কলেজ শিক্ষিকা দীপা রানী দাস(৫১) এর অস্বাভাবিক মৃত্যুর ঘটনায় সুষ্ঠ বিচার ও দোষীদের শাস্তির দাবিতে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল করেছে সহকর্মী ও শিক্ষার্থীরা। সঠিক বিচারের দাবিতে ফুসে উঠেছে শিক্ষক সমাজ। সোমবার গলাচিপা উপজেলার উলানিয়া হাট মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও কলেজের সামনের সড়কে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় প্রতিষ্ঠানের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি মকবুল খা, প্রতিষ্ঠান প্রধান মাহফুজুর রহমান, সহকারী অধ্যাপক মোঃ এমদাদ হোসেন, গৌরাঙ্গ হালদার, গুয়াবাড়িয়া এবি বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোহাম্মদ মোশাররফ হোসাইন, তাফালবাড়িয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোঃ মজিবর হোসেন, দীপা রানী দাসের বোন রাস মনি দাস, ভাগনি জামাই প্রণব মজুমদার সহ হাজার খানেক শিক্ষার্থী ও স্থানীরা উপস্থিতহ ছিলেন। দীপা রানি দাস ওই প্রতিষ্ঠানের কাব্যতীর্থ বিষয়ের শিক্ষক ছিলেন। জানা গেছে, গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়ার হিজল বাড়ি গ্রামের জোগেষ চন্দ্র দাসের মেয়ে দীপা দাসের সাথে দশমিনা উপজেলার রনগোপালদী ইউনিয়নের মধ্য রনগোপালদী গ্রামে শুভ্র সূচি দাসের সাথে বিয়ে হয়। ৯জুলাই রাতে স্বামীর বাড়ি থেকে শিক্ষিকার ফ্যানের সাথে গলায় ফাঁস লাগানো ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করে থানা পুলিশ। উলানিয়া হাট মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও কলেজের সহকারী অধ্যাপক মোঃ এমদাদ হোসেন বলেন, দীপা ম্যাডামের মতো নিষ্ঠাবান একজন শিক্ষক আমাদের মধ্যে থেকে হারিয়ে যেতে পারে না। আমি একান্ত ভাবে বিশ^াস করি দীপা ম্যাডাম আত্মহত্যা করতে পারে না। এই প্রতিষ্ঠানে দীপা ম্যাডাম যোগদানের পরে কয়েকবার স্বামী সহ শ^শুড় বাড়ির লোকজন তাকে নির্মম নির্যাতন করত। আমাদের প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে দুই থেকে তিন বার তার শ^শুড়বাড়ি গিয়ে সমঝোতার চেষ্টা করেছিলাম। কিন্তু তার নির্যাতন করবে বলে প্রতিশ্রুতি দিলেও তারা কথা রাখেনি। দীপা ম্যাডামকে এর আগেও কয়েকবার হত্যা চেষ্টা করেছিল। তখন পুলিশ এসে তাকে উদ্ধার করে। এসময় লাশ উদ্ধারের দিন পুলিশের কর্মকান্ড নিয়েও তিনি প্রশ্ন তোলেন এবং অস্বাভাবিক মৃত্যুর ঘটনায় সঠিক তদন্ত করে দোষীদের কঠিন বিচারের দাবি তুলেন।
প্রকাশক : কাজী জসিম উদ্দিন   |   সম্পাদক : ওয়াহিদুজ্জামান

© Deshchitro 2024