|
Date: 2026-07-11 09:24:35 |
মৃত্যুর পর নিজ দলের নেতারা যেন জানাজা নামাজে অংশ না নেন; এমন আহ্বান জানিয়ে বিএনপির পদবঞ্চিত এক নেতা ফেসবুকে আবেগঘন লেখা পোষ্ট করেছেন। ফেসবুকে পোষ্টকারী বিএনপির সাবেক ওই নেতার নাম আব্দুল্লাহ আল সাফি ওরফে লিপন। তিনি জামালপুরের বকশীগঞ্জ পৌর শহরের পাখিমারা এলাকার বাসিন্দা এবং পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) ও বিএনপির উপদেষ্টা মণ্ডলির সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা আবদুল কাইয়ুমের চাচাতো ভাই। লিপন বর্তমানে শারীরিকভাবে অসুস্থ।
শুক্রবার (১০ জুলাই) দুপুরে নিজ ফেসবুক আইডি থেকে একটি আবেগঘন লেখা পোষ্ট করেন আব্দুল্লাহ আল সাফি লিপন। ওই পোষ্টের লেখায় মৃত্যুর পর 'জানাজায়' সদলীয় নেতাদের অংশ না নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি। মূহুর্তে মধ্যে বিভিন্ন ফেসবুক আইডিতে ছড়িয়ে পড়ে পোষ্টটি। এনিয়ে স্থানীয় রাজনীতি অঙ্গণে নানা প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে।
আব্দুল্লাহ আল সাফি লিপন 'কিছু কথা' শিরোনামে ফেসবুক পোষ্টের প্রথমাংশে লিখেছেন, 'আমি বকসীগঞ্জ উপজেলা ছাত্রদলের সিনিয়র সহসভাপতি, কেইউ কলেজ ছাত্র সংসদের নির্বাচিত জিএস, যুবদলের সাধারণ সম্পাদক, পৌর বিএনপির সদস্য সচিব, জামালপুর জেলা বিএনপির সদস্য হিসাবে কাজ করেছি।'
এরপর লিপন লিখেছেন, '১৮টা মামলার আসামি। নির্যাতিত হওয়ার পরেও দলে কোনো জায়গায় আমাকে রাখেনি। 'আমি সাবেক আইজিপি আবদুল কাইয়ুম সাহেবের ভাই হওয়ার কারণে আমাকে মূল্যায়ন করা হচ্ছে না। আমার চেয়ে জামালপুর জেলায় কোনো নেতা নির্যাতিত হয় নাই। বেশি মামলাও নাই।'
পোষ্টে শেষাংশে তিনি লিখেছেন, 'আমি অনেক অসুস্থ। আমার কিছু হলে বিএনপির কোনো নেতা আমার জানাজায় যেন না থাকেন। সবাই আমার জন্য দোয়া করবেন।'
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, আব্দুল্লাহ আল সাফি লিপন বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত। জামালপুর-১ (বকশীগঞ্জ-দেওয়ানগঞ্জ) আসন থেকে গত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির মনোনয়নে এমপি হন এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত। মনোনয়ন প্রত্যাশী ছিলেন লিপনের চাচাতো সাবেক আইজিপি ও বিএনপির উপদেষ্টা মণ্ডলির সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা আবদুল কাইয়ুম। লিপন তাঁর হয়ে কাজ করেন। ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী সরকারের আমলে একাধিকবার গ্রেপ্তার হয়ে লিপনকে কারাভোগ করতে হয়েছে। বকশীগঞ্জ উপজেলা ছাত্রদলের জেষ্ঠ্য সভাপতি, বকশীগঞ্জ সরকারি কিয়ামত উল্লাহ (কেইউ) কলেজ ছাত্র সংসদের জিএস, যুবদলের সাধারণ সম্পাদক, পৌর বিএনপির সদস্যসচিব এবং জেলা বিএনপির সদস্য পদে দায়িত্ব পালন করেছে লিপন। বর্তমানে দলীয় কোনো পদে তাঁকে রাখা হয়নি। অথচ রাজপথে আন্দোলন-সংগ্রাম করার দায়ে তিনি দেড় ডজন মামলার আসামি হয়েছেন। এত নির্যাতিত হওয়ার পরেও মূল্যায়ন না করাসহ দলীয় কোনো পদে না রাখার ক্ষোভ থেকে লিপন ফেসবুকে ওই লেখা পোষ্ট করেন।
বকশীগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সভাপতি মানিক সওদাগর বলেন, 'লিপনকে দলের কোনো পদে রাখা হয়েছে কি না, সেটা এই মূহুর্তে বলতে পারছি না। তিনি যে অসুস্থ কি না, সেটাও জানি না। তাঁর দেওয়া ফেসবুক পোষ্টের বিষয়টি লোকমারফতে শোনেছি। তবে ওই পোষ্টে কী লেখা হয়েছে, সেটা পড়া হয়নি। তবে তাঁর বিষয়ে খোঁজ-খবর নেওয়া হবে। তাঁর সুস্থতা কামনা করছি।'
© Deshchitro 2024