|
Date: 2026-07-08 21:00:30 |
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ও ডিপফেক প্রযুক্তির অপব্যবহার করে গুজব, অপতথ্য ও বিভ্রান্তি ছড়ানোর অপচেষ্টা মোকাবিলায় তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় বিভিন্ন কার্যক্রম বাস্তবায়ন করছে। একই সঙ্গে মন্ত্রণালয়ের অধীন প্রেস ইনস্টিটিউট বাংলাদেশ (পিআইবি) পরিচালিত ‘বাংলাফ্যাক্ট’ তথ্য যাচাই ও অপতথ্য প্রতিরোধে সক্রিয়ভাবে কাজ করছে বলে জানিয়েছেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন।
বুধবার (৮ জুলাই) জাতীয় সংসদের প্রশ্নোত্তর পর্বে সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য ফাহিমা নাসরিনের এক লিখিত প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী এসব কথা বলেন।
তিনি জানান, গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের নাম-পরিচয় ব্যবহার করে পরিচালিত ১৩৭টি ভুয়া ফেসবুক অ্যাকাউন্ট, পেজ ও গ্রুপ চিহ্নিত করা হয়েছে। এছাড়া সংবাদমাধ্যমের আদলে পরিচালিত ১৬টি অপতথ্যভিত্তিক ওয়েবসাইট, ৩০০টির বেশি বিভ্রান্তিকর ফেসবুক অ্যাকাউন্ট এবং ১০০টি এক্স (সাবেক টুইটার) অ্যাকাউন্টও শনাক্ত করা হয়েছে।
মন্ত্রী জানান, পিআইবির তত্ত্বাবধানে পরিচালিত ‘বাংলাফ্যাক্ট’ এ পর্যন্ত ৮৬০টি ফ্যাক্টচেক, বিশ্লেষণধর্মী ও অনুসন্ধানী প্রতিবেদন, ভিডিও এবং রিল প্রকাশ করেছে। এর মধ্যে বর্তমান সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর প্রকাশিত হয়েছে ৩০৬টি। বর্তমানে প্রতিদিন গড়ে তিন থেকে পাঁচটি দাবির সত্যতা যাচাই করে প্রতিবেদন প্রকাশ করা হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, সাংবাদিকদের দক্ষতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে ২০২৪ সালের ১ অক্টোবর থেকে ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত দেশের ৬৪ জেলায় ১৪১টি প্রশিক্ষণ কর্মশালার মাধ্যমে ৬ হাজার ৭৭৪ জন সাংবাদিককে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। বর্তমান সরকারের দায়িত্ব গ্রহণের পর ২০টি প্রশিক্ষণে অংশ নিয়েছেন ৭৩৯ জন সাংবাদিক। এসবের মধ্যে ডিজিটাল সাংবাদিকতা, এআই এবং ফ্যাক্টচেকিং বিষয়ে ১৪টি বিশেষ প্রশিক্ষণ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
মন্ত্রী জানান, প্রতিটি প্রশিক্ষণে গুজব মোকাবিলা, তথ্য যাচাই এবং সাংবাদিকতায় এআইয়ের দায়িত্বশীল ব্যবহার বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি গণমাধ্যমকর্মীদের জন্য শিগগিরই একটি ‘ফ্যাক্টচেক ম্যানুয়াল’ প্রকাশ করা হবে। তবে প্রশ্নে এআই ও ডিপফেক প্রযুক্তির ঝুঁকি মোকাবিলায় কোনো বিশেষ সেল বা দীর্ঘমেয়াদি মহাপরিকল্পনার বিষয়ে জানতে চাওয়া হলেও মন্ত্রী এ বিষয়ে কোনো তথ্য দেননি।
© Deshchitro 2024