গাজীপুরে নিরাপদ খাদ্য আইন, ২০১৩-এর আওতায় পরিচালিত মোবাইল কোর্টে বিভিন্ন অনিয়মের দায়ে একটি বেকারি কারখানাকে ২ লাখ টাকা অর্থদণ্ড করা হয়েছে। একই সঙ্গে সকল অনিয়ম সংশোধন না হওয়া পর্যন্ত প্রতিষ্ঠানটিকে খাদ্য উৎপাদন কার্যক্রম থেকে বিরত থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।


বুধবার (১ জুলাই) জেলা প্রশাসন, গাজীপুর এবং বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ, গাজীপুরের যৌথ উদ্যোগে গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের কাশিমপুরে অবস্থিত ইস্ট বেকার স্লাইস ব্রেড প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান ইস্ট জিবাই ইন্টারন্যাশনাল ফুড লিমিটেডে এ সমন্বিত মোবাইল কোর্ট পরিচালিত হয়।


অভিযানে নেতৃত্ব দেন জেলা প্রশাসনের সিনিয়র সহকারী কমিশনার ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট সাবরিনা আক্তার। সার্বিক সমন্বয়ের দায়িত্বে ছিলেন বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ, গাজীপুরের নিরাপদ খাদ্য কর্মকর্তা ফারজানা ইয়াসমিন সোনিয়া। এ সময় র‍্যাব-১-এর সদস্যবৃন্দ এবং জেলা আনসার ব্যাটালিয়নের একটি চৌকস দল উপস্থিত থেকে অভিযানে সহায়তা করে।


অভিযানকালে কারখানায় একাধিক অনিয়মের প্রমাণ পাওয়া যায়। এর মধ্যে ছিল খাদ্যপণ্যের লেবেলে কারখানার সঠিক তথ্য উল্লেখ না করা, খাদ্য উপাদান সম্পর্কে অসম্পূর্ণ ও বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রদান, বিএসটিআই লাইসেন্স ছাড়া পণ্য উৎপাদন, ৩০ দিনের মেয়াদ উল্লেখ থাকলেও তার পক্ষে কোনো সেলফ লাইফ স্টাডি বা পরীক্ষাগারের প্রমাণপত্র উপস্থাপন করতে না পারা, খাদ্যপণ্য খোলা অবস্থায় সংরক্ষণ ও কারখানার ভেতরে মাছির উপস্থিতি, নোংরা ড্রামে খাদ্য সংরক্ষণ, খাদ্য উৎপাদনে ব্যবহৃত সংযোজন দ্রব্যের সঠিক মাত্রার প্রমাণ এবং যথাযথ লেবেলিংয়ের অভাব, পাশাপাশি খাদ্যপণ্যের চালান যথাযথভাবে সংরক্ষণ না করা।


কর্তৃপক্ষ জানায়, এসব অনিয়ম জনস্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ এবং নিরাপদ খাদ্য আইন, ২০১৩-এর সুস্পষ্ট লঙ্ঘন।


এসব অপরাধের দায়ে নিরাপদ খাদ্য আইন, ২০১৩-এর ধারা ৩২(ক) অনুযায়ী প্রতিষ্ঠানটিকে ২ লাখ টাকা অর্থদণ্ড করা হয়, যা তাৎক্ষণিকভাবে আদায় করা হয়েছে। একই সঙ্গে সকল অনিয়ম সংশোধন না হওয়া পর্যন্ত খাদ্য উৎপাদন কার্যক্রম বন্ধ রাখার শর্তে প্রতিষ্ঠানটির কাছ থেকে একটি মুচলেকাও গ্রহণ করা হয়।

প্রকাশক : কাজী জসিম উদ্দিন   |   সম্পাদক : ওয়াহিদুজ্জামান

© Deshchitro 2024