান্তরের লক্ষ্যে উন্নয়ন মহাপরিকল্পনা প্রণয়নের
উদ্যোগ নিয়েছে উপজেলা প্রশাসন। এ উপলক্ষে সম্প্রতি
উপজেলা অডিটোরিয়ামে
সর্বস্তরের জনগণের মতামত ও প্রস্তাবনা গ্রহণের জন্য
এক ব্যতিক্রমী মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সভায়
উপজেলার অবকাঠামো, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কৃষি ও শিল্পসহ
বিভিন্ন খাতের আমূল পরিবর্তনের
লক্ষ্যে একগুচ্ছ গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাব তুলে ধরেন বিভিন্ন শ্রেণিপেশার প্রতিনিধিরা।


উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মেহেদী হাসান কাউছারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এ সভায় উপজেলা প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, রাজনৈতিক দল, সাংবাদিক, ব্যবসায়ী, শিক্ষক, ধর্মীয় নেতা, পরিবহন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি এবং বিভিন্ন সামাজিক ও পেশাজীবী সংগঠনের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।





















কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডের শীর্ষ তিনে অবস্থানকারী ঐতিহ্যবাহী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান প্রিন্সিপাল কাজী ফারুকী স্কুল অ্যান্ড কলেজের প্রভাষক আখতার হোসাইন খান বলেন, "রায়পুর উপজেলার উন্নয়নকে ত্বরান্বিত করতে হলে আমাদের সবাইকে দল-মত নির্বিশেষে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। শুধু সরকারি উদ্যোগের দিকে তাকিয়ে থাকলে চলবে না; এই উপজেলার যারা ঢাকা কিংবা প্রবাসে সফল অবস্থানে রয়েছেন, তাদের এগিয়ে আসতে হবে। রায়পুরে নতুন নতুন উদ্যোক্তা সৃষ্টি করতে হবে, মানসম্মত শিল্পপ্রতিষ্ঠান গড়তে হবে এবং ব্যাপক শিল্প-কারখানা স্থাপন করতে হবে। তবেই আমাদের এলাকার অর্থনৈতিক চিত্র বদলে যাবে।"

মতবিনিময় সভায় অন্য বক্তারা রায়পুরের উন্নয়নে বেশ কিছু জনগুরুত্বপূর্ণ ও মেগা প্রস্তাবনা তুলে ধরেন। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো— উপজেলার ভাঙাচোরা সড়কগুলোর দ্রুত সংস্কার, স্থায়ী জলাবদ্ধতা নিরসন, চরাঞ্চলের অর্থনীতিকে চাঙ্গা করতে কোল্ড স্টোরেজ (হিমাগার) নির্মাণ, নারিকেল ও সুপারি প্রক্রিয়াজাতকরণ শিল্প এবং সয়াবিনভিত্তিক শিল্প কারখানা স্থাপন। এছাড়া মেঘনা নদীর ভাঙন রোধে স্থায়ী বাঁধ নির্মাণ, রায়পুর মৎস্য হ্যাচারির আধুনিকায়ন, ডাকাতিয়া নদীতে দৃষ্টিনন্দন লেক নির্মাণ, পরিকল্পিত হকার মার্কেট ও আধুনিক বাস টার্মিনাল নির্মাণের দাবি জানানো হয়।
শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতের উন্নয়নে বক্তারা রায়পুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সকে ১০১ শয্যায় উন্নীতকরণ, আধুনিক কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান স্থাপন এবং তরুণদের বেকারত্ব দূরীকরণে কর্মমুখী কারিগরি প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা গ্রহণের প্রস্তাব দেন। পাশাপাশি নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করা, মাদকবিরোধী অভিযান জোরদার করা এবং প্রস্তাবিত রেললাইনটি রায়পুর উপজেলার মধ্য দিয়ে বাস্তবায়ন করার জোরালো দাবি ওঠে।
সভাপতির বক্তব্যে ইউএনও মেহেদী হাসান কাউছার বলেন, "রায়পুরের সুধী সমাজ ও সর্বস্তরের প্রতিনিধিরা অত্যন্ত চমৎকার এবং বাস্তবমুখী কিছু প্রস্তাব দিয়েছেন। সভায় উত্থাপিত প্রতিটি প্রস্তাবকে সর্বোচ্চ গুরুত্বের সাথে পর্যালোচনা করে উপজেলা উন্নয়ন মহাপরিকল্পনায় অন্তর্ভুক্ত করা হবে। এই মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের লক্ষ্যে স্থানীয় সংসদ সদস্যের সাথে আলোচনা করে দ্রুত সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলোতে প্রস্তাবনা পাঠানো হবে।"
রায়পুরকে একটি আধুনিক ও স্বনির্ভর উপজেলা হিসেবে গড়ে তুলতে এই মহাপরিকল্পনা দ্রুত বাস্তবায়নের তাগিদ দিয়েছেন স্থানীয় সচেতন মহল।
প্রকাশক : কাজী জসিম উদ্দিন   |   সম্পাদক : ওয়াহিদুজ্জামান

© Deshchitro 2024