|
Date: 2026-07-12 17:47:31 |
কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচরে আজ ১২ জুলাই রবিবার যথাযোগ্য মর্যাদায় বিশ্ব জনসংখ্যা দিবস-২০২৬ পালিত হয়েছে। তারুণ্যের আশা-আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়ন করি, আজকের প্রত্যয়ে সুন্দর আগামী গড়ি—এই প্রতিপাদ্যকে কেন্দ্র করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের হলরুমে আয়োজিত আলোচনা সভায় স্থানীয় জনপ্রতিনিধি এবং স্বাস্থ্য বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা অংশ নেন।
পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের আইইএম ইউনিটের সহায়তায় এবং উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কার্যালয়ের বাস্তবায়নে অনুষ্ঠিত এই দিবসের মূল লক্ষ্য ছিলো ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যার চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় তারুণ্যের শক্তিকে কাজে লাগানো এবং মা ও শিশু স্বাস্থ্য সুরক্ষায় সচেতনতা তৈরি করা।
বেলা সাড়ে ১১টায় শুরু হওয়া উক্ত অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা মিছবাহ উদ্দিন আহাম্মদ এবং প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আদনান আখতার। অনুষ্ঠানের প্রতিটি পর্যায়ে স্থানীয় পর্যায়ের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিতকরণে সরকারি নির্দেশনা ও ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়।
আলোচনা সভায় বক্তারা পরিবার পরিকল্পনা সেবার গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন, তৃণমূল পর্যায়ে মা ও শিশু স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিত করতে মাঠ পর্যায়ের কর্মীদের ভূমিকা অপরিসীম। তবে মাঠ পর্যায়ে কাজ করতে গিয়ে পরিবার কল্যাণ সহকারী ও পরিদর্শিকারা যে সীমাবদ্ধতার সম্মুখীন হন, তা নিরসনে প্রশাসনিক নজরদারি প্রয়োজন। বিশেষ করে দুর্গম এলাকায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিতে কর্মীদের যাতায়াত ব্যবস্থা ও প্রয়োজনীয় সরঞ্জামের অভাব নিয়ে সভায় আলোচনা করা হয়। কয়েকজন ভুক্তভোগী কর্মী জানান, প্রতিকূল পরিস্থিতিতেও তারা নিয়মিত সেবা প্রদান করে যাচ্ছেন, তবে কাজের যথাযথ মূল্যায়ন ও মাঠ পর্যায়ে তদারকি আরও জোরদার করা হলে সেবার মান বহুগুণ বৃদ্ধি পাবে। সেবা প্রদানকারীদের এই সরাসরি বক্তব্য ও বাস্তব পরিস্থিতির বিশ্লেষণ থেকে স্পষ্ট হয় যে, দক্ষ জনশক্তি গড়ে তোলার পাশাপাশি তাদের কাজের পরিবেশ উন্নত করা এখন সময়ের দাবি।
অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণকারী অতিথিদের মধ্যে উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আল মামুন, কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা সাদিয়া আফরিন ও স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যানগণ তাদের বক্তব্যে সরকারি সেবার সুফল প্রান্তিক মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
সরকারি কর্মকর্তাদের পক্ষ থেকে জানানো হয়, পরিবার পরিকল্পনা কার্যক্রমকে আরও বেগবান করতে নিয়মিত মনিটরিং ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা হচ্ছে। আলোচনার পাশাপাশি মা ও শিশু স্বাস্থ্য, কিশোর স্বাস্থ্য এবং পরিবার পরিকল্পনা সেবায় বিশেষ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ দোলেনা আক্তার, মো. মুহসিন খাঁন ও আফরোজা খানমকে সম্মাননা ক্রেস্ট প্রদান করা হয়। এছাড়া প্রাতিষ্ঠানিক উৎকর্ষের বিচারে রামদী ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্র এবং কুলিয়ারচর সদর (পৌর) কেন্দ্রকে শ্রেষ্ঠত্বের সনদ প্রদান করা হয়, যা মাঠ পর্যায়ের কর্মীদের কাজের গতি বৃদ্ধিতে একটি ইতিবাচক পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
© Deshchitro 2024