নোয়াখালীর বিচ্ছিন্ন দ্বীপ উপজেলা হাতিয়ায় টানা কয়েকদিনের ভারী বর্ষণ ও জোয়ারের পানিতে পানিবন্দী হয়ে পড়া অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে উপজেলা ছাত্রদল। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের মাঝে শুকনো খাবার বিতরণ করেছেন সংগঠনটির নেতাকর্মীরা।
রবিবার (১২ জুলাই) দিনব্যাপী উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় পানিবন্দী মানুষের মাঝে শুকনো খাবার বিতরণ করা হয়। কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মাহবুবুর রহমান শামীমের পরামর্শে গত তিনদিন ধরে এ মানবিক সহায়তা কার্যক্রম পরিচালিত হয়।
ছাত্রদল সূত্রে জানা যায়, গত কয়েকদিনের টানা বর্ষণ, জোয়ারের পানি ও জলাবদ্ধতায় হাতিয়া উপজেলার ১১টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভার বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়েছে। এতে হাজার হাজার মানুষ পানিবন্দী হয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন। এরই অংশ হিসেবে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত তমরদ্দি ইউনিয়নের বলিরপোল এবং চরকিং ইউনিয়নের চর বগুলা, সোনাদিয়া ইউনিয়নের মাইজচরা-চরচেঙ্গা এলাকায় প্রায় এক হাজার পরিবারের মাঝে বিস্কুট, চিড়া, মুড়ি, টোস্ট ও অন্যান্য শুকনো খাবার বিতরণ করা হয়।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক রিয়াজ মাহমুদ, সদস্য সচিব আবদুল হালিম, সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক আইয়ুব চৌধুরী, পৌর ছাত্রদলের আহ্বায়ক শরীফুল ইসলাম দুখু, হাতিয়া দ্বীপ সরকারি কলেজ ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক মাকসুদুর রহমানসহ উপজেলা ও ইউনিয়ন ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা।
উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক রিয়াজ মাহমুদ বলেন, "দুর্যোগের এই সময়ে অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানো আমাদের নৈতিক দায়িত্ব। কেন্দ্রীয় ছত
ছাত্রদলের নির্দেশনায় এবং বিএনপির কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মাহবুবুর রহমান শামীমের পরামর্শে আমরা ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের কাছে শুকনো খাবার পৌঁছে দিচ্ছি। অনেক পরিবার ঘর থেকে বের হতে পারছে না, রান্নাও করতে পারছে না। তাই জরুরি খাদ্য সহায়তা পৌঁছে দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত আমাদের এই মানবিক কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।"
খাদ্য সহায়তা পাওয়া উপকারভোগীরা বলেন, "কয়েকদিন ধরে বাড়ির চারপাশে পানি জমে থাকায় স্বাভাবিকভাবে জীবনযাপন করা কঠিন হয়ে পড়েছে। অনেকের ঘরে রান্না করার সুযোগ নেই। এমন সময়ে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে শুকনো খাবার পৌঁছে দেওয়ায় আমরা উপকৃত হয়েছি। দুর্যোগের সময় মানুষের পাশে দাঁড়ানো নিঃসন্দেহে প্রশংসনীয় উদ্যোগ।"
স্থানীয়রা জানান, টানা বৃষ্টি ও জোয়ারের পানিতে হাতিয়ার বিভিন্ন ইউনিয়নে এখনো জলাবদ্ধতা বিরাজ করছে। অনেক নিম্নাঞ্চলের মানুষ পানিবন্দী অবস্থায় রয়েছেন। সরকারি সহায়তার পাশাপাশি বিভিন্ন সামাজিক, রাজনৈতিক ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়ানোয় কিছুটা স্বস্তি ফিরেছে দুর্গত পরিবারগুলোর মাঝে।